| কবিতা | ধূসর মানচিত্র |
| কবি | মেহেদী হাসান অপু |
| কবিতার বিষয় | অন্যান্য, জীবনমুখী, বিরহ |
শহরের এই ব্যস্ত সকালে যখন সবার গন্তব্য সুনিশ্চিত,
আমি তখন ঘরের চার দেয়ালে নিজের অযোগ্যতার সাথে সন্ধি করি।
আমার কাছে সকাল মানে নতুন সূর্য নয়, বরং আরও একবার হেরে যাওয়ার মহড়া;
হতাশা যখন রক্তে মিশে যায়, তখন একাকীত্ব হয়ে ওঠে একমাত্র ধর্ম;
একাকীত্ব এখন আর আমার কাছে বিলাসিতা নয়, এটি এক অনিবার্য দণ্ড—
যেখানে বেকারত্বের বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঝাপসা হয়ে আসে আমার আগামীর মানচিত্র।
এখানে বেকারত্ব মানে এক জীবন্ত কবরের ভেতর দাঁড়িয়ে সাফল্যের কোলাহল শোনা—
পকেটে এখন আর রঙিন স্বপ্ন থাকে না,আছে কেবল নিজের ব্যর্থতার এক অদৃশ্য ওজন—
যা বয়ে বেড়াতে বেড়াতে আমার পা দুটো আজ বড্ড ক্লান্ত
চায়ের দোকানে পরিচিত মুখগুলো দেখলে যখন গলি বদলে ফেলি,
তখন নিজেরই ছায়া আমাকে উপহাস করে এক আজন্ম পরাজিত মানুষের মতো।
হতাশা যখন পাকস্থলীর দেয়াল কামড়ে ধরে, তখন প্রেম কিংবা বিদ্রোহ—
সবই মনে হয় এক একটা সস্তা ও কদর্য কৌতুক।
মা-বাবার নীরব চোখের সামনে দিয়ে যখন অপরাধীর মতো হেঁটে যাই,
তখন মনে হয়—অযোগ্যতার চেয়ে বড় কোনো পাপ এই পৃথিবীতে আর নেই।
বেকারত্ব কেবল পকেট শূন্য করে না, এটি তিলে তিলে গিলে খায় মানুষের পুরুষত্ব আর মেরুদণ্ড!
কোনো আশীর্বাদ নয়, কোনো সুদূর প্রার্থনাও নয়—
সাফল্যের এই উল্লাস থেকে আমি এখন বহুদূরে এক নির্বাসিত দ্বীপ।
আমি শুধু বুঝেছি—এই ঝকঝকে শহর কেবল বিজয়ী মানুষের ইতিহাস লেখে,
আর আমার মতো যারা মুদ্রার উল্টো পিঠে জীবন কাটায়—
তাদের কোনো নাম থাকে না, কোনো পরিচয় থাকে না;
এক গভীর নিঃশব্দে ফুরিয়ে যায় একটা আস্ত জীবন!