কবিতা শ্রুতি নাটক/ একটি কবিতার জন্ম
কবি আজিজুল হক
সময় ১৫/১১/২২
লিখার স্থান কোচবিহার ,পশ্চিম বঙ্গ
কবিতার বিষয় আশা, জীবনমুখী, প্রেম, বিরহ, রূপক
Review This Poem

একটি কবিতার জন্ম( শ্রুতি নাটক)
আজিজুল হক

(গ্রাম্যপথ। আদিল ঐ পথে টোটো নিয়ে বাড়িতে ফিরছিল।হটাৎ তার পথ আটকে দাড়ায় এক নববধূ সাজে সজ্জিত রমণী)
মেয়ে – এ্যাই যে , এ্যাই যে,একটু দাড়ান,আমারে একটু লইয়া যান (বলেই হটাৎ দাড়ানো টো টো য় উঠে বসে)
আ – কে আপনি? এভাবে ,এখানে কেন?
মে – অহন কয়ার সময় নাই,পরে কমু, হরেন,হরেন,একটু হইরা বহেন,ববার দ্যান।
আ – আরে,বড্ড বাজে মহিলা তো আপনি!বলা নেই, কওয়া নেই,এভাবে কেউ..
মে – কইলাম তো পরে কমু,আগে আমারে একটু সাজের পারে নামাইয়া দ্যান।আপনার দোহাই
আ – (কিছুক্ষণ ভেবে) ঐ সামাদ,নে তো চল,আগে নামাইয়া দে।
আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করব?এই ভাবে সেজে গুঁজে আপনি কোথায় যাচ্ছেন ,ব্যাপার টা কেমন যেন গোলমেলে মনে হচ্ছে
মে – দেখুন ,আপনি ঠিকই ধরেছেন,একটু গোলমেলে বটে, ও, হ্যা,আমি শবনম,এটুকুই জানুন,আমারে আগে নামাইয়া দ্যান,বাকি টা পড়ে কমু
আ – সামাদ,নে তাড়াতাড়ি কর( কিছুক্ষণ পর)
নামুন, আপনার সাজের পার এসে গেছে( মেয়েটি নেমে অনবরত ফোন করতে থাকে।দূরে দাঁড়িয়ে আদিল লক্ষ্য করছে গতিবিধি)

