| কবিতা | নদী মাতৃক |
| কবি | আজিজুল হক |
| সময় | ১২/৯/২৬ |
| উৎসর্গ | প্রকৃতির চরণে |
| লিখার স্থান | কোচবিহার |
| কবিতার বিষয় | জীবনমুখী, প্রকৃতি, প্রতিবাদ |
তোর্সা কিছু বলেনি।
জয়ন্তীও নয়।
শুধু বৃষ্টির ভিতর ভেসে এল
কোনো পুরনো বণিকের নাম।
চিলাপাতার ছায়ায়
একটি ভাঙা বৈঠা পড়ে আছে,
তাকে দেখে মনে হলো
সাম্রাজ্যও একদিন কাঠ হয়ে যায়।
করলা নদী জানে,
কারা মন্ত্র লিখেছিল জলের উপর,
কারা কাদামাটি থেকে উঠে এসে
নিজের নামটুকুও হারাল।
তবু হাফিজের মদের পেয়ালা থেকে
এক ফোঁটা আলো ঝরে পড়ে,
বলে,
“মানুষের আগে কোনো বংশ নয়।”
দূরে কে যেন শিঙ্গা বাজায়,
নজরুলের আগুন নাকি মেঘের ডাক,
বোঝা যায় না।
শুধু বাঁধ ভাঙার শব্দ শোনা যায়।
আর রবি ঠাকুরের ঈগল
নদীর ওপর একবার চক্কর কেটে
হারিয়ে যায় কুয়াশায়!
যেন মনে করিয়ে দেয়,
যার আত্মা জেগে আছে
তাকে নিচে রাখার শাস্ত্র
এখনও লেখা হয়নি।
তখন তোর্সা, জয়ন্তী, করলা,
সব নদী মিলে
একটি অদৃশ্য আয়না তুলে ধরে।
সেখানে চাঁদ সওদাগর নেই,
ব্রাহ্মণ নেই, শূদ্রও নয়,
শুধু মানুষ দাঁড়িয়ে আছে
বৃষ্টির ভিতর।
………… ……..