অবকাশ -৩৪
অবাঞ্চিত সাহারার তৃষ্ণার্থ পথিক পথ খুঁজে পায় না
হৃদয়ের অবগাহনের পথ জুড়লে বিরাট একটা সমুদ্র সৃষ্টি করা যেত
আমি সমুদ্র সৃষ্টি করতে চাইনী
চেয়েছি পাখি হয়ে উড়ে যেতে
চেয়েছি মুক্ত পাখি হয়ে অপরিসীম আকাশে উড়তে।
অবকাশ -৩৫
মরীচিকার পথে পিঁপড়েরা পথ খোঁজে সমুদ্র স্নানে
কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁরা পায় মানুষের ক্ষয়ে যাওয়া জীর্ণহাড়
যে মানুষগুলো নিবিড় অরণ্যের অন্ধকারে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিল
তাঁরাই অজানা কোনো ঝড়ে বালির নিচে সমাধিত হয়েছে
শাসক – শাসনের জয়গান এখন তীব্র
একটু ভেবে দেখলেই এর বিপরীত দিকেই আছে সেই অশনি সংকেত শঙ্কিত অধ্যায়গুলো।।
সম্পূর্ণ
অবকাশ -৩৮
চোখে বিবশ রজনী
নদীর মোহনায় ছুঁটে পথ হারায় কত পথিক
তার সংখ্যা বেহিসেবী।
মোমবাতি প্রদীপ নিজে জ্বলে অপরকে আলোয় ভরায়
যেমন ভাবে সূর্য আলোয় ভরায় পৃথিবীকে – তেমনি।
একঝাঁক পাখি ওড়ে আকাশের পথে
সবে মাত্র ডানা হারানো পাখিটিও তাঁদেরকে দেখে উড়তে স্বাদ জাগে
এইতো কয়েকদিন আগে সেও উড়ে বেড়াতো স্বাধীন হয়ে
আজ নিঃস্ব – নগণ্য – হীন
শুধুমাত্র সময়ের ব্যবধানে করুণ পরিণতি পাখিটির।সম্পূর্ণ
অবকাশ -৩১
সময়ের অবকাশে পথ চলি
অনেকটা পথ —
শামুকের হৃদপিন্ড জ্বলে যাওয়া নিঃশ্বাস প্রশ্বাস
সমস্তকিছুই বুঝেছি অর্থ হারিয়েছি দু’হাত ভরে।
মুহূর্তকাল অপেক্ষা করেও ফেরেনি তারাভরা রাত্রি
আর হাওয়াদের বিষণ্ণতায় ভরা কাগজের পাতা কিছু লেখেনি !
ফিরে এসেছি তীব্র সংশয়ে হয়তো অবমাননা বললেও ভুল হবে না বোধহয় !
সম্পূর্ণ
অবকাশ -৩০
মুখের কথা মুখেই রইলো কেউ ফিরলো না ঘরে !
রাতের নীরবতা ভাঙলো কত ঘর
তবুও ছেড়ে যেতে যেতে মানতে চায় না এ হৃদয়।
কাদের জন্য চেয়েছি সর্বস্ব ত্যাগ করতে
আর কাদের জন্য বিলিয়েছি রক্তের স্রোত !
তবুও সুদীর্ঘ পথে হেঁটে চলেছি একা
চাতক পাখির মতো দিশেহারা পথিক এক
প্রতিনিয়ত স্বপ্নের পিছনে দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়েছি বিচ্ছেদ ভরা অভিনয়ে।সম্পূর্ণ
অবকাশ -২৩
রিত্যাগ লাঞ্ছিত অবমাননা
দীর্ঘ মুহূর্তে হারিয়ে যায় সব রাতের তারা
পথ খুঁজে পায় না যোগ্য অধিকারে।
দোআঁশ মাটির গন্ধ বিষাক্ত সারের তেজ
উপযুক্ত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে চারিপাশে
মনে হয় নিতান্ত কাল ধরে আমি তাই চেয়েছি
এই পৃথিবীর বিষণ্ণ দুপুরে রোদ আর মেঘের মেলামেশা।
অজস্র রজনীর দ্বার খুলে তিলোত্তমা নগরী ব্যস্ত বিশাল সমুদ্র আকাশ মরু বেদনা
সুশীর্ণ স্মরণে শোক থাকে না
মিথ্যা খেদ মানুষের মনে বিস্তার করে।