ছেঁড়া স্বপ্নগুলো
কবে যেনো চলে গেছে বসন্ত…! তবুও কেনো বসন্তের কবিতা লিখি? আড়ামোড়া ভেঙে ছুঁতে পারি কইসম্পূর্ণ
কবে যেনো চলে গেছে বসন্ত…! তবুও কেনো বসন্তের কবিতা লিখি? আড়ামোড়া ভেঙে ছুঁতে পারি কইসম্পূর্ণ
যেদিন চলে যাবে
——— প্রতাপ মণ্ডল
— এতো বেহায়া কেনো তুমি?
তাড়িয়ে দিচ্ছি, তবু কেনো যাচ্ছো না চলে….?
এখনও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি দেখছো অমন করে?
শ্রাবণ এখনও আসেনি, তবু দেখো বাদল কেমন ঝরছে অঝোরে!
” —যদি আমি চলে গেলে তুমি সুখী হও–
তাহলে বেশ, এই আমি পা বাড়িয়ে দিলাম অজানায়
আর কোনোদিনও ডাকলে পাবে না কিন্তু আমায়..!”
—তোমাকে তো চেয়েও পাইনি আমি,
শুধু রেখে যাচ্ছো তুমি কিছু স্মৃতির ভার…..
কিছু স্মৃতি নয়, রেখে যাচ্ছো স্মৃতির পাহাড়।
“তাহলে আমায় যেতে দিচ্ছো কেনো?
তুমি বললেই আমি তোমার হয়ে থাকবো চিরকাল
স্মৃতি নিয়ে কি জীবন কাটানো যায় বলো…!
তাহলে আমায় নিয়ে কেনো মিথ্যে বুনলে কল্পনাজাল?”
— জানিতো তুমি আমার কোনোদিন হবে না…!
তাইতো তোমায় এতো ভালোবেসে গেছি, আজও বাসি
চিরকাল আমি শুধু তোমায়, হ্যাঁ…তোমায় শুধু ভালোবাসবো
তোমার আমার কতো আদর-খুনসুটি-
কতো রঙিন সময়ের কথা ভেবে আমি কাঁদবো… হাসবো।
“তোমার বুঝি স্মৃতি নিয়ে থাকতে ভালো লাগে?
কিন্তু আমি যে চেয়েছিলাম, তোমাকে নিয়ে ঘর বাঁধতে।
সুখে না হোক, দুঃখেই কাটিয়ে দিতাম দু’জনে
সত্যি বলছি, এর বেশী আর কিচ্ছু চাইনি কোনোদিন পেতে।
তোমাকে একটু ছুঁয়ে থাকা, নাহয় কখনো থাকতো দু’জনের রাত জাগা
কিছু খুনসুটি আদর, কখনো তোমার একরাশ অভিমান….
কেনো আমায় যেতে বলছো আজ? কেনো আজ মনে বিরহের গান?”
— তবে শোনো, আমার আয়ু আর কিছুদিনের।
আমি চলে যাবো অনেকদূর, মিশে যাবো ওই তারায়
পিছুটান বলতে তুমিই ছিলে, জানি আজ বড় আঘাত পেলে!
কিন্তু নিয়তি যে বড় নিষ্ঠুর….!
তা না হলে তোমায় ছেড়ে আমাকে কেনো চলে যেতে হবে অনেকদূর?
দাঁড়িয়ে থেকো না তুমি আর, চলে যাও আমার চোখের সামনে থেকে
মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে ফেলো, তুমি শুধু থাকো খুব খুউব সুখে।
“কিন্তু, আমি যে আর যেতে পারবোনা তোমায় ছেড়ে
নিয়তি যদি তোমায় নেয়…. নিক না কেড়ে,
আমি পাথরের মতো তোমার শিয়রে থাকবো বসে
কে আর সুখ পায়, বলতো ভালোবেসে……?
