| কবিতা | আমি |
| কবি | হাসান জীবন |
| সময় | ২১ অগাস্ট ২০০৬ |
| লিখার স্থান | রংপুর |
| কবিতার বিষয় | বিরহ |
আমি, ও আমি।
বলো না আমি কে?
আমি কি পৌষের রাতে ছেঁড়া কাঁথা?
না কি হাওয়ায় উড়া শুকনো বাঁশ পাতা?
কে আমি? আমি কার?
অন্ধকার। অন্ধকার।
দু চোখের পাতা জুড়ে শুধুই আমার।
জীবনের অলিগলি দু'পায়ে মাড়িয়ে
ছোট ছোট কতগুলো স্বপ্ন নিয়ে
এসে দেখি শেষটা কি শুধুই ফাঁকা?
ধবধবে বিশাল একটা ক্যানভাসে
কেবল কিছু নীল স্কেচ আঁকা?
আর। আজ এই মস্ত বড় শহরের
ব্যস্ত কোন হাইওয়ে'তে।
জীবন নামের রেসকোর্সের
ধুসর একটা রানওয়েতে।
আমি?
আমি হয়তো ছুটে চলা ক্লান্ত কোন অ্যাথলেট।
আমার হাত ক্লান্ত।
আমার পা ক্লান্ত।
আমার দু'চোখের পাতা ক্লান্ত।
আমার হৃদয় নামের যে ছোট্ট ওয়েল ইঞ্জিন
সেটাও ক্লান্ত। আমার এই ক্লান্তি উড়িয়ে দিয়ে আসে
ইট পাথরের কংক্রিট সম এক শব্দময় বাস্তবতা।
এটা কোন বর্ণিল আলোকছটার সুখ আচ্ছন্ন
উৎসব নয়। বিধ্বস্ত রাজনীতির রঙ করা স্বপ্নিল
কোন ভাষণ নয়। বরং দশ'টনি ট্রাকের পিছনে
উপছে পরা দুঃখ নিয়ে শক্ত হাতে ধরে থাকা
নড়বড়ে স্টিয়ারিং। আমি আর পারছি না।
সারা রাত্রি ধরে কল্পনার রাজকন্যা
আর সকাল বেলার হালকা রোদে'ই বাষ্প হয়ে
যাওয়া শিশির বন্যা।
তারপর।
তারপর আবার সেই পুরোনো পথ।
মজিদের চায়ের দোকান।
এলোমেলো কথার ফুলঝুরি।
ঝলসে কালো হয়ে যাওয়া তৈলাক্ত পারাটা।
আর সস্তা এঙকরের ডাল।
তারপর। হয়তো এক কাপ চায়ের সাথে
চার ইঞ্চি একটা গোল্ড লিফ।
সুরকি টান। ধোঁয়া ধোঁয়া। বিষ বিষ।
মাঝে মাঝে নিজেকেও মনে হয় তা'ই।
এই বুকের মধ্যে আগুন ধরিয়ে
কেউ হয়তো টানছে, টানছে আর টানছে।
জ্বলে পুড়ে ছাই।
প্রায়ই শোবার ঘরের দেয়ালে টাঙানো
ফ্রেমহীন আয়নাটার সামনে দাঁড়াই।
ওপাশে আমার নেশাতুর প্রতিবিম্ব
আর এ পাশে আমি।
নিজের অজান্তেই একটা প্রশ্ন বেড়িয়ে আসে-
'কে তুমি? কে?'
আমার কাল্পনিক অথচ স্পষ্ট প্রতিবিম্ব
কোন উত্তর দেয় না তার।
শুধুই বলে যা আমিই তাকে বলেছিলাম-
'কে তুমি? কে?
আমার বাস্তবতার ওপাশে।'
