| কবিতা | তুমিও তো বেশ্যা, শালা! |
| কবি | আজিজুল হক |
| উৎসর্গ | দেশ প্রেমিকদের |
| লিখার স্থান | কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ |
| সম্পৃক্ততা | বর্তমান সমাজ |
| কবিতার বিষয় | জীবনমুখী, প্রকৃতি, প্রতিবাদ, প্রেম, বাংলাদেশ, বিরহ, ভারতবর্ষ, মৃত্যু, রাজনৈতিক, সমসাময়িক, স্বাধীনতা |
আমাকে তুমি বেশ্যা বল, শরীর বেচি বলে?
জানো কি তুমি বেশ্যা কাকে বলে?
তোমরা যারা ঈমান বেচো
অর্থের বিনিময়ে,
তারাও কি বেশ্যা নয়?
একটু ভেবে বল।
তোমরা যারা অফিস বাবু, ছোট কিংবা বড়,
টাকার বিনিময়ে পকেট ভরে
ফাইল টি কর যখন সই,
ভেবে দেখ, বেশ্যার সাথে তফাৎ টা তোমার কই!
তোমরা যারা দেশ শুধারক...
ঘুষ নিয়ে দাও চাকরি,
আস্ত তো পাঁঠা নও ,
যেন এক একটা দুধেল গাই কিংবা বকরি,
তোমরা যারা টাকা নিয়ে বেচে দাও বিচার,
তাদের জাত টা যে বেশ্যার চেয়েও
কম কিসে আর?
তোমরা যারা ভোট বাজারে ভিক্ষে মাগো রোজ,
ভোটের পরে জিতলে পরে দেশ বিকিয়ে করছো ভুঁড়ি ভোজ,
আমরা শুধু দেহ বেচি,দেশ বেচি না কভু,
তোমরা তো ভাই বেশ্যার চেয়েও বড় বেশ্যা,
সন্দেহ নেই কভু।
চেয়ারে বসে নিচ্ছ টাকা,
কাজের বেলায় ফাঁকি,
ক্ষমতায় বসে ছড়ি ঘোরাও,
নৈতিকতারে ফাঁসি তে ঝোলাও,
আসল বেশ্যা তোমরা জেনো,
মিথ্যে তো নয় মোটে,
নেতার পিছু পা চাটতে তাই যে রোজ যে সবাই ছোটে ।
তোদের ঘরেই রোজ জন্মাচ্ছে বেশ্যা বেশি সাধু নর - নারী,
যারা টাকা পেলেই বেচতে পারে নিজের সকল জারিজুড়ি।
এরা মাকেও বেচে,
একটু সুযোগ পেলেই
বাপকে দেবে ঝাড়ি,
এমন দেশের রাজার আবার কিসের বাহাদুরি?
তোদের মত বেচি না ঈমান,
বিকোই না তো মন,
আমায় কাছেই রোজ বিক্রি হয়
তোদের ঘরের মান!
শরীর তো তোদেরও ছোঁয়
হাটে, বাজারে, অফিস চত্বরে,
তার বেলায়?
অশুচি হও বুঝি?
তোমার মাঝেও বেশ্যা কে বেড়ায় ওরা খুঁজি!
ভগবানেরে দাও যে বেচে
ভোট বাজারে চড়া দামে যখন,
বেশ্যা কি নয় গো তোমরা?
আসলে বেশ্যার চেয়েও অধম।
চামড়া বেচে আমরা খাই
ধর্ম বেচে তুমি,
অভাবে বেশ্যা আমি,
স্বভাবজাত তুমি।
তোমার আমার অনেক তফাৎ
জাত বেশ্যা তুমি,
আমি হলাম মা যে তোদের
আসল জন্মভূমি।