কাছে এসো, আমার বুকে রাখো মাথা।
যেদিন চলে যাবে, সেদিনও ঠিক এমনি করেই আমার বুকে মাথা রেখো
তুমি তাড়িয়ে দিলেও, আমি কোনোদিন তোমায় ছেড়ে যাবো না দেখো। ”
সময়ের হাত ধরে
——– প্রতাপ মণ্ডল
চলে যাওয়ার আগে, বলেছিলি একবার দেখা করবি..
চলে যাওয়ার আগে, বলেছিলি একবার জড়িয়ে ধরবি।
নাহ, তোর সাথে আর হয়নি আমার দেখা…..
তোকে শেষবারের মতো একবার জড়িয়ে ধরা হয়নি আর
মনের আগল খুলে তোর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছি তো কতবার!
সময় আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে, পিছিয়ে দিয়েছে দূরত্ব
আগে যে অনুভূতি নিয়ে তোকে ছুঁতাম–
এখন সেই অনুভূতি কোথায় যেন হারিয়ে গেছে….!
বসন্ত আসে পলাশও ফোটে, শুধু তোর চুলে আর গোঁজা হয়না
সময়ে-অসময়ে তোর কাছে কত্ত ছিলো বলতো আমার বায়না!
মনে আছে তোর? সেবার বসন্তে উদ্দেশ্যহীন আমরা বেরিয়ে পড়লাম
একটা ছোট্ট স্টেশনে দু’জনে ট্রেন থেকে নেমে পড়লাম
তারপর সরু আলপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে একটা পলাশ বাগানে।
কতো পলাশ ঝরে পড়ে আছে, আমি নুইয়ে একটা তাজা পলাশ তুলে নিলাম
খুব যত্ন করে তোকে কাছে টেনে তোর চুলে গুঁজে দিলাম।
তখন তোর সে কি খিলখিল হাসি….
দু’হাত প্রসারিত করে বনবন ঘুরছিস, দুচোখে বাঁধভাঙ্গা খুশি
আমি তোর কানের কাছে মুখ এনে বললাম, ওই ভালোবাসি।
তোর কোনো হুঁশই ছিলো না তখন…..!
প্রকৃতির সাথে তুইও তখন মিলেমিশে একাকার।
জানি, আর দেখা হবে না আমাদের কখনো….!
তেমন করে হুটহাট আর বেরিয়ে পড়াও হবে না…!
এবার বসন্তে আমি একা, তুই কেমন আছিস খুব জানতে ইচ্ছে করে
সময়ের হাত ধরে আমাদের পথ হয়তো ভিন্ন হয়েছে
তবু মনের মনিকোঠায়, স্মৃতিরা আজও অম্লান……
জানিস! তোর কথা ভেবে মাঝে মাঝে দু’চোখে আসে বান।সম্পূর্ণ
স্ত্রীর পত্র
****-***************
প্ৰিয় —
হয়তো ‘প্ৰিয়’ শব্দটা দেখেই তোমার মাথায় আগুন জ্বলে উঠলো! কি করবো বলো! প্রিয়তোষ নামটা ছোট করে আমি তোমাকে প্রিয় করে নিয়েছিলাম। আর তাছাড়া তুমি তো আমার প্ৰিয় ছিলে, আজও সেই প্রিয় রয়ে গেছো। মনের কুঠুরি তে যে তোমার বাস, তাইতো তুমি আজও অপ্রিয় হতে পারো নি আমার কাছে।
তোমাকে হোয়াটস্যাপ এ লিখতেই পারতাম এ চিঠি। কিন্তু মনে হলো, আজ সাদা কাগজে কিছু কথা লিখি। তোমার মতো আমিতো আর কবিতা লিখতে পারিনা, তাই মনের কথা চিঠিতেই লিখলাম। যদি মনে হয় এ চিঠি অপ্রয়োজনীয়, তবে আর পড়ো না। ছিঁড়ে ফেলো বা আগুনে পুড়িয়ে দিও। আমিতো আর দেখতে যাবো না!
আচ্ছা, আমাদের ডিভোর্স টা কি খুব প্রয়োজন ছিলো? তুমি যখন যেটা চেয়েছো সেটাই করেছো, আমিতো কখনো তোমাকে বাধা দিইনি! কতটা ভালোবেসেছো, আজ আমাকে সত্যি করে বলবে? যদি সত্যি ভালোবাসতে তবে কি এভাবে উপড়ে ফেলতে পারতে তোমার জীবন থেকে? হ্যাঁ, তুমি আমাকে উপড়ে দিয়েছো। আমি আজও বেঁচে আছি সে ঠিক, কিন্তু এ বাঁচা যে মরার সমান। শুধু এ দেহের মরণ হয়নি তোমার সন্তানের জন্য। তাকে যে মানুষ করতে হবে। পৃথিবীর সব মা চায়, তার সন্তান ভালো থাকুক। পৃথিবীর সব প্রেমিকা চায়, তার ভালোবাসার মানুষটা ভালো থাকুক। আমিও তাই চেয়েছি, আমিও তাই চেয়েছিলাম, আমি আজও তাই চাই।
যেদিন আমাদের আইনি বন্ধন সব শেষ হলো, তারপর একদিন ও বাড়ি আমি গিয়েছিলাম। আমার কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনতে। সেই শেষবার, তারপর আর দেখা হয়নি তোমার সাথে। ভাগ্যের সন্ধানে ছেলেকে নিয়ে আমি পারি দিলাম সুদূর মুম্বাই। হ্যাঁ, আজ আমি প্রতিষ্ঠিত, ছেলেকে নামী স্কুলে ভর্তি করেছি। একটা এক কামরার ফ্ল্যাট কিনেছি জানো! ও বাড়ির মতোই দক্ষিণে একটা জানলা আছে। তুমি যখন ঘুমিয়ে পড়তে, আমি জানলার ধারে এসে দাঁড়াতাম। ওই আকাশটা আমার বরাবরের প্ৰিয় ছিলো। রাতের আকাশের একটা আলাদা রূপ আছে। ধ্রুবতারা ধীরে ধীরে স্থান পরিবর্তন করে শুকতারায় পরিণত হতো। কত রাত আমি ঘুমাই নি। কি করে ঘুমাবো বলো? কাছের মানুষটা এতো কাছে থেকেও কত পর!
কি হতো! পাঁচ কামরার একটা ঘরে আমি পড়ে থাকতাম! অন্ততঃ তোমার হাতের কাছে জিনিসপত্রগুলো গুছিয়ে দিতে পারতাম! সে সুযোগটুকু তুমি কেমন কেড়ে নিলে! সন্তান কি আমার একার? সে কি তোমার সন্তান নয়? কই, কোনোদিনই তো জানতে চাও নি তোমার সন্তানের কথা! কোনোদিন তো জানতে চাওনি আমাদের কথা! কি এমন অপরাধ ছিলো আমাদের? আমি সেকেলে? আমি আধুনিকা হতে পারিনি? তুমিও তো তোমার মনের মতো গড়ে নিতে পারতে আমায়? কি পেয়েছি তোমার কাছে আমি? হ্যাঁ পেয়েছি, শুধু অবহেলা।
আমি খুব ভালো আছি জানো! এখনো তেমনই রাতের আকাশ দেখি, দেখি তারা খসা, দেখি ধ্রুবতারার স্থান পরিবর্তন আর দেখি আলসে চাঁদটা ধীরে ধীরে অস্ত যায়! কখনো দেখি মেঘের ঘনঘটা, বৃষ্টি এসে আমাকে ভিজিয়ে দেয় — মনে হয় তোমার বাহুতে ধরা দিয়ে তোমার হিম শীতল স্পর্শ অনুভব করছি। উষ্ণ পরশ তো কখনো দাও নি, তোমার শীতল স্পর্শেই আমি খুব সুখী ছিলাম।
আমি আজও খুব সুখী জানো! তোমাকে আজও তেমন করেই বুকে ধরে রাখতে পেরেছি। আমি চাইলেই কোনো পুরুষের বাহুলগ্না হতে পারতাম, কিন্তু নিজের বিবেকের কাছে কি কৈফিয়ত দিতাম? তাইতো তুমি উপড়ে ফেললেও আমি পারিনি তোমাকে ছেড়ে চলে যেতে।
তবে হ্যাঁ, ভেবো না তোমার কাছে আমি আবার ফিরে যাবো! ভেবে নিও না যেন, ইনিয়ে-বিনিয়ে তোমাকে বলতে চাইছি, তুমি ডাকলেই আমি ছুট্টে গিয়ে তোমার বাহুপাশে ধরা দেবো! আসলে কি জানো! দূরত্ব বুঝিয়ে দেয়, মানুষটা কত প্ৰিয়। তুমি আজকাল এতো বিরহের কবিতা লেখো কেনো? তুমিতো বন্ধনহীন হয়ে থাকতে চেয়েছিলে! তুমিতো আজ বন্ধনহীন। তবে কেনো বিরহের কথা লেখো?
