কবিতা অনিমেষ – একটি অসামপ্ত লড়াইয়ের নাম
কবি আজিজুল হক
সময় ১৭/৯/২৬
উৎসর্গ সংগ্রামী জনতা কে
লিখার স্থান কোচবিহার
সম্পৃক্ততা মানুষ
কবিতার বিষয় প্রতিবাদ, ভারতবর্ষ, স্বাধীনতা
Review This Poem

অনিমেষ স্বপ্ন দেখত না,
স্বপ্নকে সংগঠিত করত।
কারখানার কালো ধোঁয়ার ভেতর
সে শুনত ভবিষ্যতের পদশব্দ,
ক্ষেতের মাটিতে কানের কাছে ঝুঁকে
শুনত বিদ্রোহের বীজ ফাটার শব্দ।

তার হাতে ছিল লাল পতাকা,
তবে পতাকার চেয়েও লাল ছিল তার বিশ্বাস।
সে জানত,
যতদিন ক্ষুধা আছে,
ততদিন বিপ্লবের প্রয়োজন আছে।
যতদিন মানুষ মানুষকে লুটে খায়,
ততদিন রাস্তাই শেষ বিশ্ববিদ্যালয়।

কিন্তু ইতিহাস বড় নির্মম!
প্রথমে চলে গেল রাত্রি,
যেন এক টুকরো আলো
সরে গেল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে।

বুকের ভিতর ভাঙল প্রেম,
আর বাইরে ভাঙছিল পৃথিবী।
তারপর এলো ধর্মের ব্যবসায়ীরা।
রক্তমাখা হাত ধুয়ে তারা
প্রার্থনার ভাষায় কথা বলতে শিখল।
রুটির প্রশ্ন উধাও হলো।
মজুরির প্রশ্ন উধাও হলো।
জমির প্রশ্ন উধাও হলো।

চারদিকে শুধু বিষ আর
বিষ।
পাড়ার বিরুদ্ধে পাড়া,
মানুষের বিরুদ্ধে মানুষ,
ক্ষুধার্তের হাতে রুটি নয়,
তুলে দেওয়া হলো ঘৃণার পতাকা।

অনিমেষ দেখল,
শত্রু বসে আছে প্রাসাদে,
কিন্তু জনতা ছুটছে প্রতিবেশীর দরজায়।
শত্রু লুটছে ফসল,
কিন্তু আগুন লাগছে উপাসনালয়ে।

শত্রু গিলছে ভবিষ্যৎ,
কিন্তু স্লোগান উঠছে ধর্মের নামে।
তখন তার সমস্ত স্বপ্ন
লোহার রডের মতো বেঁকে গেল।
একটি জীবন হারিয়ে গেল।
একটি লড়াই হেরে গেল।

একটি প্রজন্মের মুখে
নেমে এলো পরাজয়ের ধুলো।
তবু…
তবু অনিমেষ পরাজিত নয়।
কারণ সে জানে,
বিপ্লবীরা প্রেমে হারে,
নির্বাচনে হারে,
জেলে হারে,
কবরেও হারে,
কিন্তু মানুষের স্বপ্নে কখনও হারে না।

আজও রাতে যখন
কোনো শ্রমিক ওভারটাইম শেষে
মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে দাঁড়ায়,
আজও যখন
কোনো কৃষক জমির দাগ কেটে বলে,
“এ মাটি আমার”,
আজও যখন
কোনো ছাত্র ঘৃণার বিরুদ্ধে
একলা গলা ফাটায়,
সেখানে অনিমেষ আছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আছে,
পরাজয়ের নিচে আছে।
রক্তের নিচে আছে,
বারুদের নিচে আছে।

কারণ ইতিহাসের নিয়ম একটাই:
একজন অনিমেষ পড়ে গেলে
হাজার অনিমেষ জন্ম নেয়।
আর মানুষের মুক্তির লড়াই,
কোনো প্রেমিকার বিদায়ে নয়,
কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নয়,
কোনো পরাজিত সন্ধ্যায় নয়,
শেষ হবে
শেষ মানুষটির মুক্তির আগে নয়।
………….. …….

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted