কবিতা ভিনদেশী তারা
কবি আজিজুল হক
উৎসর্গ মাধবীলতা কে
লিখার স্থান কোচবিহার ,পশ্চিম বঙ্গ
সম্পৃক্ততা বর্তমান সমাজ
কবিতার বিষয় জীবনমুখী, প্রেম, রূপক, সমসাময়িক, স্বাধীনতা
Review This Poem

**ভিনদেশী তারা**
©আজিজুল হক

কত বার চলে যেতে বলেছ আমায়,
তাড়িয়েছ কত বার,
কখনও উত্তাপ ছড়িয়ে প্রতিবাদ করেছি তীব্র,কখনও বা অনুনয় !
ছেড়ে যেতে পারিনি তোমায়।
কত চোখের তীর্যক চাহনিতে তীব্র শ্লেষ বিদ্বেষে ভেসে এসেছে কত কদর্য না বলা কথা,
তুমিও ছাড়নি হানতে আঘাত ,
কথার ফুল ঝুড়িতে,
তবুও বোঝাতে পারি নি
আমি ছেড়ে যেতে আসিনি।
তোমার অভিমান কিংবা তাচ্ছিল্লতায় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছি !
কত পথ হেঁটেছি ,
কত পথ চিনেছে আমাদের ,
পথের দুধারে সমস্ত বৃক্ষ রাজি গুলো
আমাদের দেখে স্নেহমাখা ভালোবাসা বিলিয়েছে কত আদরে, সোহাগের চাদর বিছিয়ে
দুহাত ভরে তা বুকে আগলে রেখেছি।
আসলে চলে যেতে পারিনি,
অথচ একদিন তুমি না চাইলেও চলে যেতে হবে সব ছেড়ে ,
তখন ফিরে আসতে পারব না কোন দিন,
এমনকি তুমি চাইলেও , না।
তখন না হয় একদিন আমার কবরে এস,
দুহাতে তোমার বেনীতে গোলাপ জড়িয়ে দেব,
আমার কবরে ফোঁটা গোলাপ।
আমাদের দিন গুলো শুধু কি আমাদের ছিল?
কত মুহূর্ত তো আমাদের হয়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দিত তাদের ভালোবাসতে না পারার তীব্র হতাশা কিংবা লোভ লালসা,
তারা শুধু হাপিত্যেশ করত আর
বালিশে মুখ গুজে কাঁদত হাজারো ব্যর্থতার।
আসলে ওরা জানে না হাজার চেষ্টা করেও ভালোবাসা যায় না ,
ওর জন্য একটা মন দরকার ,
ওর জন্য দরকার ছোট্ট একটা পৃথিবী,
যা তোমার অন্দরে বৃহত্তর পৃথিবীর জন্ম দেবে।
আমি ছেড়ে যেতে পারিনি,
তবে ঈশ্বর কে বলেছি আমার কবরে গোলাপ রেখ,
আমি তার বিনিময়ে ঈশ্বর কে আসমুদ্র পৃথিবীর মালিকানা দিয়েছি,
তিনি আমাকে তোমায় অদম্য ভালোবাসতে শিখিয়েছেন।
ভালোবাসার সপ্ত আসমানের অধিকার দিয়েছেন।

©আজিজুল হক

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted