কবিতা শ্রুতি নাটক / বাবানের জ্বর
কবি আজিজুল হক
লিখার স্থান কোচবিহার ,পশ্চিম বঙ্গ
কবিতার বিষয় জীবনমুখী, প্রেম, বিরহ, সমসাময়িক
3/5 - (1 vote)

..…….শ্রুতি নাটক…..
বাবানের জ্বর
আজিজুল হক

(উকিলের চ্যাম্বার,স্বামী – স্ত্রীর কথোপকথন)
নাভেদ – হ্যা, তাতো বলবেই , এখন তো আমি খারাপ,অসভ্য,বাজে ,ছোট লোক, আর তখন ? ওরে বাবা,কি দারুন,হ্যান্ডসাম,স্মার্ট,দারুন লেখ,দারুন কন্ঠ…কত কি..
নীলাঞ্জনা – ঠিকই তো,তখন কি জানতাম ,মুখোশ ধারি মানুষের ভেতরে এত নোংরামি, ছি ছি,ঘেন্না হয় নিজেকে,কোন কুক্ষণে তোমার পাল্লায় পড়েছিলাম,জীবন টা আমার দুর্বিষহ করে তুললে,আমি আর এক মুহূর্ত তোমার সঙ্গে থাকতে চাই না। আমি ডিভোর্স চাই
না – হু, তাতো চাই,অফিসের বড়বাবুর দিকে নজর পড়েছে কিনা,বেশ তো যাও না, কেউ তোমায় আটকে রাখে নি,
নী – একদম বাজে কথা বলবে না,তোমার মত ভাব নাকি আমায়? নিজে তো রোজ অফিস যাবার নাম করে অপর্ণা কে নিয়ে ঘুরে বেড়াও, সে কথা বুঝি আমি জানি না!সব জানি
না — একদম বাজে কথা বলবে না।তোমার মত? সবাই বলে আজ রতন , কাল সুভাষ ,প্রতিদিন তুমি তোমার বদমায়েশি হাসি দিয়ে এক একজন কে বধ কর,কই আর কারও নামে তো এসব শোনা যায় না। ছি। নাও ,আমিও ডিভোর্স চাই
নী – হ্যা,ডিভোর্স খুব দরকার।আমার জীবনটা কে তুমি শেষ করে দিয়েছ।ছোট লোক কোথাকার,নোংরা ফ্যামিলি,ভেবেছিলাম ,গোবর থেকে পদ্ম ফুল ফোটাবো,সে কি আর হয়?ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে!বিয়ের এত বছরে কি দিতে পেরেছ আমায়? একটু শান্তি?ভালোবাসা! না, পারো নি,বরং আমার সহকর্মীদের নিয়ে বাজে কথা বলার অভ্যাস করেছ।
না – আর তুমি? তুমিই বা কি দিতে পেরেছ?আমাকে আমার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে আমার মন মানসিকতা কে নষ্ট করেছ,
উকিল – দেখুন,আপনারা যদি আমার চ্যাম্বারেই বসে এরকম বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন,তবে সমাধান একেবারেই অসম্ভব।আমরা উকিলরাও মন থেকে চাই না স্বামী – স্ত্রী পরস্পর আলাদা হয়ে যাক । আর তাছাড়া আপনাদের একটি ছেলেও আছে,অন্তত ওর দিকে তাকিয়ে আর একবার সিদ্ধান্ত বদলানো যায় কিনা,একটু ভেবে দেখুন না..
নী – না ,সম্ভব নয়,নিত্য দিনের অশান্তির চেয়ে আলাদা থাকাই ভালো আর তাছাড়া এই জাঘন্ন মানুষটার সঙ্গে থাকলে ছেলেটাও আমার অমানুষ হয়ে উঠবে,দিন,আপনি পেপার দিন,কোথায় সই করতে হবে,বলুন(বলেই সই করে দেয়) নাও,আজ থেকে মুক্তি দিলাম,এটাই তো চাইছিলে, যাও,এবার,অফিসের অপর্ণা কে ফুর্তি কর গিয়ে, যত পার( বলেই বেরিয়ে যায়)
ইতিমধ্যেই দুটি বছর অতিক্রান্ত,নাভেদ কোর্টের আদেশে ছেকের সঙ্গে দেখা করে প্রায়,হটাৎ একদিন দুপুর বেলা নীলাঞ্জনার ফোন নাভেদের কাছে) হ্যালো..
না – হ্যা, বল
নী – তুমি কি অফিসে? বাবানের প্রচণ্ড জ্বর,ডাক্তার দেখিয়েও কমছে না,একবার আসতে পারবে? বাবান বারবার পাপা পাপা করে চিৎকার করছে
