কবিতা নামকরণ নিষিদ্ধ
কবি প্রসূন গোস্বামী
কবিতার বিষয় অন্যান্য, প্রতিবাদ, সমসাময়িক
Review This Poem

শব্দটা মুখে আনা যাবে না,
আনা মানেই পরিবেশ নষ্ট করা।
যে লোকটা সকাল থেকে সন্ধে হাতবোমা বাঁধল,
তার সুন্দর একটা বাংলা নাম আছে,
তার মায়ের দেওয়া একটা মিষ্টি ডাকনাম আছে—
তাকে কেন হঠাৎ একটা অমার্জিত শব্দে ডাকতে যাবে?

যে মিছিল থেকে স্লোগান উঠল
বই জ্বালিয়ে দেওয়ার,
গান থামিয়ে দেওয়ার,
ছায়াগুলোকে ছেঁটে এক রঙের করে ফেলার—
তাদের তো একটা ঠিকানা আছে,
ভোটার কার্ড আছে,
খবরের কাগজে চমৎকার প্রতিক্রিয়া দেওয়ার লোক আছে।

কাউকে হঠাৎ ‘মৌলবাদী’ বলে ফেলাটা
একেবারেই অভদ্রতা।
ওরা বলতে ভালোবাসে: ‘বিশেষ মতাদর্শের অনুরাগী’।
কাউকে ‘জঙ্গি’ বলাটাও রুচিসম্মত নয়,
উচিত হলো বলা: ‘সামান্য উগ্র পথচারী’।

বছরের পর বছর ধরে
শব্দকোষ থেকে একে একে ছাড়িয়ে নেওয়া হলো
ধারালো সমস্ত নাম।
লুকিয়ে ফেলা হলো বিষদাঁত,
ঢেকে দেওয়া হলো রক্তমাখা চাবুক।

এখন যে রাস্তায় লোক কাটে,
তাকে বলতে হয়: ‘একটু চঞ্চল যুবক’।
যে মন্দির বা দরগা ভাঙতে যায়,
তাকে বলতে হয়: ‘উৎসাহী সামাজিক কর্মী’।

সব শান্ত, সব শোভন।
শব্দগুলো এখন এতটাই সুশীল যে
পিঠে ছুরিটা বসে যাওয়ার পরও
হাতজোড় করে জিগ্যেস করতে হয়—
‘আঘাতকারী মহোদয়,
আপনার নামটা কি একটু জেনে নিতে পারি?’

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted