গরীব

খ্যাঁক খ্যাঁক হাসে, মারপিট ঝগড়ায় মাতে
গাল পারে, কালশিটে মুখ গোগ্রাসে গেলে
যে যা দেয়, যখন তখন, ফিক ফিক হাসে
চিৎকার করে এলেবেলে বেফাঁস কথারা
গুছিয়ে চলে না, সশব্দে খায় মোতে, হাগে
চোখে দাঁতে ছোপ বেপরোয়া উদ্ভট সাজ
দুটি বই সাতখানা জামা নেই মসলিন প্যান্ট
শখের চুরুট নেই ব্র্যান্ড সিগারের রিং উড়াণ
ঢক ঢক ঢোক গেলে রেকাব পানীয়ে উগ্র
কি বিকট আঁওয়াজ ! দশ গ্রাস কি বিশাল
হা ‘ এর গহ্বর, গপ গপ খায় মাথা মুখ
ঝুঁকে থাকে পিরামিড থালে, আজন্ম
খায়নি কিছুই যেন,চামচে কাটার দৈন্য
তিন মন ভূঁড়ি ইস্ দশ টন ট্যাঙ্কিও জানে,

সম্পূর্ণ

ফিরে চলে গেছি , পেছন ফিরলে আর
ছায়াটিরও দেখা পাবে না কোথাও,একটু একটু করে
গুটিয়ে নিয়েছি নিজেকে,
কাব্যে,কবিতায়,কাহিনীর প্রত্যঙ্গে
অনেক অনেক অবহেলা ক্রমে পরিণত করেছে আমায়
মিশে গেছি তৃতীয়ার অতসী গভীরে
কাঁচের স্বর্গে তাই রেখেছি ঠিকানা
খুঁজোনা বেনী দোলা কবেকার সেই ছদ্মবেশ
সেও তার সূচিপত্র নিয়ে ফিরেছে গুটিয়ে
পাথরটি গড়িয়ে আঁধার বুঝি মিশেছে সাগরে , প্রতিরোজ
জন্ম হত জৈবিক উদ্যান তুমি তার জলতরঙ্গ ছিলে
শব্দ তার বৃত্তের বাহার নানান ছলকে
তরঙ্গ চ্ছলে মুখে গালে ছোঁয়াত উচ্ছাস ,সেসবও ভুলেছি
কত রাত ভোর হয়ে গেছে ক্ষয়ে ক্ষয়ে
হতাশ রাত্রিরা, টুপ টাপ শব্দে শুধু নীরব পতন।
সেই শব্দ শুনি আমি নিরেট প্রাণের
নিথর পাখীর মত নিষাদের ব্যার্থ অহংকার !
ও কি সম্পত্তি চেয়েছিল ?
অর্থ কি পেরেছে কেড়ে নিতে , একটুক প্রেম শুধু
ন্যুনতম ভাষা ছোট্ট হৃদয়ে নিরিবিলি খুব
চেয়েছিল জানাতে শুধুই,সঙ্গী ছিল না তাই সহসা একাই
আর্তনাদে চৌচির হৃদয়, পাখীটা বোঝে নি
কি মারাত্নক লোকাচার পাষন্ড ঘাতক, মৃত্যু তাকে
ডেকে নিয়ে গেল,
শার্শিতে ঝরবেনা জল

সম্পূর্ণ

||নিশ্চুপ নেতৃত্ব|| আবৃত্তির জন্য
– মল্লিকা রায়
আমাদের একপাশ এখন সংঘর্ষ ক্ষেত্র
অন্যপাশ মদমত্ত জাতীয় কমিটির একতা মঞ্চ
আমরা সমস্ত উৎসবে
দুই পাশকেই আলিঙ্গন করি কেউ সাদা টুপিতে
কেউ বিঁজয়ার সন্ধিক্ষণে, কেউ কোরাণ পড়ি
কেউ গীতা কেউ বাইবেল |
একদিন আমি দেখেছিলাম একজন পোপ সহজ ভাষায়
আমাদের কথা বলছে,আনোয়ারের বোনের
কথা বলছে,যে বোনটিকে উদ্ধার করেছিল
ইসলামি এক ভাই আটদিন পর পঁচে যাওয়া
পানা পুকুরের পাঁক থেকে
ধর্ষক গ্রাম প্রধানের এক্সট্রা পাইয়ে দেওয়ার নিভৃত
অঞ্চলের, অন্ধকার আলোতে মোদো বাপের
ট্যাকে গুঁজে দেওয়া কড়কড়ে নোটের বিনিময়ে।
আমারই গ্রামের।
একদিন এসেছিল
চাল ধার করতে ,অন্যদিন মায়ের ওষুধের পঞ্চাশটি টাকা
সঙ্গে ওর অন্ধ বাপ
চিৎকার করে বলেছিল বাবু গৃহ যোজনায়
আমার বদলে ওরা লিখেছে জমিদারের ভাইপোর নাম
মা মরা একটাই মেয়ে বাবু বড় অসহায়
হোগলা পাতার ঘর
সম্পূর্ণ

