কবিতা কিছু অদ্ভুততা
কবি অলোক নন্দন
সময় ২৯ জুন, ২০১৯
উৎসর্গ আমাকে
লিখার স্থান সিলেট
Review This Poem

 

বিষম ঘনীভূত চেতনার বাষ্পে
দেয়ালিত রাত আজ
বিমুখ আমি’র শব্দ শুনে।

নিজেকে আর কতটুকু অচেনা
রাখা যায়। বেশ জেনে-শুনেই,
আর কতভাবে নিজেকে নিয়ে খেলা যায়?
কতভাবে নিজের সাথে
করা যায় আর্জি-আবদার, চুক্তি-দলিল?
বহিঃপ্রকাশ নিছক কোনো কল্পনা নয়?

-বেশ আছি! উত্তর হলো এই।
-বেশতো আছি। মেনে নিতে শিখেছি।
কারণ আমি ভালোর দলে৷

সে যাই ঘটুক, আমি ওদলেরই।

যেদলে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে
একটা কার্পণ্য সুখ মেলে!
অথবা পাওয়া যায়
সময়ের জলে ভেসে উঠা
কিছু চেহারার গ্রহণযোগ্যতার সুখ!
একটা লোভ খুশি হয় এতে।
যার কাজ বাঁচিয়ে রাখা আমার
অস্তিত্বকে।

এ এক অদ্ভুত ভয়।
শিখেছে বেঁচে থাকতে আমার সাথে।
সে নাকি আমায় বাঁচিয়ে রাখছে।
হ্যা, রাখছে বটে! তবে জীবন থেকে।
জীবনের কলহাস্যময় উত্তাল স্রোত থেকে।
যে স্রোতে কে ভেসে যায়,
অতলে হারিয়ে যায়,
সে হিসেব রাখা হয় না।
হিসেব একটাই, কতটুকু পারলে?
নিজেকে নিজের যোগ্য করে তুলতে?

অথচ, এখানে শুধু পরিচয়ের আকাঙ্ক্ষা৷
তা, কি পরিচয় পেলে দিনশেষে?
কি নামে ডাকলো তোমায় ওরা?
যারা অগোচরে থাকে
যখন তুমি শেষ হতে থাকো,
নিঙরানো আর্তনাদে
তোমায় গিলে ফেলতে চায়
তার অন্ধসুখের অতলে।
কই? তখন তো কেউ আসে নি?
কাউকে পেয়েছো?
তোমার হাজার তুমি
যখন অসহায়ত্বের ঘোরে।
বিকৃত হওয়ার মন্ত্র শুনে!
দেখেছো হয়তো!
কিভাবে সব আছিগুলো
নেই হয়ে যায়!

কেমন যেন অদ্ভুততা!
একটি মানুষই ভিতরে একা!
তাইনা?

যখন তোমার দিন হয় রাত
প্রশ্নে ঘনীভুত সব উৎসাহ!
সংশয়ে নিষিদ্ধ হয় সব আত্মপ্রকাশ!

“কান্না” একটা বিশেষ শব্দ।
শুনতে চায় না বা চাইবে না কেউ কখনো?
সত্য হলো, পারে না।
সে শক্তি হয় না সবার।

আর যদি হয়! সে’ই বুঝি হয় কারো?

হয়ে যায় অনেকখানি৷
পেয়ে যায় কেউ না কেউ তরঙ্গসম।
কিন্তু মিলতে পারে না ঠিক।

একটা গোপন দুরত্ব আছে,
যেটা থাকবে, থাকতে হয়।

সেই নীরব অস্তিত্বকে প্রশ্ন করেছি,
কিসে হবে তোমার পরিতৃপ্তি?
সে আমায় বলে নি কিছু,
তবে শুনিয়েছে নীরবে।

“চাই, ফিরে আসো,
তোমার নীরব মাঝে”

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted