আমি চেয়েছি— সব কোলাহল ছেড়ে পৃথিবীর বুকে সন্ন্যাসী হয়ে যেতে,
নষ্ট হয়ে গেছি ভেবে- লোকে বলে ‘নিজের মতো থাকা উচিৎ আমোদ ফুর্তিতে মেতে।’
আমি চাইনি— ধরতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পথ,
তবুও চাপিয়ে দেয়া হলো আমার ওপর- ঘুমন্ত শপথ।সম্পূর্ণ

আমরা দাসত্বের নিয়মে পথ চলি
অভিযোগ নেই কারো বিরুদ্ধে….
পৃথিবীর মানচিত্রে যদি আঁকা হয় নতুন দেশ তবে সব দেশ কি মেনে নেবে তা !
না কখনোই তা মেনে নেবে না ।
দীর্ঘ নিঃশ্বাসে জনজাতি একটাই মাথা উঁচু করে বলে ওঠে আমরা মানবজাতি এটাই আমাদের পরিচয়।সম্পূর্ণ

একদিন,
চিঠি পৌঁছানোর জন্য যাকে বাড়তি পাঁচ টাকা দিয়েছিলাম,
সেই হরকরা আজ নিজেই ডাকবাক্স।
পড়ে আছে অযত্নে, অবহেলায়
পাশেই ভাঙাচোরা টিনের খুপরি
ভিতরে মাষ্টার মশাই—
বিঁড়ি ফুঁকছেন..সম্পূর্ণ

কাগজের ফুল কখন জীবিত হয়ে যায়
কেউ জানে না! শুকিয়ে যাওয়া পাতাও জীবন পেতে চাই
হিমের মাঝে শিশির ভেজা প্রহরে।
হতভাগা জীবনে এমনটাই হওয়ার কথা ছিল
সমস্ত জ্বালানী কেমিক্যাল নিয়মে ফুরিয়ে যায়
আমরা উত্তরমেরুতে বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে
শূন্যতাকে হৃদয়ে পুষি কৃষকের হাড়ভাঙা শ্রমে
কিলবিল করা পোকার বীজে অঙ্কুরোদগম ঘটিয়ে।

সম্পূর্ণ

মানুষ মৃত স্বপ্ন মৃত
এই বেঁচে থাকাও মৃত
যেন কাগজের মানুষ নাচালেই নাচি
কাঁদালেই কাঁদি । রাগালে ও রাগি
কাগজের মানুষ দুমড়ে-মুচড়ে দিলেও কোনো যন্ত্রণা থাকে না
পাথরের হৃদয় ভাঙলে ভাঙি না ভাঙলে অক্ষত থাকি।

সম্পূর্ণ

কথা ছিলো কিছু মৃত কিছু জীবিত
তুষারের রঙ পাহাড় সবুজ ঘাস হলুদ পাতা সবই
বর্ষাকালে কোনো নদীর মতো হারিয়ে যেতে দূরে।
চোখ দিয়ে অনেক কিছু দেখা যায় না, দেখতে নেই
মনে নেই সেকথা এখন সব মৃত আর কিছুটা জীবিত।
বিবর্ণ রঙ অচেনা পথ আকাশ জানে কত কিছু
নিভে যাওয়া প্রদীপের আলো বিষাদের সমুদ্রের নোনা স্রোত
আর দাঁতে দাঁত চেপে টিকে থাকার খিদে।সম্পূর্ণ

আলোর পথে হেঁটে যাওয়া জীর্ণতা
সময় ফুরিয়ে যায় ; সময় ফুরানোর’ই কথা
সমস্ত কিছু শেষ হয় তবুও বহু কিছু শেষ হয় না পা থেকে ধুয়ে যায় ধূলো-কোনো দাগ থাকে না। বিষাদের চিহ্ন নির্দয় কারো জন্য নয়
বাক্যের ভাষা অদ্ভুত; খন্ড-বিখন্ড অভিশাপ মহাপূর্ণ।
সম্পূর্ণ