যাই লেখো, তোমার লেখা যেন কখনো থামিও না। আমিতো জানি, তুমি যেদিন লিখতে পারবে না সেদিন তুমি আর বাঁচতে চাইবে না। ভাবছো তো? আমি কি করে জানলাম এতো কথা? অলক্ষ্যে থেকেও আমি যে তোমায় দেখতে পাই। এই যে এখন, এই চিঠি পড়তে পড়তে তোমার দু’চোখ ঝাপসা! কি দেখতে পাই তো? আমি যে তোমায় ভালোবাসি গো, খুউব ভালোবাসি………
ইতি ——-
তোমার __________
কলমে —— প্রতাপ মণ্ডল সম্পূর্ণ
তারা জানলো না
———- প্রতাপ মণ্ডল
সেসব দিন হারিয়ে গেছে, এসেছে দেহ মনে জরা
কালের স্রোতে সবই কেমন হারিয়ে যায়!
শৈশব ছিলো হাসিখুশি খেলাধুলা, দুস্টুমিতে ভরা
আজ হঠাৎ কি জানি কেনো পিছনে তাকাই!
মায়ের বকুনি ছিলো, ছিলো পড়া না করার শাস্তি
নীলডাউন ছিলো আরো ছিলো কানমলা,
বেতের ছড়ি ছিলো, ছিলো শিক্ষকদের স্নেহের শাসন
বন্ধুদের সাথে ভাব ছিলো,জড়িয়ে ধরে গলা।
স্কুলের টিফিন ছিলো, মুড়ি, লুচি, কখনো বাসি ভাত
হুটোপুটি করে টিফিন ভাগ করে খাওয়া,
হারিয়ে গেছে সেসব দিন, শৈশবের বন্ধুরা ছেড়েছে হাত
আর হবে না হয়তো তাদের ফিরে পাওয়া!
দিন যায়, মাস যায়, বছরও যায় গুটিগুটি পায়ে চলে
জীবন বদলে গেছে, আমরা হয়েছি আধুনিক,
মনটা আর আধুনিক হলো কই! রয়ে গেছে সেকেলে
এখনকার শৈশব দেখি, ওরা বড়ো যান্ত্রিক।
খেলাধুলা নেই, কানামাছি নেই, নেইতো কুমিরডাঙ্গা
যান্ত্রিক যুগে যন্ত্রে মেতেছে সব শিশুদের মন!
তারা জানলো না শৈশব কি! ওদের খেলনা ভাঙ্গে না।
আরো আধুনিক হলে যুগ-
শৈশব বলে কিছু আর থাকবে না তখন!সম্পূর্ণ
চুপিসারে
——- প্রতাপ মণ্ডল
আমরা ফিরছি রোজ একটু একটু করে
সেই চেনা সুর, সেই চেনা ছন্দে,
আবার আমরা নেবো বুকভরে শ্বাস
উদ্বেল হবে মন, প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধে।
তবু তো যুদ্ধই ছিলো এটা, হ্যাঁ যুদ্ধই–
এখনও লড়ছি সারাক্ষণ মরণপণ লড়াই,
দেখেছি জাতি নিয়ে দাঙ্গা, দেখেছি জঙ্গীহানা
শেষ থেকে আবার শুরু, কেয়ার করেছি থোড়াই!
এমন যুদ্ধ কেউ দেখিনি কখনো আগে
বাতাসে সুতীব্র বিষ, বাতাসে ভ্রাম্যমান জীবাণু
শ্বাস নেওয়া দায়, বুঝেছি আমরা অসহায়
এবার আমরা হয়েছি কিন্তু সবাই নতজানু।
সে যুদ্ধ ভালো ছিলো, দু’হাতে লড়াই–
বর্শা, তির-ধনুক বা ছিলো বন্দুকবাজ,
সে যুদ্ধে মেদিনী কেঁপেছে থরথর
কখনো সাইরেন, আগুনের গোলা, আওয়াজ।
তারপর, হঠাৎ থেমে গেছে সব একদিন
ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিছু রক্ত, পচা গলা শব
কুন্ডলীকৃত ধোঁয়া, কিছু ধ্বংসাবশেষ
আর থেকে থেকে চিল-শকুনের কলরব।
এ যুদ্ধ বড় চুপিসারে, ঘাতক আসে নিঃশব্দে
কি জানি কখন এসে চেপে ধরে টুঁটি,
আমরা সবাই এখন রণসাজে সুসজ্জিত–
হাতের কাছে যা পেয়েছি, দা-কুড়ুল-বঁটি!
ও যে আসে বাতাসে ভর করে, কখনো আঙ্গুল ছুঁয়ে
তারপর টুঁটি চেপে ধরে, চুপচাপ সব শেষ
পাল্টা আঘাত হানতে পারিনি, আমি বা কেউ
আত্মরক্ষায় ব্যস্ত সবাই, গ্রাম থেকে দেশ।
হয়েছে অনেক ক্ষতি, স্ত্রী হারিয়েছে পতি
হারিয়েছে কেউ সন্তান, কতকেউ পিতৃ-মাতৃহারা
ও যে বেছে বেছে আঘাত হানে, নিষ্ঠুর বড়
যেখানে পেয়েছে একটু দুর্বলতা বা রোগগ্রস্থ জরা।
কি হবে আগামীতে? আর কত যাবে প্রাণ?
এ লড়াই মানুষে মানুষে নয়, নয় সম্মুখ সংগ্রাম,
ও যে আসে বড় চুপিসারে, বড়ই নির্মম
চেপে ধরে টুঁটি, খবর দেয় না আগাম।
তবুও আমরা রোজ ফিরছি একটু একটু করে
সেই চেনা সুর, সেই চেনা ছন্দে…..সম্পূর্ণ
একটা স্বপ্ন
——— প্রতাপ মণ্ডল
নাহ….কোনো স্বপ্ন দেখিনি তো কাল…..!
আসলে কোনো স্বপ্নই দেখিনা আর আজকাল।
অকাতরে ঘুমিয়ে পড়ি, পাশবালিশ টা জড়িয়ে ধরি
একঘুমে হয়ে যায় ভোর, নয়তো ঝকঝকে সকাল।
সত্যি বলছি, কোনো স্বপ্ন দেখিনা আজকাল……
রোজ গিলি ঘুমের বড়ি ; একটা, কোনোদিন দু’টো
প্রেয়সী থাকে না পাশে, আমার কপাল যে ফুটো!
এরপর রাত নিশুত হয়, যদিও এটা জীবন নয়
তবু রোজ ঘুমিয়ে পড়ি, মাথায় রেখে হাত দু’টো।
একা থাকতে…. মাঝে মাঝে লাগে বইকি ভয়…!
তবু একা থেকে থেকে, স…. ব নিয়েছি অভ্যেসে
আগে কলরব ছিলো, আজ বিষাদ মেঘলা আকাশে।
ঘুণপোকায় কাটছে তক্তপোষ, কাকেই বা দেবো দোষ!
আগে, বুনোফুলের গন্ধ ভেসে আসতো বাতাসে…
জীবন চলছে তারই মতো, নেই কোনো আফসোস।
কোনো কোনো দিন, মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যায়…..
আমি গুটি গুটি পায়ে জানলার ধারে এসে দাঁড়াই
আকাশে রূপসী চাঁদ, নয়তো নিকষ আঁধারে ভরা!
অদূরে কে যেনো হাতছানি দিয়ে ডাকে আমায়….!
বাতাসে ফিসফিস করে কথা বলে যেনো কারা…..
কিছুদিন আর, আগামীর কাছে কিছু রেখে যেতে চাই
একটা কবিতা, নিদেন পক্ষে কিছু শব্দ দিও আমায়!
কিছু ঝরা পাতা রেখে যাবো! সন্তানদের আর কি দেবো!
গাছ হতে পারিনি আমি, আগাছা হয়েই থাকতে চাই
কতদিন স্বপ্ন দেখিনি, আমি একটা স্বপ্ন রেখে যাবো।
এইটুকু থেকে যাক
———- প্রতাপ মণ্ডল
তুমি বারবার জিজ্ঞেস করো কেনো বলোতো?
তোমায় চিনি কিনা! সত্যি বলছি তোমায় চিনি না।
বারবার ভেবেছো, কিন্তু দেখাও নি মনের ক্ষত।
তবে অনেক মানুষই অচেনা থাকে, তারপর তারা-
কেউ হয়ে ওঠে প্রিয়জন, কেউবা হয় বড়ই আপন!
কত অধরা স্বপ্ন আবার দু-চোখ কেমন আঁকে….!
জীবনের পথ চলতে গিয়ে এমন হয় কত পরিচয়
সবাই থাকে না মনে, হারিয়ে যায় তারা কোনোখানে
কোনো পরিচয় আবার, কিছুতেই ভুলবার নয়….!
তুমি তো আমার ক্যানভাসে বেশ উঠছো ফুটে!
এইতো একটু একটু করে তোমায় জানছি, চিনছি
কে আর জানে বলো! পথের বাঁকে কার কি ঘটে!
কতবার তো ভেবেছো, অচেনার ভান করে চলে যাবে
পেরেছো যেতে? আর যেতে পারবে না কোনোমতে!
জীবনের এই সন্ধিক্ষনে এসে কোথায় আর কি পাবে!
জানি তোমায় কোনোদিন কিছু দিতে পারবোনা আমি
তুমিও কি পারবে আমায়! তবু যদি ভালো থাকা যায়!
এইটুকু থেকে যাক, হোক না জীবনের সবচেয়ে দামী!
নাইবা হলো দেখা আমাদের, হোকনা কিছু ভাব বিনিময়
কিছু স্বপ্ন আঁকতে পারি যদি, অশ্রুতে বান ডাকুক নদী
হৃদয়ে সযত্নে লালিত হোক না আমাদের এই পরিচয়…!
আমার একাকিত্বে
———– প্রতাপ মণ্ডল
এ কি, আশালতা! তুমি ফিরে এসেছো?
না… না, তা কি করে হয়! তুমিতো চলেই গেছো…..
সব আমার ভ্রম, রোজ ভালোবাসার মূল্য দিচ্ছি চরম।
কিছু রজনীগন্ধার স্টিক নিয়ে এসেছি, অফিস থেকে ফেরার পথে।
সাদা ফুলদানিটায় সাজিয়ে রাখলাম, মাঝখানে একটা রক্তগোলাপ।
কিছুক্ষনের মধ্যে সারা ঘরটায় একটা মিষ্টি গন্ধে ভরে গেলো।
চুপচাপ বসে থাকতে থাকতে, অতীতের কত কথা মনে পড়ে গেলো।
আমি অফিস থেকে ফিরলেই তুমি ফুলগুলো নিয়ে ঠিক এমনি করেই সাজিয়ে রাখতে
কতবার তাদের হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখতে, আর বুকভরে নিতে শ্বাস।
ঘরের সামনেই মাটির টবে লাগিয়েছিলে জুঁই, বেলী…..
দমকা হাওয়ায় নধর, সুপুষ্ট ফুলগুলো থেকে একঝলক গন্ধ ঘরে ঢুকে পড়তো।
সে এক অদ্ভুত গন্ধ, তুমি কেমন নেশাগ্রস্ত হয়ে যেতে…..!
গাছগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখতে । আচ্ছা, গাছগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে কি দেখতে?
তুমি কি ওদের তোমার নরম হাতে আদর করতে?
আমিও এখন তোমার মতো রোজ গাছগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখি।
আজ তুমি সারাঘরে আর কোত্থাও নেই, তবু দেখো এইতো ছিলে সেদিন।
আমি রোজ ফুল নিয়ে আসি, রোজ ফুলদানিটা টাটকা ফুলে সাজিয়ে রাখি
যদি তুমি হঠাৎ করে কোনোদিন ফিরে আসো! ওই, ভালোবাসো? বলো না, ভালোবাসো?
জানি, আর ভালোবাসো না আমায়….! নাইবা ভালোবাসলে! স্মৃতিদের কি ভোলা যায়!
এই ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে তোমার কত অসংখ্য স্মৃতি……
আমি ওদের হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখি, জানো! তোমার স্পর্শ পাই।
যদি কোনোদিন ফিরে আসো, একটা প্রশ্ন করবো তোমায়
চিৎকার করে জিজ্ঞেস করবো, কেনো চলে গেলে বলোতো অবেলায়?
আমি কি তোমায় কোনোদিন একটুও সুখ দিতে পারিনি?
জানো! সারা ঘরময় রজনীগন্ধার সুবাসে ভরে গেছে……
একটু একটু করে তোমার অস্তিত্ব টের পাচ্ছি, ওইতো তুমি…!
নীল শাড়িতে কি অপূর্ব লাগছে তোমায়! ধীরে ধীরে আমার দিকেই এগিয়ে আসছো
এখন ঠিক আমার পিছনে দাঁড়িয়ে, তুমি কেমন মিটিমিটি হাসছো!
ভাবছো, খুব জব্দ করেছো তাইনা? তুমি জানো?
আমার একাকিত্বে তুমি আরও বেশী করে প্রকট হয়ে ওঠো…..
এসো না কাছে, আরো কাছে! আমার হাতে রাখো, তোমার হাত দু’টো…..সম্পূর্ণ
তোর সাথে
———- প্রতাপ মণ্ডল
আমি ঝড় হতে চাই —–
আমি হতে চাই সুন্দরী ঝরণা,
ঝিরঝির পড়বো ঝরে তোর বুকে
তুই একটু ভালোবাসবি আমায় কন্যা?
আমি তোর হাতের চুড়ি হতে চাই
হতে চাই টুকটুকে লাল পলাশ,
আমি হতে চাই জোৎস্নাভরা রাত
ভালোবেসে তু্ই যদি মন দিয়ে যাস… !
আমি পথ হতে চাই —–
হতে চাই মজুর-মুটে ও কুলি,
আমি হতে চাই বিন্দু বিন্দু ঘাম
যুগ যুগ ধরে তোর সাথেই পথ চলি।
আমি নদী হতে চাই ——
হতে চাই নৌকোর ছেঁড়া পাল,
আমি ভেসে যেতে চাই যুগ থেকে যুগান্তরে
তোর সাথেই কাটাবো অনন্তকাল…..
কি রে? ভালোবাসবি তো আমায়?
আমি শুধু তোর হয়ে থাকতে চাই।সম্পূর্ণ
অনেকদিন পর শীত এলো। বহু প্রতীক্ষিত সে। শীত এলো সোয়েটারে-কম্বলে-চাদরে-লেপে। শীত এলো সকালের মিষ্টি রোদে।সম্পূর্ণ