পথের ভিতর পথ দরিদ্রের ভিতর দরিদ্র
আকাশের জন্য মেঘ রাতের জন্য তারা আর অন্ধকার।
আমি মেঘকে কেনার বদলে সমুদ্র কিনেছি
পাহাড়ের বদলে কিনেছি শহীদ মিনার।

মায়ার ভাষা ত্যাগ করলে শূন্য হয় প্রাণের খাঁচা
বাষ্পের বিষ বৃষ্টির আমেজ অবহেলা
তুমি বুঝেছ ভালোবাসা দুঃখিত অবমাননা
আর বিষণ্ণ দুপুরে লক্ষ কোটি রোদ্দুর।সম্পূর্ণ

মানুষ একা জীবন চলাও একা
শুধু জীবনের নামটাই পুরোপুরি ব্যর্থতায় ভরা।

এই পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তন হয়
কেঁচোদের জীবন নিয়ে প্রার্থনা জলতরঙ্গ
মনে আসে আগুনে পুড়ে যাওয়া হৃদয়ে
বনভূমির জন্ম হয়েছিল বৃষ্টির জলপ্রবাহে।
সম্পূর্ণ

কত পথ মৃত
জড়তা চোখের ভাষা
ইচ্ছার বিরুদ্ধে শুকিয়ে গেছে রক্তের স্রোত
ঝিনুকের ভিতর মুক্তা থাকে মনের ভিতর প্রেম।
ব্যর্থ গ্রহদের গতির বিষণ্ণতা শুঁয়োপোকা চক্র।
পবিত্র হৃদয়ে রিক্ততা পদচিহ্ন তিক্ত স্বাদ।
সমস্ত বৃথা জিজ্ঞাসা কাঁচের টুকরোর মতো ভেঙে যায়
বিলীন হয়ে স্বপ্নের ভদ্রতা।সম্পূর্ণ

আগুন এসে পুড়িয়ে দেয় নীরব রাত্রির আকাশভরা তারাসব
যেমন রাজ্য পোড়ে দেশ পোড়ে শাসকদের ব্যভিচারে – তেমন।
চোখের নিমেষে কত স্বপ্ন মিথ্যা হয়
অজস্র মৃত শহীদ মিনারে মিথ্যার মালা দেওয়া হয় জনসমদ্রে…
হয়তো তেমন অপূর্ণ কিন্তু পূর্ণ
জীবিত কিংবা মৃত হতে পারতো
আমাদের সমস্ত অজানা -অচেনা পথচলা।।
সম্পূর্ণ

প্রথম কবিতা হারিয়ে গিয়েছিল
কোনো এক ঝড়ের রাতে —
সমুদ্রের মতো গর্জন করতো সেই কবিতার শব্দকথা ।
আকাশের জন্য মেঘ বৃষ্টির জন্য শহর দাঁড়িয়ে
প্রজাপতিরা উড়ে যাবে জাহাজের মাস্তুলে।
হতাশার অন্ধকার কুয়াশার চাদর অগ্রগামী আলোর রেখা ধরে এগিয়ে যায় কত প্রহরী।

হৃদয়ের আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে অজস্র স্মৃতিচিহ্ন
যাদের নির্দিষ্ট গন্তব্য নেই পুরোটাই নিঃস্ব
পূর্ণতা নেই না পাওয়ার সিলেবাসে
নিলাম হয়ে যায় ঘরবাড়ি নিলাম হয়ে যায় প্রিয় স্বপ্ন
বারুদের আগুনে জীবন হয় ভস্ম।

সম্পূর্ণ

কত পথ শেষ হয় না
শেষ নেই —
পেরেগ্রিন ফ্যালকন এর দুরন্ত গতিতে
চলে যায় বহুদূরে ঢের বেশি দৃষ্টির বাইরে।
সময় পেরিয়ে যায় সময়ের নিয়মে
মানুষ তাঁর কাজের জন্য ব্যস্ত
আকাশের মেঘবন্দী কল্পনার ছায়া
গ্রীষ্মের দিনে ধূপ জ্বেলে দেয় হেমান্নয়ী।
সম্পূর্ণ

