এইটুকু থেকে যাক
এইটুকু থেকে যাক
———- প্রতাপ মণ্ডল
তুমি বারবার জিজ্ঞেস করো কেনো বলোতো?
তোমায় চিনি কিনা! সত্যি বলছি তোমায় চিনি না।
বারবার ভেবেছো, কিন্তু দেখাও নি মনের ক্ষত।
তবে অনেক মানুষই অচেনা থাকে, তারপর তারা-
কেউ হয়ে ওঠে প্রিয়জন, কেউবা হয় বড়ই আপন!
কত অধরা স্বপ্ন আবার দু-চোখ কেমন আঁকে….!
জীবনের পথ চলতে গিয়ে এমন হয় কত পরিচয়
সবাই থাকে না মনে, হারিয়ে যায় তারা কোনোখানে
কোনো পরিচয় আবার, কিছুতেই ভুলবার নয়….!
তুমি তো আমার ক্যানভাসে বেশ উঠছো ফুটে!
এইতো একটু একটু করে তোমায় জানছি, চিনছি
কে আর জানে বলো! পথের বাঁকে কার কি ঘটে!
কতবার তো ভেবেছো, অচেনার ভান করে চলে যাবে
পেরেছো যেতে? আর যেতে পারবে না কোনোমতে!
জীবনের এই সন্ধিক্ষনে এসে কোথায় আর কি পাবে!
জানি তোমায় কোনোদিন কিছু দিতে পারবোনা আমি
তুমিও কি পারবে আমায়! তবু যদি ভালো থাকা যায়!
এইটুকু থেকে যাক, হোক না জীবনের সবচেয়ে দামী!
নাইবা হলো দেখা আমাদের, হোকনা কিছু ভাব বিনিময়
কিছু স্বপ্ন আঁকতে পারি যদি, অশ্রুতে বান ডাকুক নদী
হৃদয়ে সযত্নে লালিত হোক না আমাদের এই পরিচয়…!
আমার একাকিত্বে
আমার একাকিত্বে
———– প্রতাপ মণ্ডল
এ কি, আশালতা! তুমি ফিরে এসেছো?
না… না, তা কি করে হয়! তুমিতো চলেই গেছো…..
সব আমার ভ্রম, রোজ ভালোবাসার মূল্য দিচ্ছি চরম।
কিছু রজনীগন্ধার স্টিক নিয়ে এসেছি, অফিস থেকে ফেরার পথে।
সাদা ফুলদানিটায় সাজিয়ে রাখলাম, মাঝখানে একটা রক্তগোলাপ।
কিছুক্ষনের মধ্যে সারা ঘরটায় একটা মিষ্টি গন্ধে ভরে গেলো।
চুপচাপ বসে থাকতে থাকতে, অতীতের কত কথা মনে পড়ে গেলো।
আমি অফিস থেকে ফিরলেই তুমি ফুলগুলো নিয়ে ঠিক এমনি করেই সাজিয়ে রাখতে
কতবার তাদের হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখতে, আর বুকভরে নিতে শ্বাস।
ঘরের সামনেই মাটির টবে লাগিয়েছিলে জুঁই, বেলী…..
দমকা হাওয়ায় নধর, সুপুষ্ট ফুলগুলো থেকে একঝলক গন্ধ ঘরে ঢুকে পড়তো।
সে এক অদ্ভুত গন্ধ, তুমি কেমন নেশাগ্রস্ত হয়ে যেতে…..!
গাছগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখতে । আচ্ছা, গাছগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে কি দেখতে?
তুমি কি ওদের তোমার নরম হাতে আদর করতে?
আমিও এখন তোমার মতো রোজ গাছগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখি।
আজ তুমি সারাঘরে আর কোত্থাও নেই, তবু দেখো এইতো ছিলে সেদিন।
আমি রোজ ফুল নিয়ে আসি, রোজ ফুলদানিটা টাটকা ফুলে সাজিয়ে রাখি
যদি তুমি হঠাৎ করে কোনোদিন ফিরে আসো! ওই, ভালোবাসো? বলো না, ভালোবাসো?
জানি, আর ভালোবাসো না আমায়….! নাইবা ভালোবাসলে! স্মৃতিদের কি ভোলা যায়!
এই ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে তোমার কত অসংখ্য স্মৃতি……
আমি ওদের হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখি, জানো! তোমার স্পর্শ পাই।
যদি কোনোদিন ফিরে আসো, একটা প্রশ্ন করবো তোমায়
চিৎকার করে জিজ্ঞেস করবো, কেনো চলে গেলে বলোতো অবেলায়?
আমি কি তোমায় কোনোদিন একটুও সুখ দিতে পারিনি?
