| কবিতা | কে আমি? |
| কবি | ইমদাদ হাসান ইয়ামিন |
| সময় | ২৯ আগস্ট ২০২৫ |
| উৎসর্গ | কাজী নজরুল ইসলাম |
| লিখার স্থান | মোহাম্মদপুর, ঢাকা |
কে আমি?
আমি ঝড়ের বুকে বজ্রপাত,
আমি দিগন্ত ফুঁড়ে আসা সূর্যোদয়ের আগুন,
আমি অন্ধকারকে ছিঁড়ে ফেলি এক লহমায়।
আমি কে?
আমি সে, যাকে শৃঙ্খলে বাঁধতে চেয়েছো শতাব্দী ধরে,
আমি যে আগুনকে বন্দি করতে চেয়েছো মুঠোর ভেতর,
আমি সে আগুন, যে তোমার হাতকেই জ্বালিয়ে দেয় ছাই করে।
আমি বীর, আমি দুর্বার,
আমি পথের কঙ্কর, অথচ সেই কঙ্করেই ভাঙে সাম্রাজ্যের রথের চাকা।
আমি তপ্ত লোহা, আমি গলিত লাভা,
আমি অগ্নির নৃত্য, আমি মৃত্যুর অস্বীকার।
কে আমি?
আমি কৃষাণের কণ্ঠে দাবির গান,
আমি মজুরের রক্তে লেখা ইতিহাস,
আমি নারী বন্দনার ভাঙা শৃঙ্খল,
আমি শিশুর প্রথম কান্নায় গর্জে ওঠা পৃথিবীর ডাক।
আমি সে বিদ্রোহী,
যে আঘাত হানে বজ্রের মত আকাশে,
আমি অগ্নিশিখার বুকে লেখা মুক্তির মন্ত্র,
আমি বিদ্রোহী আত্মা—
যার এক দমকা শ্বাসেই ভেঙে যায় মন্দির, কারাগার আর সিংহাসন!
কে আমি?
আমি পথহারা, আমি দিশাহীন, আবার আমি দিশারী,
আমি ধ্বংসের স্রষ্টা, আমি সৃষ্টির ধ্বংস,
আমি চিরশাশ্বত জাগরণের শঙ্খধ্বনি।
আমি কে?
আমি অচলায়তনের বিরুদ্ধে ঘূর্ণিঝড়,
আমি সাম্যের বীণা, আমি তীব্র অগ্নিবাণ,
আমি গীত, আমি গর্জন, আমি সেই ঝড়
যে ঝড়ে কেঁপে ওঠে আকাশ-পাতাল!
আমি কে?
আমি সে, আমি যে—
আমি উপন্যাসের ভরা তরীতে ঢেউয়ের বিদ্রোহ,
আমি কবির কলমে আগুনের অক্ষর,
আমি যুগের বাঁশি বাজানো চির-অমর বিদ্রোহী!