কবিতা বিশ্বাস এর স্পর্শ
কবি নাহিদ সিদ্দিকী তুর্য
সময় ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, শনিবার, রাত ১২:২৫মি.
লিখার স্থান কালকিনি মাদারীপুর
Review This Poem

মেয়েটি বিশ্বাস বুঝেছিল গ্রীষ্মের দুপুরে –
যখন নবীন কিশোর স্বপ্নালু চোখ মেলে
চেয়েছিল গণিতের খাতা!
কারণ সে চেয়েছিল স্বপ্নীল চোখ –
রামানুজন হোক, নাহয় সত্যেন বোস!

বিশ্বাস বুঝলেও, বিশ্বাস কে চিনেছিল
মেয়েটি, যখন পরদিন গণিত ক্লাসে
বাড়ির কাজ না আনায় সে মেয়েটিই
শিক্ষকের বেতের তীব্র জ্বালায়
ছটফট করে নেচেছিল তান্ডব নাচ!

হিস হিস বাতাস চিরে রাগী, দুর্ধর্ষ –
সাপের মত চিকন লকলকে বেত,
কঠোর অথচ কি কাব্যিকভাবে হিংস্র –
ছোবল বসাচ্ছিল তার নরম দু হাতে;
নীল জামা, ধপধপে সাদা সালোয়ারে!

বিশ্বাস কে অনুভব করেছিল মেয়েটি,
বেতের তীব্র জ্বালায় নাচতে নাচতে –
যখন শাস্তির আগুন ধরানো জ্বালায়
ডায়াস জুড়ে অস্থির, টগবগ করে
তার নাচ দেখছিল স্বপ্নীল চোখ!

স্বপ্নীল চোখের সামনে গণিতের খাতা,
ভাবালু চোখে তারিয়ে তারিয়ে দেখছে –
ডায়াস দাপিয়ে মেয়েটির ছটফট-নাচ!
আর লকলকে বেত যেন অনুঘটক –
সেই জ্বলন্ত, তীব্র ছটফটে শিল্প-বিক্রিয়ার!

সরু, ভূজঙ্গ-জিহবার মত লিকলিকে বেত,
হিসহিসে, আর কি কাব্যিক! অথচ,
কি তীব্র জ্বালা! যেন, বিবেকের জিহবা’র
মত বিলিয়ে দিচ্ছে জীবন-দর্শণের
অগ্নিসম তীব্র, জ্বলজ্বলে বাস্তবতার শিক্ষা!

বেতের জ্বালায় টগবগ করে দাপিয়ে
মন প্রাণ উজার করে ছটফটিয়ে, শাস্তির
জ্বালায় তৃপ্তি খুঁজে পেতে থাকে মেয়েটি!
ছটফটিয়ে নাচতে নাচতে পাওয়া –
সে তৃপ্তি গাঢ় সত্যের, সে তৃপ্তি জীবনের!

বিশ্বাস স্পর্শ করেছিল মেয়েটি,
লকলকে বেতের তীব্র জ্বালায়
ছটফট করে নাচতে নাচতে!
এর পরে বিশ্বাস কে ছুঁয়ে দেখতে
আর কোনদিন রুচি হয়নি তার!

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted