কবিতা শীতের আগমনে
কবি নিলুফার গনি
কাব্যগ্রন্থ মেঘ বৃষ্টি রোদের দেশ
সময় ডিসেম্বর ২০২৩
উৎসর্গ আমার বড়ভাই ও বড়বোন কে
লিখার স্থান বনানী, ঢাকা
সম্পৃক্ততা শীতের প্রাবল্য
Review This Poem

দীগন্ত ঢেকেছে সফেদ চাদরে,
বাতাসে বহে কুহেলী ঝিরঝির।
পাতায় জড়ানো শিশিরের নীর,
তরুপল্লব কাঁপছে থর থরে।
ঝরে পড়া পাতার মর্মর ধ্বনি,
বিষাদিত সাজে সাজায় অবনী।
নিস্তরঙ্গ মৃদু নদীর মতন,
দাঁড়িয়ে আছে মলিন গগন।
আসা যাওয়ার বৃত্তের বলয়ে
ঘুরে ফিরে আসে কালের সাথীরা!
শিরশির জরা উত্তরা মলয়ে,
ডাক দিয়ে যায় হিমের পাখিরা।
গভীর নীরবতায় শান্ত সায়ন্তনী,
সম্ভাসন জানায় শীতের আগমনী।
শীর্ণ মহীরুহ শূন্য দীগন্ত তটে,
নিঃস্ব শাখাসনে বিষন্ন ললাটতটে।
পূর্ণতার তরে প্রতীক্ষমান অকপটে,
সুপ্ত বসন্তের রেখা আঁকে চিত্রপটে।
হিমঝরা কনকনে আঙ্গিনায়-
আনমনা বধু উনুনের পাশে।
গুড় নারকেলের পিঠার ধোঁয়ায়,
মগ্ন কচির দল মহা উল্লাসে।
মিষ্টি রোদের সুকোমল ছোঁয়ায়,
রঙ্গনা জাগে নবপ্রাণের দোলে।
মুক্তো রাগে শিশির এর ফোঁটায়,
টুপটাপ ঝরে মৃত্তিকার কোলে।
সর্ষে ফুলের সোনালী গালিচায়

যেন যাদুর কাঠি ছুঁয়েছে কেউ!
মৌমাছির মেলা পুষ্পবাগিচায়
দোল দিয়ে যায় হলুদের ঢেউ!
প্রলম্বিত রাতের ঘন আঁধারে
যেন ঠান্ডা সাপ জাপটে ধরে!
মুমূর্ষু বৃদ্ধের শীর্ণ আঁখিবিবরে
একফালি রোদের তৃষ্ণা ঝরে।
খেটে খাওয়া চাষী শীতল হাতে
জ্বলন্ত খরকুটোর তাপ ছুঁয়ে প্রাণে,
হিমেল শরীরে উষ্ণতা আনে।
শক্ত হাতে কোদাল ধরে প্রাতে,
আকাশপাড়ের একমুঠো রোদে
প্রাণের সুর বেজে উঠে সরোদে।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted