| কবিতা | শ্রুতি নাটক/ যন্ত্রনার রং নীলাভ |
| কবি | আজিজুল হক |
| সময় | 20/6/23 |
| উৎসর্গ | মাধবিলতা কে |
| লিখার স্থান | কোচবিহার ,পশ্চিম বঙ্গ |
| কবিতার বিষয় | আশা, জীবনমুখী, প্রেম, বিরহ, মৃত্যু |
****যন্ত্রনার রং নীলাভ***
আজিজুল হক
#সব্যসাচী #শ্রুতি #নাটক #কবিতা #নিল #মেসি #সুনীল #নাজিম #কথা #ডুয়েট #রুদ্র #কলকাতা #তসলিমা
নিলয় — কেমন আছ? নিশ্চয় ভাল? হঠাৎ এতদিন পর এত রাতে ফোন! ভুলেই গেছিলাম রাতের ফোন বেজে ওঠার অভ্যেস গুলো।
মধুবনী – জানি নিজেও কেমন আছি আমি! আর ফোনের কথা বলছ ! হয়তো অজান্তেই অভ্যেস টা …
নি — তাই ? বাঃ বেশ তো। হাতের আঙ্গুল গুলো নাকি মনের অলিন্দ গুলো , কার ডাকে জাগলে আজ ?
মধু – মনেই জানে ,মনের কথা, আমি তো শুধু নির্বাক শ্রোতা!একটা কথা জিজ্ঞেস করব নিলয়!
নি – নিশ্চয়ই। আমার কোন কথাই তোমার কাছে গোপন নেই। আমি অন্তত মিথ্যে বলিনি।
ম – এভাবে বললে যে জিজ্ঞেস করতে পারব না কিছু , plz
নি – ঠিক আছে,বল ,কি জানতে চাও?
ম – এভাবে আর কত দিন থাকবে ,বল ? জীবনে কাউকে নুতন করে ঠাঁই দাও । ঘর বাঁধ, কত জনই নুতন করে স্বপ্ন দেখে!
নি – আমি স্বপ্ন দেখি না মধু,
ম – কেন দেখ না,কেন ?
নি – স্বপ্ন গুলো যে হারিয়ে যায় দুচোখ মেললেই..
ম – তুমি কেন বুঝতে পারো না, এতে যে আমার কষ্ট বাড়ে, ভীষণ কষ্ট হয় আমার
নি – তাই বুঝি? এসব আমার কাছে এখন বড্ড হাস্যাসকর। বল না, তুমি অন্তত। বড় লোকের ব্যবসায়ী ছেলের হাত ধরে যেদিন মা বাবার শান্ত শিষ্ট মেয়ে হয়ে আমায় ছুড়ে ফেলেছিলে, সেদিন একবারও মনে হয় নি তোমার আমার কথা। আজ কেন দরদ দেখাতে আসছ?আমি তো তোমার সুখে বাঁধা দেয় নি কখনো।
ম – সুখ ! সেটাই বা কোথায়?
নি – সেকি? এত অর্থ ,প্রতিপত্তি..
ম – ওসব জীবনের সব কিছু নয় নিলয় ! আজও আমার ইচ্ছে করে তোমার বুকে মাথা রেখে আমি নিশ্চিন্তে চাঁদনী রাতে তারা দেখি, তুমি…
নি – plz , এসব বল না।শুনতে ভাল লাগছে তোমার মুখে
ম – বিশ্বাস কর, নীল, বিশ্বাস কর, আমি বড্ড দুঃখী। সেদিন আমি যা করেছিলাম ,সেটা আমার ব্যর্থতা , সে কথা আমি আজও কাউকে বলতে পারিনি
নি – কেন সুখী নও? বর বুঝি ভালোবাসে না?
ম – ভালোবাসা ! শব্দ টাই ওর ডিকশনারি তে নেই। সারাদিন ব্যস্ততা। আমার দিকে তাকাবার সময় কোথায়। শুধু টাকা ,টাকা. ..
রাতে বিছানায় এলে সারাদিনের ক্লান্তি পেয়ে বসে তার। আমি খুব একা নীল,খুব একা।নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হয়…
নী – তাই বুঝি ! বর আদর করে না বুঝি ?
ম – আদর ! করে বইকি! নিজের টুকু পূর্ণ করে অন্য কারো মন ভরলো কি ভরলো না, ওসবে খেয়াল থাকে না তার।
নী – আর কিছু বলবে? ঘুম পাচ্ছে আমার।
ম – আমায় avoid করতে চাইছ?
নী – না, তা কেন? তাহলে তো ফোন টাই ধরতাম না। আসলে কি জান ,মধু, তুমি এখন অন্যের স্ত্রী, অনেক রাত ,এত রাতে কথা না বলাই ভালো, আর তাছাড়া আমি তোমার সাথে কথাও বলতে চাই না।মিছেমিছি কষ্ট বাড়িয়ে কি লাভ!
ম – কষ্ট পাও তবু!!!
নী – সেতো পাই। আমি তো তুমি নই যে ..
ম – তুমি আমায় ভুল বুঝছ নীল, কষ্ট তো আমিও পাই। ভুলতে পারি কই তোমায় ! এখনও ইচ্ছে করে তোমার কাছে ছুটে যাই।তোমার একটু ছোঁয়ায় নিজেকে উপলব্ধি করি। আমি হারিয়ে গেছি নীল,হারিয়ে গেছি।
নী – এরকম বল না।তুমি নুতন কিছু ভাব । নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাক। তুমি আমার ছিলে না,তাই হয়তো আমার হয়েও হও নি।
ম – আমি জানিনা। কিন্তু তুমি যে আজও আমার মনে ঝড় তুলে যাও। আমি সেই ঝড়ে উড়তে চাই। লন্ড ভন্ড হতে চাই, আমার দেহ মন সেই ঝড়ে সমস্ত বাঁধন গুলো ভাঙতে চায়, একবার দেখা করতে চাই, নীল,একবার..
নী – সম্ভব নয়,আমার আর নুতন করে তোমাকে দেবার কিছু নেই।সবই নিয়েছ তুমি ।আমি এখন একটা লাশ। এ লাশের গন্ধ বেশি, তুমি সেই দুর্গন্ধে পচে যাবে, আমি তা চাই না মধু, তোমার স্কুল , তোমার কলিক এসব নিয়ে নুতন জগৎ গড়ে তোল, যারা তোমায় ভালোবাসে ,তাদের নিয়ে নুতন করে ভাব। আমি তোমায় ভালোবাসি কিন্তু আর কখনোই কাছে পেতে চাই না।
ম – কেন পেতে চাও না,কেন? অথচ একদিন তুমি পাগল হয়ে হন্যে দিয়ে ছুটতে আমার জন্য। আর আজ যখন আমি আবার তোমার কাছে আসতে চাইছি মনে প্রাণে,তখন তুমি….
নী- তা আর হয় না মধু। তুমি অনেক উঁচুতে বাস কর, পাহাড় চূড়ায় তোমার ঘর, আমি সমতলের আঙিনায় আমার স্বপ্ন গুলো কবর দিয়েছি, আমি ভেঙেছি বার বার, ভাঙতে ভাঙতে তরী পারে নোঙ্গর বেঁধেছি, সে তীরে যে তোমায় সাথে নিতে পারবো না,মধু, তুমি তোমার সোহাগ আর আদরের জীবন নিজেই ছেড়ে এসেছ, আমি সেই সোহাগ আর আদর কে ভাসিয়ে দিয়েছি ,আমার কাছে আর কিছু নেই..অন্তত মিথ্যে প্রেমের চোখের ইশারায় আমি আর ডুবতে রাজি নই, সে সুখের আশায় তুমি আমায় প্রত্যাখ্যান করেছিলে, সে সুখ তুমি ফিরে পাও, আমি সেই প্রত্যাশাই করি…আমি রাখছি ..
ম – নীল, নীল,না ফোন টা রাখবে না ,আমার যে খুব ইচ্ছে করছে সারারাত জেগে তোমার সাথে কথা বলতে,plz
নী – কি লাভ তাতে? তাতে কষ্ট বাড়ে,যন্ত্রণা বাড়ে..
ম – বাড়ে বাড়ুক, আমি সে যন্ত্রণার আগুনে পুড়তে চাই। ছাই হতে চাই, নিজেকে উদ্ভাসিত করতে চাই তোমার দেয়া আগুনে পুড়ে, সেই আগুনে আবার তোমাকেও ঝলসে দিতে চাই। আমি যে বড্ড অসহায় নীল, আমায় আর একবার কাছে ডেকে নাও, আমায় পুড়িয়ে দাও. আমি তোমার বুকে মাথা রেখে চিরনিদ্রায় সব ক্লান্তি গুলো দুর করতে চাই…
নী – মধু, মধু , তুমি কি পাগল হয়ে গেলে? মধু ,মধু ,কি হল, কি হয়েছে তোমার? কেন এমন করে বলছ? মধু, মধু,শুনছো, একি কোন সাড়া নেই কেন? ফোন টা কি কেটে দিলে? মধু, মধু,শোন, আমি যে আজও ভালোবাসি তোমায়, তোমার সুখে যে আমি বাঁধা হতে চাই নি,তাই মধু ,মধু ,.. কি হল,কথা বলছো না কেন? কেটে গেছে ফোন টা? ঠিক আছে,আমি করছি..
রিং বেজে ওঠে ফোনের ।ও প্রান্ত থেকে…
হ্যালো,( একটি পুরুষ কন্ঠ)
নী – হ্যালো, এটা কি ৭৪৮৪?
পু – হ্যা,কেন বলুন তো?
নীল – মধুপর্ণা ?
পু – সে তো নেই?
নী – নেই মানে?
পু – সে আজ চারদিন হল ক্যান্সারে মারা গেছে…..
নীল – কি .. ..
( আবেগ রুধিত কন্ঠে কান্নায় কেঁপে উঠল নীলের কন্ঠ।নির্বাক নীল কিংকর্তব্য বিমূর)
©আজিজুল হক
২০/৬/২৩