অবরুদ্ধ হৃদয়ের বিষ বাষ্পে ঈশ্বরহীন চেতনা
উদ্ভিদজাতি নিখোঁজ উপবাসনা
সমুদ্রের স্রোতে নির্দয় বালিকা কাঁদে।
মৃত চাঁদের বীজ বুনে বিশ্বাস ভাঙে
নির্জীবের উপাসনা ব্যর্থ বিরোধ
শূন্য রঙে ভাঙে কত প্রজাপতির ডানা।

সূচনাতে মরে যায় কত অধ্যায়ের পাতা
পিঁপড়ের দল ছন্নছাড়া হয়ে সমুদ্র স্নানে যায়
সমস্ত ভেদাভেদ জাতির চোখে মিশিয়ে দিয়ে
জ্ঞান হয় ভয়শূন্যে ভেদাভেদ নিরীহ।

সম্পূর্ণ

আমরা দাসত্বের নিয়মে পথ চলি
অভিযোগ নেই কারো বিরুদ্ধে….
পৃথিবীর মানচিত্রে যদি আঁকা হয় নতুন দেশ তবে সব দেশ কি মেনে নেবে তা !
না কখনোই তা মেনে নেবে না ।
দীর্ঘ নিঃশ্বাসে জনজাতি একটাই মাথা উঁচু করে বলে ওঠে আমরা মানবজাতি এটাই আমাদের পরিচয়।সম্পূর্ণ

কাগজের ফুল কখন জীবিত হয়ে যায়
কেউ জানে না! শুকিয়ে যাওয়া পাতাও জীবন পেতে চাই
হিমের মাঝে শিশির ভেজা প্রহরে।
হতভাগা জীবনে এমনটাই হওয়ার কথা ছিল
সমস্ত জ্বালানী কেমিক্যাল নিয়মে ফুরিয়ে যায়
আমরা উত্তরমেরুতে বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে
শূন্যতাকে হৃদয়ে পুষি কৃষকের হাড়ভাঙা শ্রমে
কিলবিল করা পোকার বীজে অঙ্কুরোদগম ঘটিয়ে।

সম্পূর্ণ

মানুষ মৃত স্বপ্ন মৃত
এই বেঁচে থাকাও মৃত
যেন কাগজের মানুষ নাচালেই নাচি
কাঁদালেই কাঁদি । রাগালে ও রাগি
কাগজের মানুষ দুমড়ে-মুচড়ে দিলেও কোনো যন্ত্রণা থাকে না
পাথরের হৃদয় ভাঙলে ভাঙি না ভাঙলে অক্ষত থাকি।

সম্পূর্ণ

কথা ছিলো কিছু মৃত কিছু জীবিত
তুষারের রঙ পাহাড় সবুজ ঘাস হলুদ পাতা সবই
বর্ষাকালে কোনো নদীর মতো হারিয়ে যেতে দূরে।
চোখ দিয়ে অনেক কিছু দেখা যায় না, দেখতে নেই
মনে নেই সেকথা এখন সব মৃত আর কিছুটা জীবিত।
বিবর্ণ রঙ অচেনা পথ আকাশ জানে কত কিছু
নিভে যাওয়া প্রদীপের আলো বিষাদের সমুদ্রের নোনা স্রোত
আর দাঁতে দাঁত চেপে টিকে থাকার খিদে।সম্পূর্ণ

আলোর পথে হেঁটে যাওয়া জীর্ণতা
সময় ফুরিয়ে যায় ; সময় ফুরানোর’ই কথা
সমস্ত কিছু শেষ হয় তবুও বহু কিছু শেষ হয় না পা থেকে ধুয়ে যায় ধূলো-কোনো দাগ থাকে না। বিষাদের চিহ্ন নির্দয় কারো জন্য নয়
বাক্যের ভাষা অদ্ভুত; খন্ড-বিখন্ড অভিশাপ মহাপূর্ণ।
সম্পূর্ণ

অচূর্ণ হৃদয়ের অবগাহে জন্মহীন চঞ্চলা
চোখের ছেদে বেরঙীন আত্মসংভ্রম
চিন্তার পাঠশালায় একুশটি মৃতদেহ শায়িত
পরিচয় নেই — তাঁদের।
গতিহীন নদী সমুদ্রজন্ম লাভ করতে পারে না
কেন পারে না ? ভূ-বিজ্ঞান অজস্র তত্ত্বের ভিত্তি প্রাচীর
আঙ্গুল দেখিয়ে আন্দোলন ভড়কে দেয়।সম্পূর্ণ