| কবিতা | যদি আর কবিতা না আসে |
| কবি | আজিজুল হক |
| উৎসর্গ | দেশ প্রেমিকদের |
| লিখার স্থান | কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ |
| কবিতার বিষয় | জীবনমুখী, প্রতিবাদ, প্রেম, বাংলাদেশ, বিরহ, ভারতবর্ষ, মৃত্যু, রাজনৈতিক, সমসাময়িক, স্বাধীনতা |
জানো,
আজকাল আর কবিতা আসে না আমার,
লিখতে পারিনা কবিতা আজ আর আমি,
কবিতা লিখতে গিয়ে আমি লিখে ফেলি তোমাকে,
তোমার অজস্র মুহূর্ত গুলো কে।
কবিতা লিখতে গেলে কবির কাছে
যে শব্দ গুলো ভীষণ প্রয়োজন,
সে সব শব্দ গুলো আজ আর আমায় ভালোবাসে না,
অথচ তুমি কাছে এলেই
আমি সাজিয়ে দিতে পারি হাজারো না বলা শব্দের পাহাড়ে জড়ো হওয়া মেঘ থেকে বৃষ্টি হওয়ার গল্প গুলি।
নিজেকে কি অদ্ভুত মনে হয়,তাই না?
মেঘের দেশে বাদলের রিনিঝিনি শব্দে এখন আর বাঁশি বাজায়না কোন
ভ্যালেনটাইন নামের সাধু,
প্রেমের দেশেও সে হারিয়েছে
ঢেউ তোলা মাদলের সুরে কবিতার
শব্দ গুলো।
অথচ সব হারানো শব্দ গুলোর পরেও
আমি অবলীলায় আমি এঁকে যাই আমাদের গোপন প্রণয়ের আদল।
তবুও কবিতা লিখতে গেলেই হারিয়ে ফেলি পৃথিবীর সমস্ত শব্দ ভান্ডার!
কবিতা আজকাল আমার কাছে
ক্রমশঃ দুর্বোধ্য কত গুলো শব্দের মিথ্যেচারীতার বেশামাল যৌবনের সঙ্গে মহুয়ার সহবাস ছাড়া কিছুই মনে হয় না আর।
অথচ তোমার সমুদ্রসম অভিমান আর আকাশসম অবহেলা গুলো পেরেক দিয়ে
হৃদয়ে গেঁথে
আমি লিখতে পারি জন্মান্তরের মহাকাব্য।
অথচ কবিতা লেখা হয়ে উঠে না আজকাল আর আমার।
আমার অনুর্বর মনে কবিতা ভ্রুন গুলো প্রাণ খুঁজে পায়না এখন আর,
অথচ আমাদের ভালোবাসার আতুর ঘরে জন্ম নিয়েছিল নিষ্পাপ কতগুলো মহাকাব্য
সেই চর্যাপদের সাথে।
অথচ আজ আর কবিতা আসে না আমার, আমাদের।
অথচ কতবার ছুঁয়েছি আমি তোমায়,
স্পর্শ করেছি তোমার চিবুক,
স্পর্শ করেছি কবিতার ছন্দ গুলো একান্ত নিজেদের মত করে।
তবুও কবিতার শরীরে বাসা বাঁধা হয়নি বুঝি আমাদের।
দিকভ্রান্ত অভিমানে রক্তাক্ত হয়েছে কবিতার পঙ্গতি গুলো,
একুশের ভোরে সে কবিতা কাঁদে তাই,
রফিক কিংবা জব্বারের রক্তে শহীদ কবিতা গুলো কে
ভালোবাসতে পারিনি বলেই
ভণ্ডামি তে লজ্জায় মুখ লুকিয়েছে কবিতা সব,
ক্লান্ত দেহে ঠাঁই নিয়েছে তোমার অবজ্ঞা আর অবহেলার বারান্দায়।
আসলে কবিতাকে আমরা ভালোবাসতে পারিনি হয়তো কখনোও,
আমরা যতটা ভাঙতে পেরেছি নিজেদের,
ততটা ভালোবাসতে পারিনি আমাদের মুহূর্ত গুলোকে।
অথচ তোমার স্পর্শে আমি রোজ রোজ ভেঙেছি বারবার,
মেতেছি অসম এক যুদ্ধে ।
কবিতা গুলো হারায় এভাবেই
আমাদের আকাশ থেকে।
আমি কবিতা বলতে বুঝিনি শব্দের গায়ে শব্দের প্রলেপ,
ছন্দের সাথে তাল মিলিয়ে পথ চলা,
আমি কবিতা লিখতে গিয়ে শুধু
তোমাকেই লিখেছি,
আমি কবিতা লিখতে গিয়ে আমাদের মুহুর্ত গুলোর কথা লিখেছি,
আমাদের প্রজন্ম গুলোর মিছিলে হাঁটা হাড়হিম লড়াউয়ের কথা লিখেছি তোমাকে,
একান্তই তোমাকে,আমার এক্কেবারে নিজস্ব অনুভূতির কবিতার শব্দ গুলো কে।