কবিতা প্রেমিকের বিরুদ্ধে
কবি অভিজিৎ হালদার
সময় ২২শে জানুয়ারি ২০২৬
লিখার স্থান মোবারকপুর , নদীয়া
কবিতার বিষয় প্রেম, বিরহ

শহর জুড়ে আজ বড্ড মিথ্যে মেঘের আনাগোনা,
বাতাসে ভাসে কেবল ভাঙা বিশ্বাসের পুরনো কণা।
তুমি যাকে ভালোবাসা বলো, আমি তাকে বলি ছাই,
পুড়ে যাওয়া হৃদপিণ্ডে আর কোনো দয়া অবশিষ্ট নাই।
যে হাতে হাত রেখে ভেবেছিলে স্বর্গ ছোঁয়া যায়,
সেই হাত আজ অন্য কারো আঙুলে আশ্রয় পায়।
বিস্ময় লাগে না আর, শুধু ঘৃণাগুলো দানা বাঁধে,
মানুষ তো সেই মরে, যে অন্যের মায়ায় অকারণে কাঁদে।
প্রেমিকের হাড় পুড়িয়ে যে প্রেমিকা অন্যের প্রিয়তমা হয়ে যায়,
সে আর যাহোক কখনো সে প্রেমিকা ছিলোই না! সে তো ছিল এক চতুর বহুরূপী, সময়ের প্রয়োজনে আসা,
যার অভিধানে নেই কোনো ত্যাগের ভাষা, নেই ভালোবাসা।
স্মৃতিগুলো আজ বারুদ হয়ে বুকের ভেতর জ্বলে,
তুমি কি ভেবেছো খুব সুখে আছো ওই নতুনের দলে?
অভিশাপ দিই না আমি, শুধু প্রকৃতির নিয়ম মনে করাই,
ভস্মের ওপরে দাঁড়িয়ে কেউ কখনো রাজপ্রাসাদে পায় না ঠাঁই।
প্রেমিকের বিরুদ্ধে গিয়ে যে প্রেমিকা প্রিয়তম খুঁজতে চায়,
সে আর যাহোক কখনো সে প্রিয়তমা নয়! সে এক ভ্রষ্ট পথিক, মরীচিকার পিছে যার চিরকাল চলা,
যার রক্তে মিশে আছে বিট্রেয়াল আর কেবলই মিথ্যে বলা।
রাতের অন্ধকারে যখন তোমার বিবেক প্রশ্ন তুলবে একা,
দেখবে আয়নায় নিজের নয়, এক কঙ্কালের মুখ দিচ্ছে দেখা।
যে হাড় পুড়িয়ে তুমি সাজিয়েছো তোমার বাসর ঘর,
সেই চিতার আগুনেই একদিন ছাই হবে তোমার নতুন সব উত্তর।
ভালোবাসা মানে তো নীলকণ্ঠ হওয়া, বিষটুকু শুষে নেওয়া,
কিন্তু তুমি তো শিখলে কেবল প্রিয় মানুষকে ঠকিয়ে দেওয়া।
আদালত বসবে একদিন, যেখানে কোনো উকিল থাকবে না উপস্থিত,
সেদিন তোমার আত্মার আর্তনাদে কেঁপে উঠবে এই জগত নিশ্চিত।
পৃথিবী কাঁপানো সেই বিচারে তুমি হবে একা এক আসামী,
বুঝে নেবে সেদিন—কার জীবনের চেয়ে কার অভিনয় ছিল দামি।
আমি এখনো দাঁড়িয়ে আছি সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর,
যেখান থেকে তুমি গিয়েছো সবটুকু মায়া আর সততা হারিয়ে।
যাও, আরও একবার নতুন কোনো প্রেমিকের বুক করো খাঁ খাঁ,
তোমার কপালে যে আজীবনের জন্য 'বিশ্বাসঘাতক' কথাটি লেখা! তা থাকুক চিরস্থায়ী চিরকাল।।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted