বাংলা কবিতা, মৃত্যু ও দুর্গন্ধ কবিতা, কবি কৌশিক মজুমদার শুভ | কবিতা অঞ্চল
কবিতা মৃত্যু ও দুর্গন্ধ
কবি কৌশিক মজুমদার শুভ
4.3/5 - (3 votes)

মৃত্যুর গন্ধ পাই- মগজে- যেন সিলভার ঝলমলে বিকেলে ফরাসি পারফিউমের মতো আছড়ে পড়ে- দুর্গন্ধ এখনো পাইনি- হয়তো পাবে সময়ে- মাছের বাজারে গিয়েছি অনেক- অনেকবার, হাতে তুলে কিনেছি মরা-পঁচা ইলিশ ও ভেটকি- মৃত্যুর দুর্গন্ধে তর্জনী ও মধ্যমায় চেপে ধরেছি নাসারন্ধ্র।

আহ! বারবার, 

যেন গন্ধ পাচ্ছি- মার্কারি উচ্চতায় নেমে যাচ্ছে রক্তের অস্থির চাপ- যেন পড়ন্ত বিকেলের মতো আলো ধূসর হয়ে আসছে রেটিনায়-

যেন উষ্ণ প্রস্রবণ রক্তস্রোত, ফ্রিজারের হিমে জমে যাচ্ছে কর্টেক্সে।

ছেড়ে যাচ্ছি, যাচ্ছি ছেড়ে শেষবার নাবিকের মতো বন্দরে- মুখে পেটওয়ালা স্যাম্পেনের মতো সাদাসাদা চিঁড়চিঁড়ে ফ্যানা তুলে যেন- প্রেমিকার মুখ-বুক ফেলে।

মনে আসে,  ভেসে আসে স্মৃতিরা-অবিরাম সবুজ গালিচায় নিংড়ানো ঘাসেদের মতো- অবিরাম- এক, দুই গুণে যাই।  মনে পড়ে কোনো এক হারানো প্রেমিকার মুখ- জংধরা লবণাক্ত ঠোঁট ছুঁয়ে দেখেছি- ঠোঁটে।

ছেড়ে যাচ্ছি সব নারীদেরই বাদামী ক্লিটোরিসের আস্বাদন- সব ঠোঁটে চলে আসে- নাক দিয়ে বের হয়ে যেতে চায় শেষ সব নিঃশ্বাসে।

ছেড়ে যাই আমি, বহুগামী নারীদের সব, ঘোড়ার মতো ঘুরে ঘুরে কেবল পৃথিবীর উঁরুতে ভর করে উড়তে চায় যারা- নিরন্তর, অস্থির- পিস্টনের মতো যান্ত্রিক টানে- অনিন্দিতার আলুলায়িত বুকের নকশার ভাঁজে ভাঁজে প্রেমিকদের ঘামে ভেজা লকলকে জিভ- সব স্মৃতি উড়ে যায়, ভনভন ধাতব সব, গণিকার ভৌতিক ঋতুস্রাবের গল্পের মতো।

পাঁজরে আটকে যাচ্ছে হৃদযন্ত্রের প্রিয়ডিক ফাংশন- বহুকে আমি আগে মরে যেতে দেখেছি- বাবা-দাদু-ভাই, মরে গেলে দেখেছি অনেকেই, অনেকের শরীর থেকে কেবল ছড়ায় কৃত্রিম দেশী আতরের সুবাস- অথচ রাস্তায় ছ্যাঁতলে থাকা কুকুরের শবের সাথে ফারাক হবার কথা নয় মানুষের- শুঁকে দেখতে চেয়েছি, ডিসেকসন রুমে অসংখ্যবার আমি পেয়েছি ফরমালিন ভেজানো চুপচুপে মরাদের গন্ধ- কেউই খাঁটি নয় তারা- তবু তদ্রুপ মরার মতো- মদ ও মাংস যেমন শুঁকে ছুঁয়ে দেখেছি নারীর উলঙ্গিনী শরীরের হাবভাব- গোলাপী ফুলের বোটায়- মজ্জায় লজ্জায় বারবার কেঁপে উঠেছে থলথলে পেট- সমুদ্রের স্রোত ঘুরে নেবে গেছে তরতাজা নাশপাতির অবতল মুখ- আরো নিচে কতোবার নেমেছি- তবু বহুবার সঙ্গম শেষ করে স্পষ্ট রাত জেগে দেখেছি- এর চেয়ে ভালো নাবিক হয়ে অত্যাচারী পালের দিকে চেয়েচেয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়ানো।

তবু সূর্য পালালে- কেঁপে কেঁপে উঠেছি- ভুলে গেছি সব- সহজাত সব যেন চামড়ায় চামড়ায় মেমব্রেনের ঘষামাজার উৎসব- বুকের ফুলেফেঁপে ওঠা ফুলকপি বিছানায় শুয়ে- বসে অনেকবার-ভেবেছি- বারেবারে নষ্ট হওয়া মানুষের সহজাত।  

