| কবিতা | পার্বন |
| কবি | আজিজুল হক |
| সময় | ৩০/১০/২৬ |
| লিখার স্থান | বোলপুর, বীরভূম |
| কবিতার বিষয় | জীবনমুখী, প্রতিবাদ, প্রেম |
রোজ রাতে আমায় বর্ষা ঋতু জড়িয়ে ধরে
এক রত্তি ভালোবাসায়,
নায়েব মাঝি তখন নৌকোয় হাক দেয়,
জীবনের পারে কে যাবি…
আমার তখন শীতকাল।
প্রচণ্ড শীতে আমি তোমার বুকে হাত রেখে ওম নিই।
তোমার বুকের উষ্ণ পাহাড়ে তখন
আগ্নেয়গিরির লাভা নির্গত হচ্ছিল।
আমি তখন জোয়ার-ভাটার হিসেব কষছি,
তুমি ভোটের অংকে কষছো হিন্দু-মুসলমান।
আমি মানুষের ভেতর মানুষ খুঁজি,
তুমি মানুষের গায়ে সংখ্যা লিখে দাও।
আমার ডান পাশে সুগ্রীব,
বামে হো চি মিন।
আমি লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর হিসেব খুঁজছি,
তুমি তখন আবারও ইতিহাসকে
জয়ীর জবানবন্দি বানিয়ে ফেলছো।
আমার সামনে তখন উলঙ্গ রাত।
তুমি পাশে শুয়ে গুনছো সময়।
আমার তেজ কত ?
আমি একটি জরায়ু নিয়ে
প্রতিদিন সভ্যতা জন্ম দিই।
আর তুমি?
ক্ষনিকের দখলদারিতে
নিজেকে সম্রাট ভেবে বসো!!
তোমার বীরত্বের আস্ফালন
আমার জরায়ুর মতিভ্রম ঘটায় না,
বরং মনে করিয়ে দেয়
কত সহজে পুরুষেরা যুদ্ধকে প্রেম,
আর দখলকে পৌরুষ বলে চালিয়ে দেয়!
তারপরও আমি বেঁচে থাকি।
বর্ষার মতো,
জোয়ারের মতো,
ইতিহাসের সেই সব নারীর মতো
যাদের নাম কেউ লেখেনি,
অথচ যাদের শরীরের ওপর দাঁড়িয়েই
তোমাদের সমস্ত সভ্যতা।
…………. ………….