| কবিতা | গরুমারা |
| কবি | তারাপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় |
| কাব্যগ্রন্থ | তরঙ্গ |
| সময় | 26 নভেম্বর, 2023,সকাল |
| লিখার স্থান | শান্তিনিকেতন, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। |
| সম্পৃক্ততা | গরুমারা জঙ্গল ভ্রমণ |
| কবিতার বিষয় | প্রকৃতি |
বঙ্গের উত্তরে গরুমারা জঙ্গল মাঝে
করেছি প্রবেশ আমরা দু’জনে খোলা জিপে।
লাটাগুড়ি জনপদের অরণ্য নিবাসে
লয়েছি আশ্রয় মোরা জঙ্গল সমীপে।
প্রবেশ পত্র লয়ে হাতে পেয়েছি এক গাইড সাথে
উঠে বসি খোলা জিপে দ্বিপ্রাহরিক ভ্রমণে।
কার্যালয়ের আঙিনা ছাড়ি জিপ খানি দিল পাড়ি
সুন্দর রাজপথ ধরি জঙ্গলের পথ পানে।
দু’ধারে ঘন জঙ্গল সবুজে সবুজ
পথে লেখা সতর্ক বাণী, চকিত নেত্র।
চিত্র যোগে রয়েছে লেখা
হস্তির পারাপার ক্ষেত্র।
দু’পাশে বনেরে ফেলি
দ্রুতবেগে যানে ছুটিয়া চলি,
অবশেষে দেখিনু বাধা দাঁড়ায়ে প্রবেশ দ্বারে।
বাম হাতে চায়ের বাগিচা বিস্তীর্ণ প্রান্তরে।
যতই এগিয়ে যাই বিচিত্র শব্দ শুনিতে পাই
কোনটা পাখির, কোনটা পোকার।
এপাশে ওপাশে ময়ূরের দল
সংগ্রহ করিতে ব্যস্ত আপন আহার।
তৃতীয় প্রহরের সূর্য দিতেছেন উঁকি
সংকীর্ণ ছিদ্র পথে জঙ্গলে দিয়ে ফাঁকি।
প্রবল হাওয়া বহিয়া যায়
কেশ রাশি মোর উড়িতে চায়,
হাওয়ার দাপট প্রতিহত করি
দেহ মন মোর ভ্রমিতে চায়।
গন্তব্য সীমা ওয়াচ টাওয়ার যাত্রাপ্রকাশ
এল অবশেষে আঁখির সকাশে বনের মাঝে
সেই টাওয়ার।
যেন নীরব বাণী অলক্ষ্যে ধ্বনিয়া
বলিল সময় হয়েছে ফেরার।
সেই টাওয়ারের পাশ দিয়ে চলেছে বয়ে
এক অর্ধ শুষ্ক প্রবাহ,
তারই মাঝে মাছেদের খেলা
চলিতেছে যেন অহরহ।
শীর্ণ প্রবাহের অপর পারে
বাইসনের দল,
এক ভূমি ‘পরে বিচরণ করি দৃষ্টি হরি
করিল জঙ্গল সফল।
আসা যাওয়ার পথে পথে স্থানে স্থানে
প্রবেশিল কর্ণ কুহরে অবিমিশ্র ঘণ্টার ধ্বনি।
পোকার কম্পন করিল মগন
অভিভূত আমি বিচিত্র সে ধ্বনি শুনি।।