অজস্র পৃষ্ঠায় আমি দেখেছি- জরাগ্রস্থ ও জরাহীন- যুবা ও বৃদ্ধা,  দেখেছি কি করে থেমে যায় বুকের আচমকা পরিচিত ওঠানামা- অথচ এরাই একদিন পিতার মৈথুনে একখানা স্পার্ম হয়ে দৌড়েছে- যোনির গভীরতায় শুয়েছিলো- যোনির হৃদয়গর্ভে- কর্ড ছিঁড়ে বের হয়ে এসেছে অস্থির হৃদয়ের চলাচল মুঠো করে- পৃথিবীর প্রথম শিশুর মতোই অনিচ্ছায়- একদিন এরাই কিশোর হয়ে লুকিয়ে দেখেছে অন্য নারীর অন্তর্গত দৃশ্য- মুরগির পোড়া পিঠে দাঁত চালাতে চালাতে ভেবেছে- আলতো শুভ্র স্তনের গল্প- ভেবেছে অন্তর্বাসের হিপনোটিক স্বভাব- তাকে শিখে নিতে হয়নি নামতার মতো আত্মমৌথুন। এরাই যুবতী হয়ে ভুগেছে প্রথম ঋতুস্রাবের আশংকায়- যুবকের লোমওয়ালা বুক নিয়ে গ্যাছে দূর স্বপ্নে- যোনি মেলে ধরেছে- খুলে দিয়েছে কোমড়ের গেঁড়ো ও গাঁথুনি- যোনি উন্মুখ করে জন্ম দিয়েছে পৃথিবীর বৃহদাকার জঞ্জালে- ভেসে আসছে সব, জোয়ারের পানার মতো।

বুজে আসছে শৈশব- কোলেকোলে নারীদের স্তন ছুঁয়ে লেগে থাকা- বোঁটা পেলেই কামড়ে ধরতে চেয়েছি যখন- মায়ের স্তন চুষে যে আমি বড় হয়েছি- যুবক হয়েও আমি ছাড়তে পারি নি স্তনের অভ্যাস। প্রেমিকার কাছ থেকে আমার চুরি করে নিতে হয়েছিলো লজ্জা- যেমন নারীর স্ব-ইচ্ছায় না বলে, গুমড়ে থাকে- যাদের খাবলে নিতে হয়- কুকুরের মতো কাড়াকাড়ি করে।  মরে যাচ্ছি,  ছেড়ে যাচ্ছি- শেষ সব প্রেমিকারা- যারা ছিলো না কোনোদিন- ঠোঁটের জেরক্স ছেপে দেয়া যায়নি চুমু- ভঙ্গুর সব প্রিন্টারে- ছেপে দেয়া যায়নি শরীরের বাঁকানো মাস্তুলে, শৈল্পিক নান্দনিক ঢঙে- আঙুরির টসটসে পেয়ালায় চুমুক দিয়ে ছিপ করে টেনে নেয়া হয়নি সবটুকু তরল, আপসোস হয় কিনা!

বিছানা ভিজে আসছে হয়তো শেষ ঘামে, নাক ভরে আসছে শ্লেষ্মায়, শেষতক লড়ে যেতে হবে আমাকে একফোঁটা বাতাসের জন্যে- যদিও জানি আর হেসে উঠবে না ব্রঙ্কাস- এমন জানলে অনেক আগেই হয়তো ট্রিগার টেনে মরে যেতাম- উইট ফিল্ড উইদ ক্রোজ- এক ঝটকায়- ঘিলু;  থকথকে-জেলির মতো।

ভেবেছিলাম গর্ভাশয়ে বীর্যের প্রতিস্থাপনে বেঁচে থাকা যায় অপত্যের ভেতর- দেখেছি বৃদ্ধ বয়সে শুকনো হয়েছিলো টেস্টিস- অচল জীর্ণতা চারিদিকে দেখে ভেবেছি- যতো বেশি করে শুক্রাণু ছড়িয়ে যায়- সাক্ষাতে ডিম্বানুর অন্ধকার গহ্বরে পেট চিঁড়ে ঢুকে যায়- ধারালো ছোরার মতো।  এখন পৃথিবীর চমৎকার অন্ধকার ও আলো- বুজে আসছে আমার চোখের কবাটিতে- মনে হয় পৃথিবীর সাথে থাকবে না কোন কপিরাইট সম্বন্ধ- সবকিছু ভুলে উড়ে যাচ্ছে যেন চোখের সামনে সব স্বমেহনে নষ্ট হওয়া ভ্রূণের সম্ভাবনা ও জরাময় কবিতা- এলুমিনিয়াম প্রলেপ টেনে বন্ধ হলো সব ধূসর পান্ডুলিপি।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted