| কবিতা | কে তুমি নন্দিনী |
| কবি | হাসান মনজু |
| কাব্যগ্রন্থ | কে তুমি নন্দিনী / প্রিয়জন প্রকাশন |
| সময় | সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ |
| উৎসর্গ | নন্দিনীকে |
| লিখার স্থান | রাঙামাটি |
| সম্পৃক্ততা | নন্দিনী যেদিন নিজ মুখে বললো তার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে |
| কবিতার বিষয় | প্রেম |
যে আমায় দিব্যি দিলো
যে আমাকে দিব্যি দিলো,
একলা ডেকে ঠিক দুপুরে।
মন কেন সে ফিরিয়ে নিলো,
মুখ লুকালো অচীনপুরে।
যে আমায় প্রথম ডেকে,
অরুন্ধতী ,স্বাতীর খেলায়।
সব তারাদের জোছনা মেখে ,
মন রাঙালো তারার মেলায়।
শিউলী মালা শিশির ধোয়া,
ভোরের কদম বৃষ্টি ভেজা।
যখন মনটা ভীষণ বেপরোয়া,
হঠাৎ ডেকে বললো সে যা..
বললো সে তার মনের কথা,
এই যে শোনো বোকা প্রেমিক।
যার সংসারে নেই অভিজ্ঞতা,
চালচুলো তো ঠিক করে নিক।
সে যাচ্ছে চলে আমায় ছেড়ে,
করে নগর, নাগর ছত্রখান।
লাল শাড়ি সোনালী পেড়ে,
লাশের ওপর সাজােয়া যান।
একা একা চললো রাণী,
প্রণয় বিহীন রাজ্যপাটে।
শ্বেত পাথরে পা দু' খানি,
আঁতর ভেজা সোনার খাটে।
যে আমায় প্রণয় শেখায়,
কোজাগরী চাঁদের বনে।
তাকে কেন দুঃখী দেখায়?
হাসে করুণ ঠোঁটের কোণে।
ক্লিষ্ট, বিমূঢ় বিদায় ক্ষণে,
বাজলো শানাঈ শঙ্খ নিনাদ।
বললো সে কোন ব্রাত্যজনে,
বেকার জীবন এক অপরাধ।
আমিও এখন চাই পালাতে,
অচেনা এই শহর ছেড়ে।
শুধুই ভাবি একলা রাতে,
জেতাবাজি গেলাম হেরে।
সে যেন আজ সবার চেয়ে,
সুখেই থাকে, সুখেই থাকে।
বুঝলো না তো অবুঝ মেয়ে,
ভালোবাসাই আগলে রাখে।