অবকাশ -২৪
পথের ভিতর পথ দরিদ্রের ভিতর দরিদ্র
আকাশের জন্য মেঘ রাতের জন্য তারা আর অন্ধকার।
আমি মেঘকে কেনার বদলে সমুদ্র কিনেছি
পাহাড়ের বদলে কিনেছি শহীদ মিনার।
মায়ার ভাষা ত্যাগ করলে শূন্য হয় প্রাণের খাঁচা
বাষ্পের বিষ বৃষ্টির আমেজ অবহেলা
তুমি বুঝেছ ভালোবাসা দুঃখিত অবমাননা
আর বিষণ্ণ দুপুরে লক্ষ কোটি রোদ্দুর।সম্পূর্ণ
অবকাশ -২৬
কত পথ মৃত
জড়তা চোখের ভাষা
ইচ্ছার বিরুদ্ধে শুকিয়ে গেছে রক্তের স্রোত
ঝিনুকের ভিতর মুক্তা থাকে মনের ভিতর প্রেম।
ব্যর্থ গ্রহদের গতির বিষণ্ণতা শুঁয়োপোকা চক্র।
পবিত্র হৃদয়ে রিক্ততা পদচিহ্ন তিক্ত স্বাদ।
সমস্ত বৃথা জিজ্ঞাসা কাঁচের টুকরোর মতো ভেঙে যায়
বিলীন হয়ে স্বপ্নের ভদ্রতা।সম্পূর্ণ
অবকাশ -২৭
আগুন এসে পুড়িয়ে দেয় নীরব রাত্রির আকাশভরা তারাসব
যেমন রাজ্য পোড়ে দেশ পোড়ে শাসকদের ব্যভিচারে – তেমন।
চোখের নিমেষে কত স্বপ্ন মিথ্যা হয়
অজস্র মৃত শহীদ মিনারে মিথ্যার মালা দেওয়া হয় জনসমদ্রে…
হয়তো তেমন অপূর্ণ কিন্তু পূর্ণ
জীবিত কিংবা মৃত হতে পারতো
আমাদের সমস্ত অজানা -অচেনা পথচলা।।
সম্পূর্ণ
অবকাশ -২০
প্রথম কবিতা হারিয়ে গিয়েছিল
কোনো এক ঝড়ের রাতে —
সমুদ্রের মতো গর্জন করতো সেই কবিতার শব্দকথা ।
আকাশের জন্য মেঘ বৃষ্টির জন্য শহর দাঁড়িয়ে
প্রজাপতিরা উড়ে যাবে জাহাজের মাস্তুলে।
হতাশার অন্ধকার কুয়াশার চাদর অগ্রগামী আলোর রেখা ধরে এগিয়ে যায় কত প্রহরী।
হৃদয়ের আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে অজস্র স্মৃতিচিহ্ন
যাদের নির্দিষ্ট গন্তব্য নেই পুরোটাই নিঃস্ব
পূর্ণতা নেই না পাওয়ার সিলেবাসে
নিলাম হয়ে যায় ঘরবাড়ি নিলাম হয়ে যায় প্রিয় স্বপ্ন
বারুদের আগুনে জীবন হয় ভস্ম।
অবকাশ -২২
অবরুদ্ধ হৃদয়ের বিষ বাষ্পে ঈশ্বরহীন চেতনা
উদ্ভিদজাতি নিখোঁজ উপবাসনা
সমুদ্রের স্রোতে নির্দয় বালিকা কাঁদে।
মৃত চাঁদের বীজ বুনে বিশ্বাস ভাঙে
নির্জীবের উপাসনা ব্যর্থ বিরোধ
শূন্য রঙে ভাঙে কত প্রজাপতির ডানা।
সূচনাতে মরে যায় কত অধ্যায়ের পাতা
পিঁপড়ের দল ছন্নছাড়া হয়ে সমুদ্র স্নানে যায়
সমস্ত ভেদাভেদ জাতির চোখে মিশিয়ে দিয়ে
জ্ঞান হয় ভয়শূন্যে ভেদাভেদ নিরীহ।
কাগজের ফুল
কাগজের ফুল কখন জীবিত হয়ে যায়
কেউ জানে না! শুকিয়ে যাওয়া পাতাও জীবন পেতে চাই
হিমের মাঝে শিশির ভেজা প্রহরে।
হতভাগা জীবনে এমনটাই হওয়ার কথা ছিল
সমস্ত জ্বালানী কেমিক্যাল নিয়মে ফুরিয়ে যায়
আমরা উত্তরমেরুতে বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে
শূন্যতাকে হৃদয়ে পুষি কৃষকের হাড়ভাঙা শ্রমে
কিলবিল করা পোকার বীজে অঙ্কুরোদগম ঘটিয়ে।
কাগজের মানুষ
মানুষ মৃত স্বপ্ন মৃত
এই বেঁচে থাকাও মৃত
যেন কাগজের মানুষ নাচালেই নাচি
কাঁদালেই কাঁদি । রাগালে ও রাগি
কাগজের মানুষ দুমড়ে-মুচড়ে দিলেও কোনো যন্ত্রণা থাকে না
পাথরের হৃদয় ভাঙলে ভাঙি না ভাঙলে অক্ষত থাকি।
অবকাশ -১৭
কথা ছিলো কিছু মৃত কিছু জীবিত
তুষারের রঙ পাহাড় সবুজ ঘাস হলুদ পাতা সবই
বর্ষাকালে কোনো নদীর মতো হারিয়ে যেতে দূরে।
চোখ দিয়ে অনেক কিছু দেখা যায় না, দেখতে নেই
মনে নেই সেকথা এখন সব মৃত আর কিছুটা জীবিত।
বিবর্ণ রঙ অচেনা পথ আকাশ জানে কত কিছু
নিভে যাওয়া প্রদীপের আলো বিষাদের সমুদ্রের নোনা স্রোত
আর দাঁতে দাঁত চেপে টিকে থাকার খিদে।সম্পূর্ণ