||নিশ্চুপ নেতৃত্ব|| আবৃত্তির জন্য
– মল্লিকা রায়
আমাদের একপাশ এখন সংঘর্ষ ক্ষেত্র
অন্যপাশ মদমত্ত জাতীয় কমিটির একতা মঞ্চ
আমরা সমস্ত উৎসবে
দুই পাশকেই আলিঙ্গন করি কেউ সাদা টুপিতে
কেউ বিঁজয়ার সন্ধিক্ষণে, কেউ কোরাণ পড়ি
কেউ গীতা কেউ বাইবেল |
একদিন আমি দেখেছিলাম একজন পোপ সহজ ভাষায়
আমাদের কথা বলছে,আনোয়ারের বোনের
কথা বলছে,যে বোনটিকে উদ্ধার করেছিল
ইসলামি এক ভাই আটদিন পর পঁচে যাওয়া
পানা পুকুরের পাঁক থেকে
ধর্ষক গ্রাম প্রধানের এক্সট্রা পাইয়ে দেওয়ার নিভৃত
অঞ্চলের, অন্ধকার আলোতে মোদো বাপের
ট্যাকে গুঁজে দেওয়া কড়কড়ে নোটের বিনিময়ে।
আমারই গ্রামের।
একদিন এসেছিল
চাল ধার করতে ,অন্যদিন মায়ের ওষুধের পঞ্চাশটি টাকা
সঙ্গে ওর অন্ধ বাপ
চিৎকার করে বলেছিল বাবু গৃহ যোজনায়
আমার বদলে ওরা লিখেছে জমিদারের ভাইপোর নাম
মা মরা একটাই মেয়ে বাবু বড় অসহায়
হোগলা পাতার ঘর
সম্পূর্ণ

পিতামহ —

আমাকে আনত করো
বিভক্ত করো, ভগ্নংশ করো
ক্ষুদ্রাংশটুক ছড়িয়ে দাও
বৃহত্তর প্রাঙ্গণে !
আবারো নোয়ালাম — এই ব্যবধানে বর্ষিত হোক
ভেদাভেদ, আমাকে নামিয়ে দাও,জাগিয়ে দাও
জুড়ে দাও মহৎ আলোয় !
যখন প্রবল ধ্বসের সম্মুখীন আমি
তলিয়ে চলেছি অবক্ষয়ের গ্রাসে, একটিও তারা নেই
যখন নক্ষত্রের জাগতিক ভ্রম
চিরস্তব্ধ করে তুলছে সন্ধির আপাত সময়সম্পূর্ণ

হায় গণতন্ত্র !
– মল্লিকা রায়
ওই অস্ত্র
ওই মন্ত্র তুলে ধর বোনেরা
মণিপুরে ঘুমিয়ে যাওয়া
মায়েরা ক্লান্ত আজ……

ওই বাতাসের মন্ত্র দিলাম
ও দেশে
আগুণ ফলে,ছড়িয়ে পড়া উত্তাপ
পৌঁছে দেব
বোনেরা সম্পূর্ণ

ফাগুন বিকেল
——– প্রতাপ মণ্ডল

এইতো ফাল্গুনী সকাল, তোমার সাথে দেখা হবে কাল
কত উন্মাদনায় কেটেছে দিন, বুনেছি কত কল্পনাজাল!
শীতের বিকেল পেরিয়ে আর একবার দিতে চাই উঁকি
এবার হয়তো বসন্ত আমাকে দেবে না আর ফাঁকি…!
মুষড়ে পড়িনি জানো! এখনো রেখেছি ধরে নৌকার হাল।

অনেক সয়েছি ঝড়-ঝঞ্ঝা, শত তুফানেও পড়িনি ভেঙে
বসন্ত আসে প্রতিবার, সব বসন্তে কি আর মন রাঙে..!
বর্ষা আসে, শরৎ আসে, আসে কতবার কালবৈশাখী
আমি আনমনে কবিতায়…..কত বসন্তের কথা লিখি!
তবু রাঙাতে পারিনি মন, জোয়ার আসেনি মরা গাঙে।

কত পলাশ ঝরে পড়ে যায় রোজ, কত কৃষ্ণচূড়া ফোটে
এ মনে লাগেনি রঙ, ফাগুনের দিনগুলো একলাই কাটে,
শুধু একবার, শেষবার ফাগুনের রঙে মনটা চাই রাঙাতে
যদি হয় হোক, হোকনা কিছুক্ষণ, চাইছি একটু রঙিন হতে
তুমি আসবে তো কাল! দেখো, বসন্ত এসেছে পথে ঘাটে।

একটা ফাগুন বিকেল, একটা পলাশ নাহয় তোমার চুলে!
ক্ষতি কি! গোধূলির অস্তরাগে দু’টো মন এক হয়ে গেলে..!
এ ফাগুন ক্ষণিক, আমি জানি তুমিও ফিরবে ঘরে ঠিক…
তবু পাশাপাশি কিছুক্ষণ, তারপর হোকনা সময়ের সমাধি।
রেখো না মনে একটা বিকেল, কোনো বাহানায় যেও ভুলে।

একটা ফাগুন বিকেল, একটা পলাশ নাহয় তোমার চুলে!সম্পূর্ণ

তোমার প্রতিটি চুম্বনে আমি উষ্ণতা খুঁজেছি,
কিন্তু কুয়াশা মাখা ঘিরি পথের শীতলতা তোমায় বুঝতে দেয়নি।
আমি তোমার চোখে পৃথিবী দেখেছি,
তবে এই বিস্ময়কর পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য তুমি উপলব্ধি করতে পারনি।সম্পূর্ণ

কীর্তিমান
মুহাম্মদ শাফায়াত হুসাইন

নশ্বর জগতে সবি অলিক ভেব না
ভবে শ্রেষ্ঠ কীর্তি করে অমরত্ব দান
বৃথা জন্ম,যদি নাহি হও কীর্তিমান
তোমার হতে অবনী করে যে বাসনা।

সবে করো কীর্তি দান,যশের কামনা
জীবের তরে সু কার্যে, শত্রু দেবে মান
সেবা করো সৃষ্টি কর্মে শঁপে দিয়ে জান
দৈন্যে দানে খ্যাতি আশা, সর্বদা করো না।

যশহীন মৃত্যু তুল্য,কীর্তিমান ধন্য
ধরা ধামে ও স্বর্গে সে লভে শান্তি পূণ্য
অন্যথায় পাবে শাস্তি কুকর্মের জন্য ।

হেলায় কার্য নষ্ট না করে কিনো পণ্য
সৃষ্টির সেবায় কর্ম দিয়ে হও মান্য
তবেই যশস্বী হবে,ধরা মাঝে গণ্য। সম্পূর্ণ