| কবিতা | যুদ্ধ করে আসি |
| কবি | নাহিদ সিদ্দিকী তুর্য |
| সময় | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ দুপুর ২:২৪ |
| লিখার স্থান | কালকিনি মাদারীপুর |
যুদ্ধের মাতম যুদ্ধের মাতম,
দেশে তখন ভীষণ রকম যুদ্ধ,
প্রস্তুতি সব নিয়েছে তারা
করবে যুদ্ধ,
শহর বন্দর গ্রাম গঞ্জের
আবাল বনিতা বৃদ্ধ।
চাষের ক্ষেতে ঘাস জমেছে
নিরানীতে ব্যস্ত গাঁয়ের চাষী,
যুদ্ধ লাগার খবর পেয়ে
বলল চাষী,
থাক না পড়ে নিরানীটা,
এখন সময়, যুদ্ধ করে আসি।
বাসর রাতের খুনসুটি,
নব বধুর মুখে মধুর হাসি,
যুদ্ধের ডাকে বলল যুবক,
বধু তুমি দাও গো বিদায়,
যুদ্ধ করে আসি।
বাবার গলা জড়িয়ে শিশু,
বলল হেসে, বাবা তোমায়
বড্ড ভালোবাসি,
কপালে তার আলতো চুমু
এঁকে দিয়ে বলল বাবা,
নিশ্চিন্তে ঘুমোও তুমি, আমি
যুদ্ধ করে মুক্তি নিয়ে আসি।
তরুণ তখন ভাসছে প্রেমে,
দৃষ্টিতে তার দুষ্টু কুহক হাসি,
যুদ্ধ যখন লাগলো দেশে
বলল তরুণ, যাইগো প্রিয়া
যুদ্ধ করে প্রেমটা নিয়ে আসি।
শিক্ষাগুরুর কালাতিক্রম
পাঠ্য বইয়ের হিসাব কিছু কষি,
শিক্ষার্থীর দৃষ্টি তখন যুদ্ধক্ষেত্রে,
বলল শিষ্য শিক্ষাগুরু
দাওগো বিদায়,
যুদ্ধ করে দেশটা নিয়ে আসি।
শস্য ক্ষেতে মটরশুটি
তুলছে তখন গাঁয়ের কৃষাণী,
যোদ্ধার শুকনো মুখ দর্শনে
বলল নারী,
থাক পড়ে থাক মটরদানা,
যোদ্ধা ভাইকে খাদ্য দিয়ে আসি।
পথের কিশোর দেখলো যখন
অস্ত্র হাতে হানাদাররা হাসছে
পৈশাচিক হাসি,
রক্তে তখন উঠলো নাচন,
বলল কিশোর, শত্রু মেরে আসি।
দেশের সকল বুদ্ধিজীবি,
নেতা-নেত্রী, কামার-কুমার,
জেলে, চাষা, নানান পেশার
দেশ দরদী, আমজনতা জন,
দেশ স্বাধীনের তরে যখন
সব জনতার হলো এক মন,
দশের হাতে উঠলো যখন
যুদ্ধ জয়ের অসি,
সমস্বরে বলল যখন সবাই,
যুদ্ধ করে আসি,
লাল সবুজের ঝান্ডা তখন
আপন করে ধরলো বাংলাবাসী,
দেশ জনতার ঠোঁটে তখন
বিশ্ব জয়ের হাসি।