কবিতা অবহেলার কালবেলা
কবি আজিজুল হক
লিখার স্থান কোচবিহার ,পশ্চিম বঙ্গ
কবিতার বিষয় আশা, জীবনমুখী, প্রেম, বিরহ, স্বাধীনতা
Review This Poem

**অবহেলার কালবেলা !**
©আজিজুল হক

ত্রিশ ! অদ্ভুত একটা মাইলস্টোন!
অদ্ভুত একটা বয়স।
ততদিনে অনেকেই সংসারের অর্ধযুগ অতিবাহিত করেছেন।
কেউ আবার এক বা দুই সন্তানের জননীও বটে !
কিন্তু তারপরেও মনের ভেতরে বাস করতে শুরু করে কৈশোর উত্তৃন্ন একটা মন।
আর থাকে তাকে অবদমনের ক্লান্তিকর প্রয়াস!
বাঁধ সাধে তাতে বর্তমান।
পাওয়া , না পাওয়ার হিসেব গুলো বড্ড একপেশে হয়ে দাঁড়ায়।
কতটা আর ব্যস্ততায় ডুবে
রাখতে হয়
নিজের ভেতরের আর একটা কচি মন !
সংসার, রান্নাবান্না, কিংবা অফিস , একঘেয়ে হয়ে উঠে প্রতিদিন!
দিন শেষে না পাওয়া গুলো কেমন যেন খোঁচাতে থাকে,
দিন শেষে মনেহয় কেউ একজন থাকুক পাশে,
কেউ শুনুক তার মনের সব কথা,
কোন জাজমেন্ট ছাড়া।
ভালোবেসে ঘর বাঁধা মানুষটাও দিন দিন অচেনা হয়ে উঠে,
কর্তৃত্বের হাত টা বেড়ে যায় তার!
অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবেই…
আমার জীবন টা তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভেবে বসতে শুরু করে,
হ্যা, এমনই হয় আকছার।
ত্রিশ পেরোনো জীবনটা হয়ে উঠে ব্যস্ততার নাটক!
ত্রিশ পেরোনো মেয়েরা একটা কঠিন রোগে ভোগে। নস্টালজিয়া!
, কারও সাথে প্রথম দেখা,
প্রথম ভালোবাসা,
আঁড় চোখে তাকানো কোন এক প্রথম পুরুষ ,
মনে পড়তে থাকে সব .
কিছু সময়ের জন্য যে নিজের হয়েছিল,
যে কস্ট দিয়েছিল, কিংবা না চাইতেও যাকে কষ্ট দিতে হয়েছিল,
সব মনে পড়ে যায় সময়ে অসময়ে।
রাতের বেলা সব কাজ সেরে
কখনও নিজেকে দেখতে ইচ্ছে হলে বড্ড অচেনা মনে হয় নিজেকেই!
চোখের কোনে কালি,
চুল গুলো হালকা হয়ে আসা , বলিরেখায় কখনও আচ্ছন্ন মন,
সন্তানের স্মৃতি চিহ্ন স্ট্রেচ মার্কের দাগ পেট জুড়ে,
সব মিলিয়ে ভীষণ অচেনা লাগে নিজেকে।
এক রাশ বিষণ্ণতা ঢাকতে ইচ্ছে করে ত্রিশ পেরোনো জীবনে।
আবার প্রেমে পড়তে ইচ্ছে করে ভীষণ ভীষণ ভাবে ,
না, শুধু প্রেম করার জন্য প্রেম নয়।
মনেহয় কেউ একজন থাকুক পাশে,
একজন মানুষ আগলে রাখুক তাকে মনে,নয়নে,
তাকে ভাবুক, তাকে বুঝুক নিজের মত করে।
, কারো মন জয় করতে চায়,
আবারও জেগে উঠা ত্রিশের বসন্ত।
অনেক বসন্ত একসাথে পার করা মানুষটা যখন তার মধ্যে খুঁজে পায় না আর কোন বসন্তের ছোঁয়া,
অথচ সবই থাকে তার,
শুধু স্পর্শের বড্ড অভাব মানুষটাকে বড্ড একাকী করে তোলে…
ত্রিশ পেরোনো মন টা মাঝে মাঝেই খুব একা থাকতে চায়।
নিজের মত করে, নিজের জন্য!
কিন্তু সন্তান স্নেহ ভুলিয়ে দেয় সে লগ্ন!
মন কাঁদে।
শত অভিমান গুলোকে সরিয়ে তাই বেঁচে থাকতে চায় অবহেলিত যৌবন!
কাঁদতে বড় সাধ হয়,
এ কান্না শুধু তার,
কারও শোনার জন্য নয়,
ত্রিশে কাঁদে মন!
ত্রিশ কিংবা অনন্ত বিষ ,
মেয়েদের সমাজ নামের অপদার্থ একটা ব্যারিকেডের সাথে লড়তে হয়,
যারা পারে তারা হেরেও জিতে যায়
হারিয়ে যাওয়া ভেতরের মানুষটাকে।
ত্রিশ পেরোনো মন টা চায়,
কেউ তাকে জিজ্ঞেস করুক ,
সে কেমন আছে?
তার শরীর টা কেমন !
ত্রিশ পেরোনো মন ভালোবাসা চায়,
তার মনের যত্ন চায়…
অথচ পাশের মানুষটা সারাদিন একবারও তার দিকে ফিরেও তাকালোনার সময় পায় না ভালোবেসে একবার!
সে আজ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি,
তার ভালোবাসার মানুষটার কাছে
তার মূল্য কদাচিৎ
কোন এক সময় সময় নিজের নপুংশতাকে বারবার প্রমাণ করার চেষ্টা করা,
তার মনের চাষ হয় না কতদিন..
কতদিন সে ভূমিতে ভালোবাসার পরশ পরে না স্বতস্ফূর্ত ভাবে…
তবুও বেঁচে থাকে মন আশায় ,
কোন এক বসন্ত কেউ এসে বলবে তারে ,
আমি তো আছি !
ভয় কি তোমার হারানোর!
এমন মানুষের ডাকে বাঁধন ছুড়তে চায় যে মন,
সে মন বাঁধা পরে থাকে মা কিংবা অসহ্য শৃঙ্খলিত সমাজ নামক
দানবের অট্টহাসিতে!!!
আজিজুল হক
৪/৭/২৩

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted