| কবিতা | নাই বা হত জন্ম যদি |
| কবি | আজিজুল হক |
| উৎসর্গ | মাধবীলতা কে |
| লিখার স্থান | কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ |
| কবিতার বিষয় | আশা, জীবনমুখী, প্রতিবাদ, প্রেম, বাংলাদেশ, বিরহ, ভারতবর্ষ, রাজনৈতিক |
এ জনমে তোমার আমার দেখা
হওয়া টা কি সত্যি জরুরি ছিল?
কতজনের তো দেখাই হয়না আজন্ম!
আসলে মানুষ যা চায়,
তা বুঝি পায়না কখনও!
যখন পায়, তখন হয়তো ভুল সময়ে, ভুল মানুষের সান্নিধ্যে জড়িয়ে যায়!
যখন সঠিক মানুষ টি কে পায় বলে মনে হয়, সেটাও কোন এক ভুল সময়ে!
মেলবন্ধনের ইচ্ছে থাকলেও কঠিন হয়ে দাঁড়ায় আজন্ম মিলনের ইচ্ছেটুকু!
দেখা যদি নাই হতো তোমার আমার,
তবে এ উপলব্ধি আমার মরিচায় ডুবে থাকতো
দিনান্ত ব্যাপী।
হয়তো আরও কিছুকাল বেঁচে থাকতাম,
আরো কিছু না পাওয়ার প্রত্যাশায়!
হয়তো বেঁচে যেতাম;
একটা নিস্তেজ প্রাণহীন শ্যাওলার মত।
সারাদিনের ক্লান্তিকর মুহূর্ত গুলো মিলিয়ে যেত আমার মিছিল কিংবা হকার উচ্ছেদের রং তামাশায়,
আবার তো উঠবে রোদ,
ঝরবে বর্ষা,
আসবে ভোট, নেতাদের পকেটে ভীড় করবে কাগজের অশোক স্তম্ভের সিল করা প্যাকেট!
আমার ওসবে কিছু যায় আসে না,
কত নেতা দেখেছি,
দেখেছি আস্ফালন,
এখন পাগল হয়ে রাস্তায় লুটোপুটি খায়!
তবুও লড়াই এক্যাডেমিক কিংবা পিছনের দরজা দিয়ে ম্যানেজমেন্ট কমিটি তে ঢুকার!
ওদের পোঁদে লাথ মারবে জনগন একদিন!
আমি সব সয়ে গেলেও
প্রকৃতি সইবে না একদিন,
তোমার সাথে দেখা না হলে
রোদ বৃষ্টি ঝড়,
এইসব তোলপার সয়ে নিতাম নাহয় আরো কিছুদিন।
আরো কিছুদিন নাহয়, তোমাকে না পাওয়ার
অন্তহীন বেদনায় নির্লজ্জ মীরজাফরের পতন দেখে যেতাম
বেদনায় পুড়িয়ে নিতাম নিজেকে কোন একদিন ।
আসলে আমরা নির্জীব,
কত তো দেখেছি, দেখে যাচ্ছি নির্লজ্জ ক্ষমতার আস্ফালন,
আমাদের নির্লজ্জ লজ্জা গুলো
একদিন ওদের পৌরুষত্ব কে নির্বিষ, নপুংসক করে দেবে,
এখন যেমন কাতরায় প্রতিদিন।
একা, লুকিয়ে নির্লজ্জ ভাবে
লজ্জায় মাথা উঁচু করার
নির্জীব জীবদের চলো হরপা বানে ডুবিয়ে দিই।