জানো! সারা ঘরময় রজনীগন্ধার সুবাসে ভরে গেছে……
একটু একটু করে তোমার অস্তিত্ব টের পাচ্ছি, ওইতো তুমি…!
নীল শাড়িতে কি অপূর্ব লাগছে তোমায়! ধীরে ধীরে আমার দিকেই এগিয়ে আসছো
এখন ঠিক আমার পিছনে দাঁড়িয়ে, তুমি কেমন মিটিমিটি হাসছো!
ভাবছো, খুব জব্দ করেছো তাইনা? তুমি জানো?
আমার একাকিত্বে তুমি আরও বেশী করে প্রকট হয়ে ওঠো…..
এসো না কাছে, আরো কাছে! আমার হাতে রাখো, তোমার হাত দু’টো…..সম্পূর্ণ
তোর সাথে
তোর সাথে
———- প্রতাপ মণ্ডল
আমি ঝড় হতে চাই —–
আমি হতে চাই সুন্দরী ঝরণা,
ঝিরঝির পড়বো ঝরে তোর বুকে
তুই একটু ভালোবাসবি আমায় কন্যা?
আমি তোর হাতের চুড়ি হতে চাই
হতে চাই টুকটুকে লাল পলাশ,
আমি হতে চাই জোৎস্নাভরা রাত
ভালোবেসে তু্ই যদি মন দিয়ে যাস… !
আমি পথ হতে চাই —–
হতে চাই মজুর-মুটে ও কুলি,
আমি হতে চাই বিন্দু বিন্দু ঘাম
যুগ যুগ ধরে তোর সাথেই পথ চলি।
আমি নদী হতে চাই ——
হতে চাই নৌকোর ছেঁড়া পাল,
আমি ভেসে যেতে চাই যুগ থেকে যুগান্তরে
তোর সাথেই কাটাবো অনন্তকাল…..
কি রে? ভালোবাসবি তো আমায়?
আমি শুধু তোর হয়ে থাকতে চাই।সম্পূর্ণ
প্রাগৈতিহাসিক
তুমি বলবে মাটি, পানি, বায়ু ও আগুনের
ভুল বিশ্লেষণ?
আমি বলবো প্রথম আগুন আবিষ্কারে
ভালোবেসে ফেলেছিলাম তোমাকে!
আদিম মানুষের আদিমতা ভেদ ক’রে
উঠে যেতে থাকি ক্রমশ তোমার
পায়ের আঙুল-নখ-ঊরু;
নিতম্ব-কোমরের লাজুকতায় ছুঁয়ে দিয়েছি
নাভিমূল স্পর্শে শিহরিত হয়েছিলাম।সম্পূর্ণ
চাঁদ ভেবে তোমাকে লুটি
উড়িয়ে দিলাম একখন্ড কৃত্তিবাস,
আর্যপুত্র চোখ ফিরে যাক রোদ্দুরে।সম্পূর্ণ
সমুদ্রের জল দিয়ে আঁকি
রতিলোলুপ হিমেল হাওয়ায় ভেসে বেড়ায় শুধুই
তোমার মুখ!
এই বিশাল সমুদ্রের জল দিয়ে আঁকি তোমার
একখানা পোট্রের্ট সম্পূর্ণ
প্রণয় পিপাসা
কুমারী কিংবা সাত্ত্বিক নারীর সৌন্দর্য বিস্মরণ ঘটায়
বুকের ভেতরটায় নিঃশব্দে কেঁপে ওঠে বারবার !
সম্পূর্ণ
বিষাদ পাহাড়
প্রিয়তমা,এই বিস্তৃত
পাহাড়ের পাদদেশে
যেখানে মেঘমালা পাখি হয়ে উড়ে আসে
নিমিষেই মিলায়।সম্পূর্ণ
ডাকচিঠি-১২
কোনো এক সুন্দরীর নরম গালে
কালো তিলেরা তারা হয়ে জ্বলে;
আমার তারা ভরা আকাশ
রাত জাগে প্রেমের শব্দ
অভিমানে রাতের জোনাকি
নীলাকাশে মিশে হয় আলো।সম্পূর্ণ
ডাকচিঠি-১৫
নক্ষত্র বুঝি চেয়েছিল অমরত্ব লাভ করতে
নাকি ইউক্রেনের সৈন্য পরাজয় পেয়েছিল
তিলোত্তমা নগরীর দ্বারপ্রান্তে !!
বনানীর প্রান্তরে সূর্য গেছে ডুবে
জীবন হারিয়ে অভিশাপ কাল্পনিক মিউজিয়াম
আমি নিমিত্ত সমাধি সবুজের পাতায়।।সম্পূর্ণ