জগৎ জুড়ে উদার সুরে
জগৎ জুড়ে উদার সুরেআনন্দগান বাজে,সে গান কবে গভীর রবেবাজিবে হিয়া-মাঝে।বাতাস জল আকাশ আলোসবারে কবে বাসিবসম্পূর্ণ
গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ। এই বইয়ে মোট ১৫৭টি গীতিকবিতা সংকলিত হয়েছে। কবিতাগুলি ব্রাহ্ম-ভাবাপন্ন ভক্তিমূলক রচনা। এর বেশিরভাগ কবিতাতেই রবীন্দ্রনাথ নিজে সুরারোপ করেছিলেন। ১৯০৮-০৯ সালে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এই কবিতাগুলি প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯১০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর (১৩১৭ বঙ্গাব্দের ভাদ্র মাসে) গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
জগৎ জুড়ে উদার সুরেআনন্দগান বাজে,সে গান কবে গভীর রবেবাজিবে হিয়া-মাঝে।বাতাস জল আকাশ আলোসবারে কবে বাসিবসম্পূর্ণ
আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরির খেলা। নীল আকাশেসম্পূর্ণ
মেঘের ‘পরে মেঘ জমেছে,আঁধার করে আসে,আমায় কেন বসিয়ে রাখএকা দ্বারের পাশে।কাজের দিনে নানা কাজেথাকি নানাসম্পূর্ণ
কোথায় আলো, কোথায় ওরে আলো।বিরহানলে জ্বালো রে তারে জ্বালো।রয়েছে দীপ না আছে শিখা,এই কি ভালেসম্পূর্ণ
গোপন তব চরণ ফেলেনিশার মতো নীরব ওহেসবার দিঠি এড়ায়ে এলে।প্রভাত আজি মুদেছে আঁখি,বাতাস বৃথা যেতেছেসম্পূর্ণ
আষাঢ়সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল,গেল রে দিন বয়ে।বাঁধনহারা বৃষ্টিধারাঝরছে রয়ে রয়ে।একলা বসে ঘরের কোণেকী ভাবি যে আপন-মনে,সজলসম্পূর্ণ
আজিঝড়ের রাতে তোমার অভিসার,পরানসখা বন্ধু হে আমার।আকাশ কাঁদে হতাশ-সম,নাই যে ঘুম নয়নে মম,দুয়ার খুলি হেসম্পূর্ণ
জানি জানি কোন্ আদি কাল হতেভাসালে আমারে জীবনের স্রোতে ,সহসা হে প্রিয় , কত গৃহেসম্পূর্ণ
তুমি কেমন করে গান কর যে গুণী ,অবাক হয়ে শুনি , কেবল শুনি ।সুরের আলোসম্পূর্ণ
অমন আড়াল দিয়ে লুকিয়ে গেলেচলবে না।এবার হৃদয় মাঝে লুকিয়ে বোসো,কেউ জানবে না, কেউ বলবে না।বিশ্বেসম্পূর্ণ
আজ বারি ঝরে ঝর ঝরভরা বাদরে।আকাশ-ভাঙা আকুল ধারাকোথাও না ধরে।শালের বনে থেকে থেকেঝড় দোলা দেয়সম্পূর্ণ
প্রভু তোমা লাগি আঁখি জাগে;দেখা নাই পাই,পথ চাই,সেও মনে ভালো লাগে। ধুলাতে বসিয়া দ্বারেভিখারি হৃদয়সম্পূর্ণ