| কবিতা | সহজাত |
| কবি | নিজাম উদ্দিন রনি |
| কাব্যগ্রন্থ | এলোমেলো ভাবনা |
অফিস ফাইলের ব্যস্ততার পাহাড় অতিক্রম করে
ক্ষিপ্ত মন, ক্লান্ত দেহটাকে টানতে টানতে বাড়ি ফিরছিলাম
হঠাৎ মাঝপথে একটা নার্সারিতে দৃষ্টি আটকে গেল
কত কত সুন্দর সুন্দর ফুল তাতে খেলে আছে
হলুদ, সাদা, লাল, নীল, বেগুনি
আমি কখনই ফুলপিয়াসী ছিলাম না
তবুও কি জানি কি মনে করে
একটা গোলাপের চারা কিনে বাড়ি ফিরলাম।
তারপর সব বদলে গেল
আমার দিন, রাত্রি-ভোর
অলস সময়, ব্যস্ততা সব-
প্রতিদিন পরিচর্যায় অনাকাঙ্ক্ষিত পোকামাকড়
থেকে রক্ষা করতে আমার সে কি প্রচেষ্টা।
কত অলস বিকেল, ক্লান্ত দুপুর
জ্যোৎস্না রাত কেটেছে আমাদের অগোছালো গল্পে ।
এক সকালে ঘুম ভাঙ্গা ঝাপসা চোখে দেখি
চারা গাছে কলি এসেছে।
আমি আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলাম
তীব্র আনন্দের স্রোত খেলছিল আমার ভেতরে
সারাটা দিন কি খুশিতেই না আমার কেটেছে।
একদিন কলিটা ফুল হয়ে ফুটলো, টসটসে লাল
সে এখন প্রস্তুত কেশবতি বালিকার খোঁপার শোভা বাড়াতে
কাঁপা কাঁপা হাতে কোনো এক প্রেমিকের ইতিহাস হতে।
এক বিকেলে বাড়ি ফিরে দেখি
একটা অচেনা, অজানা ভ্রমর তাতে বসে আছে
মুহূর্তেই তীব্র হিংসা আমার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো
রক্ত লাভার মত ফুটতে থাকলো
আমি এক থাবায় ভ্রমরটাকে মুষ্টিবদ্ধ করে ফেললাম
নৃশংস ভাবে পায়ের তলায় পিষে মারলাম
তারপর, গাছের প্রতি আমার আর কোন মোহ ছিল না
আমি ফিরেও তাকাইনি।
এক সকালে হঠাৎ চোখ পড়তেই দেখি
ফুলটা চুপসে গেছে, নেতিয়ে পড়েছে
সব জৌলুস নিভে গেছে
তবে কি প্রেমিকের মৃত্যুতেই সে অকালে প্রাণ দিল
ব্যথার দহনেই তার এই করুণ পরিণতি?
আমার ক্ষোভ বাড়তে থাকলো
রাগে সমস্ত শরীর কেপে উঠলো
এক টানে শেকড়সহ গাছটাকে উপড়ে ফেললাম
হাতের মুঠোয় দুমরে মুচড়ে ছুঁড়ে দিলাম নোংরা ডাস্টবিনে
আমার প্রতি তীব্র এই অবহেলা আমি সইতে পারিনি।
রাগ ঠান্ডা হতেই দেখি হাতভর্তি রক্তের দাগ
ধুয়ে ফেলতে গিয়ে তীব্র জ্বলুনি অনুভব করলাম
অসম্ভব যন্ত্রণা আর অসংখ্য ক্ষতচিহ্নে কাতর হলাম
বেদনায় উপর্যুক্ত ভরপুর আমি
তবুও আমার ঘৃণা এক বিন্দু কমেনি।
এখনও আমি প্রতি রাতে স্বপ্নে দেখি
একটি চারা গাছ, লাল টকটকে গোলাপ
একটা অজানা অচেনা ভ্রমর পায়ের তলায় পিষ্ট
অজস্র রক্ত, অসংখ্য ক্ষত চিহ্ন।
স্বপ্ন ঘোরেই আমি হিংসায় জ্বলি রাগে ফুঁসি
স্বপ্ন ঘোরেই আমি তীব্র ভয়ে সঙ্কুচিত হই।