| কবিতা | কোন ছায়া নেই |
| কবি | মামুনুর রহমান |
| কবিতার বিষয় | অন্যান্য |
কোনো ছায়া নেই মধ্যে নিশীথের রুপান্তারিত জ্যোৎস্নার নীলবনে;
হয়তো অনেকগুলো কোমল পদস্পর্শ দেখেই পা বাড়িয়েছিলাম
চেনা পথে পা রাখলাম আশ্চর্য কল্পনার শরীরে; খুব আস্তে-আস্তে,
ধীর শান্তভাবে; সবুজ বন পেড়িয়ে, মাঘের নিস্তব্ধতার অরণ্যেয়
এগিয়ে গেলাম অনেকদূর, অতীতের হিমগর্ভে ফাল্গুনের বাতাসে,
সন্ধ্যার হিমে, গভীর সৌন্দর্যময় চেনা মুখগুলোও খুব বেশী অচেনা
হ’য়ে উ’ঠে অমল নক্ষত্রে; কুয়াশায় ঝ’রে পড়া লাল মেঘে মুগ্ধরাতে
পাশের অচেনা মানুষটি, ছায়ার নীচে যে ভেঙে প’ড়ে হেমন্তের হিমে;
পবিত্র শ্লোক উচ্চারণ ক’রে চেয়ে নিল রঙিন মুদ্রা; নীল জ্যোৎস্নায়
আমার স্বপ্নিল বাহুতে তাঁর ছোঁয়া, দিগন্তের নীলাভ সবুজ বাতাসে;
গভীর অন্ধকারে নক্ষত্রের আলোতে ভেসে আসে নিরর্থক প্রার্থনা;
তাঁর অলৌকিক বাণী আমাকেও দীর্ঘজীবী ক’রে অমল মসৃণ ছোঁয়ায়
ছায়াগুলো বহুদুর এগিয়ে গেল স্বপ্নের নিবিড়তায় আকাঙ্ক্ষার গহ্বরে-
নির্জনতার হারানো শিশিরে; নিঃশব্দ হৃদয়ের গভীর উষ্ণ শব্দ ক’রে।
আমাকে নিঃসঙ্গ করে, শূন্যলোকে মায়াবী ভাবনার বিস্ময়ে আঁধারে
ছুঁয়ে যায় সমুজ্জ্বল গাঢ় কুয়াশার নির্জনে, ভাবনার সিঁড়িতে রেখে যাই
তরঙ্গের নীল ঢেউ; শতাব্দীর শিশিরের জলে, আমার কোমল ঠোঁটে;
সকল প্রেমিকারা চ’লে গেছে শরীরের ঘ্রাণ ছড়িয়ে শেফালির বনে,
আমার ইন্দ্রিয়ে তাঁদের অলৌকিক সৌন্দর্য গেঁথে থাকে স্নিগ্ধ সমুদ্রে
ব্যর্থ আর কোমল ধ্বনি আমার মনে শ্যামল সবুজ ঝ’ড়ে পড়া হিমে,
শতাব্দীর দীর্ঘ পথে হেঁটেছি বিস্তীর্ণ দিকে অজস্র ধারায় সৌন্দর্যময়
একাকী রুপালি জ্যোৎস্নায়, নক্ষত্রের নীল মেঘে, শোভাময় সঙ্গীতে
রাতের আঁধারের নিবিড়তায়, অন্ধকারে শরীরের আবেদন তীব্র হ’য়ে
উ’ঠে শাদা হিমে; আশ্চর্য গাঢ় বিস্তীর্ণ ভেসে আসা আমার পৃথিবীর
কোমল ধ্বনি, উচ্চারিত হৃদয়ের ব্যর্থ প্রলাপ; নিঃসঙ্গ সন্ধ্যায় নিবিড়