পিতামহ —

আমাকে আনত করো
বিভক্ত করো, ভগ্নংশ করো
ক্ষুদ্রাংশটুক ছড়িয়ে দাও
বৃহত্তর প্রাঙ্গণে !
আবারো নোয়ালাম — এই ব্যবধানে বর্ষিত হোক
ভেদাভেদ, আমাকে নামিয়ে দাও,জাগিয়ে দাও
জুড়ে দাও মহৎ আলোয় !
যখন প্রবল ধ্বসের সম্মুখীন আমি
তলিয়ে চলেছি অবক্ষয়ের গ্রাসে, একটিও তারা নেই
যখন নক্ষত্রের জাগতিক ভ্রম
চিরস্তব্ধ করে তুলছে সন্ধির আপাত সময়সম্পূর্ণ

হায় গণতন্ত্র !
– মল্লিকা রায়
ওই অস্ত্র
ওই মন্ত্র তুলে ধর বোনেরা
মণিপুরে ঘুমিয়ে যাওয়া
মায়েরা ক্লান্ত আজ……

ওই বাতাসের মন্ত্র দিলাম
ও দেশে
আগুণ ফলে,ছড়িয়ে পড়া উত্তাপ
পৌঁছে দেব
বোনেরা সম্পূর্ণ

ফাগুন বিকেল
——– প্রতাপ মণ্ডল

এইতো ফাল্গুনী সকাল, তোমার সাথে দেখা হবে কাল
কত উন্মাদনায় কেটেছে দিন, বুনেছি কত কল্পনাজাল!
শীতের বিকেল পেরিয়ে আর একবার দিতে চাই উঁকি
এবার হয়তো বসন্ত আমাকে দেবে না আর ফাঁকি…!
মুষড়ে পড়িনি জানো! এখনো রেখেছি ধরে নৌকার হাল।

অনেক সয়েছি ঝড়-ঝঞ্ঝা, শত তুফানেও পড়িনি ভেঙে
বসন্ত আসে প্রতিবার, সব বসন্তে কি আর মন রাঙে..!
বর্ষা আসে, শরৎ আসে, আসে কতবার কালবৈশাখী
আমি আনমনে কবিতায়…..কত বসন্তের কথা লিখি!
তবু রাঙাতে পারিনি মন, জোয়ার আসেনি মরা গাঙে।

কত পলাশ ঝরে পড়ে যায় রোজ, কত কৃষ্ণচূড়া ফোটে
এ মনে লাগেনি রঙ, ফাগুনের দিনগুলো একলাই কাটে,
শুধু একবার, শেষবার ফাগুনের রঙে মনটা চাই রাঙাতে
যদি হয় হোক, হোকনা কিছুক্ষণ, চাইছি একটু রঙিন হতে
তুমি আসবে তো কাল! দেখো, বসন্ত এসেছে পথে ঘাটে।

একটা ফাগুন বিকেল, একটা পলাশ নাহয় তোমার চুলে!
ক্ষতি কি! গোধূলির অস্তরাগে দু’টো মন এক হয়ে গেলে..!
এ ফাগুন ক্ষণিক, আমি জানি তুমিও ফিরবে ঘরে ঠিক…
তবু পাশাপাশি কিছুক্ষণ, তারপর হোকনা সময়ের সমাধি।
রেখো না মনে একটা বিকেল, কোনো বাহানায় যেও ভুলে।

একটা ফাগুন বিকেল, একটা পলাশ নাহয় তোমার চুলে!সম্পূর্ণ