না – ওয়েট,( ফোন টা কেটে গেল,কিছুক্ষণ পর নীলার বাড়ির কলিং বেল বেজে ওঠে)
নী – এসো
না – বাবাণ কোথায়?
নী – ঐ ঘরে..
বাবান – ( পাপার আওয়াজ পেয়ে) পাপা,তুমি এসেছ পাপা,দুদিন কেন আস নি?আমার যে বড্ড তোমার কাছে যেতে ইচ্ছা করে
নী – আর অ্যাডিখেটা দেখাতে হবে না,পাপা কে পেয়ে সব জ্বর যেন উড়ে গেল!
না – ঠিক আছে,পাপা,তুমি কিসছু ভেব না,তুমি সেরে উঠবে,তখন আমি তোমায় নিয়ে খুব বেরু বেরূ করব,কেমন! কিন্তু গা যে পুড়ে যাচ্ছে,ঘরে আইস প্যাক আছে?
নী – না,নেই
না – তোমার জ্বরের সময় কেনা টা?, ও,আচ্ছা ,ছেড়ে দাও,একটু বরফ নিয়ে এস ফ্রিজ থেকে
নী – ( ফ্রিজ খুলে)নাও,
না – অনেক আগেই আমায় ডাকতে পারতে,ডাক্তার দেখিয়েছ?
নী – হ্যা,খগেন কাকু কে..
না – আরে,উনি তো কম্পাউন্ডার , স্পেশালিস্ট দেখানো দরকার ছিল।জ্বর তো নামছেই না
নী – ওনার উপর আমার ভরসা আছে,ঠিক সেরে যাবে,তুমি একটু ওর পাশে বস,আমি ওঘর থেকে আসছি, আর হ্যা,চা খাবে একটু?
না – পেলে মন্দ কি! After all তোমাকে তো করতে বলতে পারি না
নী – ( কিছুক্ষন পর) নাও..
না – (চায়ে চুমুক দিয়ে) চা কিন্তু তুমি দারুন বানাও, আজও দারুন
নী – থাক,সে সব কথা,প্রথম প্রথম সবই দারুন লাগে,তারপর সব আমাদের মত…
না – না,আমাদের মত নয়,আসলে আমরা পরস্পরকে বুঝে উঠার আগেই এরকম একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি, তোমার জেদ আর অভিমান,আমায় বুঝতে না চাওয়া, আর আমিও নিজের বাবা মা কে ছেড়ে তোমার এখানে মানিয়ে নিতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছিলাম,আমাদের আরও একটু ধৈর্যের পরিচয় দেয়া হয়তো উচিত ছিল
নী – হবে হয়তো, সে সব কথা আমি ভুলে গেছি,শুধু ছেলেটার জন্য তোমায় ডাকতে হল..( এমন সময়
বাবানের অস্ফুট কন্ঠস্বর) কি হল বাবান,(কাছে এসে) গা যে পুড়ে যাচ্ছে
না – আর এক মুহূর্ত দেরি করা ঠিক হবে না,এখুনি একটা রিকশা দেখ,বাবান কে নিয়ে যেতে হবে,আমি ও কে কোলে নিচ্ছি,তুমি নীচে গিয়ে রিক্সা,গাড়ি যা পাও,দেখ..
(ডাক্তারের চ্যাম্বার (
ডা – কি হয়েছে তোমার? ইসস ,কি দুষ্টু ছেলেরে ,দেখি ,দেখি,একটু হা কর তো …হুম ,কিশ্চচু হয় নি,ওষুধ গুলো লিখে দিচ্ছি,ঠিক সময়ে খাইয়ে দিন,সেরে যাবে..
নী – ওটাই তো সমস্যা,কিছুতেই খেতে চায় না ওষুধ,
ডা – কিরে দুষ্টু,মা কি বলে,ওষুধ খেতে চাও না যে,না খেলে যে জ্বর সারবে না..
বা – না সারুক,আমি চাইনা জ্বর সেরে যাক
ডা – ধুর ,পাগল,এরকম কেউ চায় নাকি!
বা – আমি যে চাই
ডা – কিন্তু কেন?
বা – জ্বর সেরে গেলে যে পাপা চলে যাবে,আমি পাপা কে ছেড়ে থাকতে চাই না, আম্মি কে ছেড়েও থাকতে চাই না (সকলে নির্বাক, নীলা বাবান কে জড়িয়ে ধরে,নাভেদ নীলার হাতের উপর হাত টা রেখে বাবান কাছে টেনে নেয়)
ডা – উফ ,এই তো দারুন, সত্যি এ দৃশ্য আমার ডাক্তারি জীবনের বিরল ,সত্যি বাবান জ্বর আসাটাও খুব দরকার…..
আজিজুল হক
8/12/22
…………. সমাপ্ত……….

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted