| কবিতা | ৩রা নভেম্বর |
| কবি | প্রসূন গোস্বামী |
| কবিতার বিষয় | অন্যান্য |
পঁচাত্তরের রাতের ঘামে ভেজা এই মানচিত্রে আজ আর কোনো ঋতু নেই,
শুধু ডাণ্ডাবেড়ির শব্দে ভারী হয়ে থাকে হেমন্তের বাতাস।
১৯৭৫-এর এই কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে—
যেখানে বুলেটের চেয়েও দ্রুত গতিতে ছুটেছিল বিশ্বাসঘাতকতার ছুরি,
কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে একে একে নিভে গিয়েছিল চারটি প্রদীপ্ত শিখা।
সৈয়দ নজরুল, তাজউদ্দীন, মনসুর আলী আর কামরুজ্জামান—
তাঁদের রক্তে স্নান করে তবে কি এই অসংলগ্ন জনপদ?
আজ বড়ো বেশি মনে পড়ে সেইসব মানুষের কথা,
যাঁরা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি স্বাধীন, সচ্ছল ও ধর্মনিরপেক্ষ জমিনের;
অথচ স্বাধীনতার স্বর্ণালী দরজা পেরিয়ে আমরা প্রবেশ করেছি এক অপপাকিস্তানের অন্দরে।
এখানে প্রতিদিন ক্ষমতার পালাবদল হয়,
এখানে সংবিধানের মৃতদেহের ওপর নাচে বিজয়ী উল্লাস।
অথচ ৩রা নভেম্বর কোনো সাধারণ ক্যালেন্ডারের পাতা নয়—
এটি আমাদের মেধা ও ইতিহাসের এক অপূরণীয় বিয়োগান্ত অধ্যায়।
যেখানে কারাগারের শিকের আড়ালে হত্যা করা হয়েছিল মস্তিষ্কের আলো,
আর তারপর থেকেই এই ভূমির প্রতিটি ধূলিকণা যেন বহন করে চলেছে এক অপরাধবোধ।
আজ আর কোনো সান্ত্বনার বাণী নেই,
নেই কোনো ভুয়া আশ্বাসের স্তোত্র।
শুধু ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বিষণ্ণ প্রান্তরে
এক দীর্ঘশ্বাস হয়ে বেজে চলেছে—
আমরা কি সত্যিই এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?