শব -( হটাৎ) কি ব্যাপার আপনি এখনও যান নি যে?plZ,আপনি চলে যান ,অনেক উপকার করেছেন ।এবার আসুন, আর অপেক্ষা করবেন না,আপনার বাড়ির লোক চিন্তা করবে।আপনি আমার অনেক উপকার করেছেন,আমি কৃতজ্ঞ।
আ – সে না হয় থাকবেন,এখন বলুন তো এভাবে আপনি উদভ্রান্তের মত কাকে ফোন করে যাচ্ছেন? ও প্রান্ত থেকে তো কোনো রেসপন্স মনে হয় পাচ্ছেন না
শ – ( অনেক টা ভেঙে পড়ে)দেখুন ,আমি একজন কে ভীষণ ভালবাসি,তাকে ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে ঘর বাঁধা আমার পক্ষে সম্ভব নয় কিন্তু আমার আব্বু জোর করে আমার বিয়ে দিতে চাইছিল আজ।ওর সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল, ও আমার জন্য এখানে অপেক্ষা করবে কিন্তু ওর ফোন এখন সুইজ অফ,বুঝতে পারছি না ,কেন ? কি যে করব ,ভেবে পাচ্ছি না,আত্ম হত্যা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই আমার..
আ – একটা অনুরোধ করব,ফোন নম্বর টা দিন,আমি একবার চেষ্টা করে দেখি..দেখুন ,এখন কি করবেন জানি না,তবে গা ভর্তি গয়না গাটি নিয়ে এখানে এভাবে পরে থাকলে আপনাকে আর সুইসাইড করতে হবে না,আপনার কাজ টা বরং অন্য কেউ করে দেবে,বুঝলেন!
শ – সে ভয় আর পাচ্ছি না,আমার জীবন টা সত্যি নষ্ট হয়ে গেছে। মরণ ফাঁদে পা ফেলেছি আমি
আ – সে না মরবেন। এখন এক কাজ করুন তো,আজ রাত টা আমার বাড়িতে চলুন,মা আছেন আমার,আপনার ভয় নেই,যদি মরতে হয়,তবে আজ রাত টা ভেবে না কাল মরবেন,চলুন এবার। আর হ্যা,ফোন নম্বর টা দিন তো একবার..
শ – আপনি কি ফোন করবেন?
আ – হ্যা,দিন ( সুইজ অফ আসল)ফোন টা বন্ধ এখনও,দেখা যাক ,পরে খোলে কিনা,এই সামাদ ,নে চল..
(ইতি মধ্যে আদিল কে গ্রামের অনেকেই দেখে ফেলেছে।বাড়ির কাছে টো টো আসতেই আদিল দেখল , মা দাড়িয়ে)
মা – ঐ,বেয়াদপ ছেলে,অহন তোর সময় হইল? হেই,কোন থনে বইসা আছি, আর তুই নুতন বউরে নিয়া রাস্তায় রাস্তায় ঘুইরা বেড়াইতেছস? অত ভয় তো আমারে না জানাইয়া বিয়া করলি ক্যান?(টোটোর দিকে তাকিয়ে) আহারে ,কি মিষ্টি ম্যায়াটা,আস, মা, নায়াম্যা আস।পোলা ট্যার কোন কান্ড জ্ঞান নেই।
আ – ও মা,তুমি ,তুমি ব্যাপার টা..
মা – চুপ,একটাও কথা কইবি না গাধা একটা
আ – আরে তুমি আমার কথা টা শুনবে তো
মা – শুনুম না,আস মা,তুমি আমার সঙ্গে আস,তুমি মা বেটার কথায় কিছু মনে কইরো না,আসলে ছেলেটা আমার অমন হলে হব কি,বড্ড ভাল ছেলে আমার । তুমি ভাইবো না,কাল আমি লোক ডাইকা তোমাগো একটা ব্যবস্থা করুম।
(রাতে)
শ – আমি আপনাকে খুব বিপদে ফেললাম, তাই না?
আ – (একটু ভেবে) না, না তা নয়, আসলে আমার মা ..
শ – ওনার তো কোন দোষ নেই।আপনার গ্রামের মানুষেরা সারা সন্ধে আমার সঙ্গে এভাবে দেখলে আর কি ভাববে ,বলুন, ওরাই হয়তো আপনার মা কে… সে জন্যই আপনাকে চলে আসতে বলেছিলাম
আ – না,না,আমি সেটা ভাবিনি।আপনি তো জেনে বুঝে এসব করেন নি,তবে লোক টা এভাবে আপনাকে বিপদে নাও ফেলতে পারত,আগেই জানাতে পারত ,তার পক্ষে সম্ভব নয়,
শ – জানি না কি করব,তবে কাল নয় ,আজ রাতেই আমি ভোর বেলা বেরিয়ে যাব,আপনার মা জানতে পারবে না,তারপর না হয় সত্য টা আপনি মা কে বলে দেবেন..
আ – কিন্তু যাবেন কোথায়?এক কাজ করুন,বাড়ি ফিরে চলুন,আমি আপনাকে পৌঁছে দেব
শ – তা আর হয় না,আমার আব্বু কে আপনি জানেন না,তিনি কখনও সম্মানের সঙ্গে আপোষ করেননি।
আ – তবে?
শ – ধরুন ,আমি যদি আর কটা দিন থাকি? আপনার আপত্তি আছে? তাহলে আমি শহরে আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে একটা ব্যবস্থা করে নিতে পারব।
আ – আমি কি আপনাকে না করব? ঠিক আছে,অপেক্ষা করুন , আর দেখুন মানুষটা আপনাকে আর ফোন করে কিনা..
শ – আচ্ছা,আপনি মানুষ টা এমন কেন? এত ভালো কেন?
আ – ভাল মন্দ জানিনা,তবে মানুষের পাশে,জীবনের পাশে থাকতে খুব ভালবাসি।এক কাজ করুন, ও ঘরে বোধ হয় মা জেগে আছেন,আপনি যান,একটু ঘুমিয়ে নিন
শ – ঘুম? সেটা কি সত্যি আসে এরকম সময়ে!
আ – চেষ্টা করুন,বড্ড ক্লান্ত আপনি
শ – আপনাকে খুব বিপদে ফেললাম , তাই না?
আ – না ,না, একি বলছেন?(এমন সময় আদিলের ফোন টা বেজে ওঠে)
ও প্রান্ত থেকে —- হ্যালো,এটা কার নম্বর,বলা যাবে?একটা ফোন এসেছিল সন্ধায়
আ ( একটু ভেবে) ও, হ্যা, হ্যা,আমি আদিল,আদিল,এটা কি ??
ও প্রান্ত — হুম,ঠিক বলেছেন,ওনার নম্বর ছিল
আ – ছিল ? মানে?
ও প্রান্ত – হ্যা,ঠিকই শুনেছেন ,ছিল।আজ উনি সন্ধেবেলায় সাজের পারে একটি বাইক দুর্ঘটনায়..
একটু আগে ওনার জানাজা হয়ে গেল…হ্যালো , হ্যালো…
আ – (নির্বাক, শবনমের চোখে জল) আপনি আর কোনো দিন কোথাও যাবেন না।এখানেই থাকুন আর মানুষটার জন্য দোয়া করুন
শ – (কান্না) থেকে যাব? কিন্তু কেন? কিভাবে ?যে মানুষ টা আমায় ভালোবেসে আমাকে নিতে ছুটে এসে মৃত্যুকেই আলিঙ্গন করল আর আমি তাকে কত কিছু ভেবেছি,ছি ছি,নিজেকে ঘেন্না হয় আমার আমি সত্যি অপয়া..
আ – এসব বলবেন না,অন্তত মানুষ টা কে ভালবেসে নুতন করে বাঁচুন,নিজেকে আবারও ভালবাসুন ,খুব খুব করে,দেখবেন ,জগৎ টা সত্যি সুন্দর, আর একবার হাত টা বাড়িয়ে দিন,দেখবেন ,নুতন কোনো সূর্য হয়তো অপেক্ষা করে আছে।
শ – সত্যি বলছেন?
আ – হ্যা,সত্যি বলছি,সূর্য প্রতিদিনই উদয় হয়, অস্তও যায়,জীবনও এরকম ,দুঃখ আসে,আসবে,আবার নতুন করে ভাবতেও হয়,কেন না কবিতা গুলো এভাবেই জন্মায়।চলুন,এবার শুয়ে পড়ুন,মা হয়তো ঠিক জেগে আছেন,তোমার জন্য অপেক্ষা করছেন।
শ – কবিতা গুলো কেন জন্মায়?
আ – তোমার হৃদয় কে উন্মোচিত করতে,বিকশিত করতে,অবহেলা অবজ্ঞা ,ঘৃনা ,ভালোবাসায় জন্মায় কবিতা গুলো,আগামীকালের সূর্যটাও ঠিক এভাবেই উঠে..(দুজনে)
*মরিতে চাহি না আমি
এই সুন্দর ভুবনে,মানবের মাঝে বাঁচিবারে চাই***
সমাপ্ত
আজিজুল হক
15/11/22

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted