| কবিতা | ধ্বনি |
| কবি | আজিজুল হক |
| সময় | ১২/৯/২৬ |
| উৎসর্গ | দেশকে |
| লিখার স্থান | কোচবিহার |
| কবিতার বিষয় | জীবনমুখী, প্রতিবাদ, ভারতবর্ষ |
সংকোশের করাল স্রোতে ভেসে আসে অজস্র লাশ
শহরের আলোয় তারা একদিন
রকমারি ফার্নিচারের দোকানে নামহীন সৌন্দর্য হয়ে বিক্রি হয়!
গদাধর কাঁদে ভাটিয়ালির সুরে,
ভাওয়াইয়া হাহাকার তোলে চরাচরে,*ও মোর মাহুত বন্ধু রে*
কোন বুনো হাতির পিঠে চড়ে
হারিয়ে গেলি কোন অচিনপুরে?
গালিব জানে প্রেমের মরণ,
বিষের পেয়ালায় ঘুমিয়ে আছেন সক্রেটিস!
আর আমি?
রায়ডাকের মরা স্রোতে পা ডুবিয়ে
খুঁজে ফিরি ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান,
যেখানে একদিন প্রেমের বৃক্ষ আকাশ ছুঁতে চেয়েছিল।
কালজানির বুকে ভাসে আজও চাঁদ সওদাগরের ডিঙা!মনসার বিষদাঁত ভেঙে মানুষের প্রেম বাঁচাবে বলে।
নদী জানে, পুরাণ মরে না,
শুধু বদলে যায় তার ক্ষতচিহ্ন।
মানচিত্রে বেঁচে থাকে দেশ,
অথচ দেশের বুক থেকে মুছে যায় মানুষের মুখ।
প্রেমের শেষ আলোটুকু নিভিয়ে
অন্ধকার আজ সিংহাসনে!
আর আমরা ইতিহাসের ধুলোয়
খুঁজে ফিরি নিজেদের নাম।
পাগলি তিস্তা তার উন্মত্ত জলে
আমার প্রেমের বন্ধন আঁকড়ে ধরে,
তোর্সার পীরের মাজারে জমে থাকে
কত না-বলা মোনাজাত!
লোককথার ঘুমভাঙা পাখিরা ডেকে যায় রাতভর,
কেউ শোনে না তাদের আর্তনাদ।
আমি ইতিহাস পড়ি,
রাজাদের জয়গান নয়,
বিজেতার রক্তমাখা বয়ান নয়;
আর্য নয়, দ্রাবিড় সভ্যতার মাটিতেই
খুঁজে পাই আমার পুণ্যভূমি,
যেখানে মানুষের পরিচয় মানুষের চেয়ে বড় নয়।
তবু নদী বয়ে যায়, লাশ ভেসে আসে,
ভাওয়াইয়া কেঁদে ওঠে দূর চরাচরে….
কে শোনে সেই ধ্বনি?
আমি শুনি।
আমার শিরায় শিরায় নদীর গোপন গর্জন,
মৃত মানুষের চাপা আর্তনাদ,
প্রেমের অবিনাশী প্রতিধ্বনি।
এই ধ্বনিই আমার দেশ,
এই ধ্বনিই আমার ইতিহাস,
এই ধ্বনিই আমাদের প্রতিবাদ।
………… ……….