| কবিতা | দুনিয়ার প্রতি অনাগ্রহ |
| কবি | খন্দকার মঈন হোসেন |
| সময় | 23-oct-2026 |
| লিখার স্থান | ধানমন্ডি 15 |
| কবিতার বিষয় | জীবনমুখী, রূপক, সমসাময়িক |
সংসার আমাকে কখনো ঠিক নিজের মানুষ বলে মনে করেনি,
আমিও তাকে আপন করে নিতে শিখিনি।
মানুষ দেখি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত
কিছু একটা অর্জনের পেছনে ছুটছে—
অর্থ, সম্মান, বাড়ি, পরিচয়, ক্ষমতা;
কেউ হারানোর ভয়ে ব্যস্ত,
কেউ পাওয়ার আনন্দেও অস্থির।
আমি দূরে দাঁড়িয়ে শুধু দেখি।
আমার ভেতরে সেই ক্ষুধাটা জন্মাল না,
যে ক্ষুধা মানুষকে পৃথিবীর দিকে টেনে রাখে।
লোভী হতে পারলাম না,
স্বার্থপরও না;
এমনকি নিজের জন্য পৃথিবীর কাছ থেকে
খুব বেশি কিছু চাইতেও শিখলাম না।
কখনো মনে হয়,
আমার ভেতরে বোধহয়
দুনিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো অঙ্গই তৈরি হয়নি।
মানুষ যাকে সাফল্য বলে
তা আমার কাছে ক্লান্তির আরেক নাম;
যাকে প্রতিষ্ঠা বলে
সেটাও কখনো কখনো
একটি সুন্দর কারাগারের মতো লাগে।
দিন আসে,
কাজ আসে,
দায়িত্ব কাঁধে বসে,
সংসার তার হিসাব সামনে খুলে ধরে—
আমি সব করি,
শুধু কোনো কিছুর সঙ্গেই
মনের আত্মীয়তা তৈরি হয় না।
তখন আল্লাহর কাছে মনে মনে জিজ্ঞেস করি—
আমাকে সৃষ্টি করলে কেন,
যদি এই দুনিয়ার কোনো প্রলোভনই
আমাকে পুরোপুরি টানতে না পারে?
এই পৃথিবীর পরীক্ষায়
আমার প্রশ্নপত্রই কি আলাদা?
নাকি আমার ভেতরে এমন কোনো ঘরের স্মৃতি আছে
যেখানে আমি কোনোদিন ছিলাম না,
তবু সারাজীবন ফিরে যেতে চাই?
দুনিয়াকে অর্থহীন মনে হয়—
দুনিয়া সত্যিই অর্থহীন বলে নয়;
হয়তো আমি এখনো সেই অর্থটুকু খুঁজে পাইনি
যার জন্য আমার আত্মা
এই সমস্ত কোলাহল সহ্য করতে রাজি হবে।
আমি জীবন ছেড়ে যেতে চাই না—
আমি শুধু জীবনের এই প্রচলিত সংজ্ঞার ভেতর
নিজেকে খুঁজে পাই না।
সবাই যেখানে জিজ্ঞেস করে,
“কতটা অর্জন করলে?”
আমার ভেতর থেকে অন্য প্রশ্ন ওঠে—
এই এত অর্জনের শেষে
মানুষ আসলে কী নিয়ে ফিরে যায়?
আর সম্ভবত আমার সমস্ত অস্থিরতা
এই একটি প্রশ্নের কাছেই বন্দী—
আমাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে বাঁচতে,
নাকি পৃথিবীর ভেতর দিয়ে
অন্য কোনো অর্থ চিনে নিতে?