| কবিতা | গাড়িটা থেমে আছে |
| কবি | নাহিদ সিদ্দিকী তুর্য |
| সময় | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, শনিবার, রাত ১২:১৮মি. |
| লিখার স্থান | কালকিনি মাদারীপুর |
জীবনের গাড়িটা থেমে আছে একটা স্টেশনে।
জং ধরা, নিম্প্রাণ নির্জন বিরক্তিকর একটা স্টেশন;
ভাঙাচুরা জরাজীর্ণ প্ল্যাট-ফর্ম, চারিদিকে জঞ্জালে পূর্ণ।
যতদূর দু-চোখ যায় দেখি কেবল ধূসর মরুভূমি
প্রাণহীন শুষ্ক পরিবেশ, গাছপালা শুকিয়ে কাঠ।
সবুজ বনভূমি নেই, নেই কোথাও প্রাণের স্পন্দন
কিছুই নেই মনঃপূত, নেই কোনও দৃশ্য মনোরম;
কেউ নেই সহযাত্রী, নিঃসঙ্গ বিরক্তিকর নিশ্চল জীবন।
স্টেশনে বসে দেখি কতশত গাড়ি চলেছে ছুটে আপন গতিতে;
জীবনের গাড়িটা আমার থেমে আছে একটা স্টেশনে।
প্রাণহীন এই স্টেশন ছেড়ে চলে যাবার জন্য আকুল মন।
পিছনে ছিল বহু প্রাণবন্ত মনোরঞ্জক সুদৃশ্য স্টেশন;
থামেনি কোথাও গাড়িটা, চলেছে আপন গতিতে।
অদ্ভুত এই গাড়িটা পারে না তো আর পিছন ফিরে যেতে!
জানিনা গাড়িটা সম্মুখে এগিয়ে যেতে কিসের মানা ?
কখন আবার চলবে গাড়িটা নেই তো আমার জানা।
প্ল্যাট-ফর্মে বসে আছি আমি একা হতাশ বিষন্ন মনে;
জীবনের গাড়িটা থেমে আছে একটা স্টেশনে।
উপদেশবাদী লোকেরা বলেন জীবন তো একটাই;
জীবনটা উপভোগ করুন, সদা প্রাণচঞ্চল থাকা চাই।
এ মন জানতে চায় কি আছে এখানে উপভোগ করার মত ?
এ প্রশ্নের সদুত্তর আজও কেউ আমায় দেয়নি তো।
উপদেশবাদীরা আরও বলেন ‘একটু ধৈর্য ধর’
সময় বদলাবে, গাড়ি আবার চলবে, লক্ষ্যে তুমি নিশ্চয়ই পৌঁছুবে।
আমিও জানি সময় বদলাবে, এ দুর্দিন কেটে যাবে;
তা বলে ছুটির পর স্কুলে পৌঁছানোর কোনও মানে হয় ?
আসলে চলন্ত গাড়ির যাত্রীরা বুঝে না তো থেমে থাকার মানে;
জীবনের গাড়িটা আমার থেমে আছে একটা স্টেশনে।