চুপিসারে
——- প্রতাপ মণ্ডল

আমরা ফিরছি রোজ একটু একটু করে
সেই চেনা সুর, সেই চেনা ছন্দে,
আবার আমরা নেবো বুকভরে শ্বাস
উদ্বেল হবে মন, প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধে।
তবু তো যুদ্ধই ছিলো এটা, হ্যাঁ যুদ্ধই–
এখনও লড়ছি সারাক্ষণ মরণপণ লড়াই,
দেখেছি জাতি নিয়ে দাঙ্গা, দেখেছি জঙ্গীহানা
শেষ থেকে আবার শুরু, কেয়ার করেছি থোড়াই!
এমন যুদ্ধ কেউ দেখিনি কখনো আগে
বাতাসে সুতীব্র বিষ, বাতাসে ভ্রাম্যমান জীবাণু
শ্বাস নেওয়া দায়, বুঝেছি আমরা অসহায়
এবার আমরা হয়েছি কিন্তু সবাই নতজানু।
সে যুদ্ধ ভালো ছিলো, দু’হাতে লড়াই–
বর্শা, তির-ধনুক বা ছিলো বন্দুকবাজ,
সে যুদ্ধে মেদিনী কেঁপেছে থরথর
কখনো সাইরেন, আগুনের গোলা, আওয়াজ।
তারপর, হঠাৎ থেমে গেছে সব একদিন
ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিছু রক্ত, পচা গলা শব
কুন্ডলীকৃত ধোঁয়া, কিছু ধ্বংসাবশেষ
আর থেকে থেকে চিল-শকুনের কলরব।
এ যুদ্ধ বড় চুপিসারে, ঘাতক আসে নিঃশব্দে
কি জানি কখন এসে চেপে ধরে টুঁটি,
আমরা সবাই এখন রণসাজে সুসজ্জিত–
হাতের কাছে যা পেয়েছি, দা-কুড়ুল-বঁটি!
ও যে আসে বাতাসে ভর করে, কখনো আঙ্গুল ছুঁয়ে
তারপর টুঁটি চেপে ধরে, চুপচাপ সব শেষ
পাল্টা আঘাত হানতে পারিনি, আমি বা কেউ
আত্মরক্ষায় ব্যস্ত সবাই, গ্রাম থেকে দেশ।
হয়েছে অনেক ক্ষতি, স্ত্রী হারিয়েছে পতি
হারিয়েছে কেউ সন্তান, কতকেউ পিতৃ-মাতৃহারা
ও যে বেছে বেছে আঘাত হানে, নিষ্ঠুর বড়
যেখানে পেয়েছে একটু দুর্বলতা বা রোগগ্রস্থ জরা।
কি হবে আগামীতে? আর কত যাবে প্রাণ?
এ লড়াই মানুষে মানুষে নয়, নয় সম্মুখ সংগ্রাম,
ও যে আসে বড় চুপিসারে, বড়ই নির্মম
চেপে ধরে টুঁটি, খবর দেয় না আগাম।

তবুও আমরা রোজ ফিরছি একটু একটু করে
সেই চেনা সুর, সেই চেনা ছন্দে…..সম্পূর্ণ

এই মাটির ঋতুরুদ্ধদ্বারে
ছদ্মবেশী এক অন্ধকার!
ক্রমাগত বিস্তীর্ণ হতে থাকে
নব্য সামন্তপ্রভুর লম্বা হাত,
লীন হতে থাকে-
আধপোড়ানো মাটির বর্ণমালা।সম্পূর্ণ

একটা স্বপ্ন
——— প্রতাপ মণ্ডল

নাহ….কোনো স্বপ্ন দেখিনি তো কাল…..!
আসলে কোনো স্বপ্নই দেখিনা আর আজকাল।
অকাতরে ঘুমিয়ে পড়ি, পাশবালিশ টা জড়িয়ে ধরি
একঘুমে হয়ে যায় ভোর, নয়তো ঝকঝকে সকাল।
সত্যি বলছি, কোনো স্বপ্ন দেখিনা আজকাল……

রোজ গিলি ঘুমের বড়ি ; একটা, কোনোদিন দু’টো
প্রেয়সী থাকে না পাশে, আমার কপাল যে ফুটো!
এরপর রাত নিশুত হয়, যদিও এটা জীবন নয়
তবু রোজ ঘুমিয়ে পড়ি, মাথায় রেখে হাত দু’টো।
একা থাকতে…. মাঝে মাঝে লাগে বইকি ভয়…!

তবু একা থেকে থেকে, স…. ব নিয়েছি অভ্যেসে
আগে কলরব ছিলো, আজ বিষাদ মেঘলা আকাশে।
ঘুণপোকায় কাটছে তক্তপোষ, কাকেই বা দেবো দোষ!
আগে, বুনোফুলের গন্ধ ভেসে আসতো বাতাসে…
জীবন চলছে তারই মতো, নেই কোনো আফসোস।

কোনো কোনো দিন, মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যায়…..
আমি গুটি গুটি পায়ে জানলার ধারে এসে দাঁড়াই
আকাশে রূপসী চাঁদ, নয়তো নিকষ আঁধারে ভরা!
অদূরে কে যেনো হাতছানি দিয়ে ডাকে আমায়….!
বাতাসে ফিসফিস করে কথা বলে যেনো কারা…..

কিছুদিন আর, আগামীর কাছে কিছু রেখে যেতে চাই
একটা কবিতা, নিদেন পক্ষে কিছু শব্দ দিও আমায়!
কিছু ঝরা পাতা রেখে যাবো! সন্তানদের আর কি দেবো!
গাছ হতে পারিনি আমি, আগাছা হয়েই থাকতে চাই
কতদিন স্বপ্ন দেখিনি, আমি একটা স্বপ্ন রেখে যাবো।

সম্পূর্ণ

প্রেমেতে হয় পূরণ
তবুও প্রান্তর উষ্ণমেরু
নিরালা মন প্রাসঙ্গিক প্রাণদণ্ড।

আমার চোখ থেকে লাল প্রহর
কালকুট হয়ে ফিনকি দিয়ে ঝরে পড়ছে
দূরের মিনারে মিলনান্ত নাটক
মর্মভেদী হয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে!
সম্পূর্ণ