| কবিতা | জোকার-১ |
| কবি | রাকিবুল হায়দার |
| সময় | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ |
| উৎসর্গ | আমাকে |
| লিখার স্থান | রামপুরা, ঢাকা |
পৃথিবী থেকে যেদিন সার্কাস বিলুপ্ত ঘোষিত হলো,
সার্কাসের এক জোকার সোজা গিয়ে বসলো বিয়ের পিঁড়িতে,
তারপর রঙ মেখে সঙ সেজে ঢুকে পড়লো বাসররাত্রিতে,
সারা রাত ধরে নাচলো, গাইলো, সার্কাসের বিচিত্র সব খেলা-
দেখিয়ে মুগ্ধ করতে চাইলো নববধূকে!
বাসরঘরে স্বামীকে আগলে রাখা বেহুলার ইতিহাস জানা-
নববধূও স্বামীর প্রতিভায় মুগ্ধ হলো, হাসলো, হাততালি দিলো!
বোকা জোকার ভাবলো, এই বুঝি জীবন! এই বুঝি সুখ!
ছেঁড়া কাপড়ের প্যান্ডেল থেকে বেরিয়ে কি সুন্দর দেয়ালঘেরা সংসার!
কিছুদিন ঠিক এভাবে কাটলো, জোকার নাচে আর নববধূ হাসে!
তারপর হঠাৎ একদিন বধূর আঁচল থেকে বেরিয়ে পড়লো বাজারের ফর্দ,
জোকার তার জামা থেকে পাখি, ফুল, প্রজাপতি সব বের করে দেখালো,
কেবল কাগজের নোটে লেখা বাজারদর খুঁজে পাওয়া গেলোনা কোথাও!
বোকা জোকার আবারও ভাবলো, আনা যাক কিছু খুচরো পয়সার ঝংকার!
চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে সে দেখালো সার্কাসে শেখা বিদ্যে,
লোকের আমোদ হলো, তারা ছুঁড়ে দিলো কাগুজে নোট, খুচরো পয়সা!
বাজারের ফর্দে কিছু বাকি থেকে গেলেও সুখ এলো ঠিকঠাক!
তারপর একদিন লোকেদের কাছে একঘেয়ে হয়ে উঠলো সব খেলা,
জোকারের বিদ্যে আর পয়সা কুড়াতে পারেনা কিছুতেই,
অথচ নববধূও ততদিনে আয়ত্ব করেছেন সংসার আর স্বামী সামলানোর বিদ্যে,
আয়নার সামনে দাঁড়িয়েও পাকা গৃহিণীর মতো সন্দেহবাতিক হয়ে ওঠেন,
যেহেতু জোকারের খেলায় অন্তত একবার হেসে ফেলেছিলো, তাই-
পাড়ার ঝি থেকে মাসী কেউ তার সন্দেহের বাইরে নয়,
জোকার রোজ রোজ পয়সা কুড়াতে গিয়ে খালি হাতে ফেরে,
আর গৃহিণী তার সমস্ত শরীর থেকে খুঁজে নিতে চান অচেনা নারীর ঘ্রাণ,
তাদের দূরত্ব বাড়ে, বাড়ে ভালোবাসার উচ্ছিষ্ট জমানো বিছানা-বালিশেরও দূরত্ব,
একদিকে মুখ করে মাথানত করে বসে থাকা জোকার খোঁজে খুচরো পয়সার গতিপথ,
আর অন্যদিকে মুখ করে শুয়ে থাকা অনেককাল আগের এক মুগ্ধ নববধূ ভাবেন,
শালার ভাতার, ভাত দিতে পারেনা, অথচ ঠিকই বসে বসে ভাবে অন্য নারীর কথা!
