কবিতা মাসের শেষ বৃহস্পতিবার
কবি খন্দকার মঈন হোসেন
সময় 25-oct-2026
লিখার স্থান কুমিল্লা
কবিতার বিষয় জীবনমুখী, রূপক, সমসাময়িক
Review This Poem

মাসের শেষ বৃহস্পতিবার।
মেসের জানালা দিয়ে দেখি—
সন্ধ্যার বাসগুলো একে একে
শহর থেকে মানুষ তুলে নিয়ে যায়।

একসময় এই দিনটিতে
আমিও জানালার পাশের আসন পেতাম।
পথের অর্ধেক পেরোতেই মা ফোন করতেন,
‘আর কত দূর, বাবা?’

এবার টিকিট কাটিনি।

পকেটে ফেরার ভাড়াটুকুও নেই,
টেবিলের ওপর তিন মাসের বকেয়া হিসাব।
অথচ মাকে বলেছি,
‘অফিসে কাজ আছে, আসতে পারব না।’

এই মিথ্যেটুকু বলার সময়
মনে পড়েনি,
পুরো মাসে কেউ আমাকে
একদিনের জন্যও কাজে ডাকেনি।

বিকেলে বাবা ফোন করেছিলেন।
জানতে চাইলেন,
‘টাকা পাঠাতে হবে?’

বললাম, ‘না, চলছে।’

তারপর দুজনেই চুপ।
যেন একে অপরের মুখ না দেখেও
দুজন দুজনকে
ঠিক চিনে ফেলেছি।

রাতে মা আবার ফোন করলেন।

‘খেয়েছিস?’

‘হ্যাঁ, মা।’

মা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
‘আজ তোর বাবা বাজার থেকে
তোর পছন্দের মাছ এনেছে।
বলেছিলাম, তুই আসবি না।
তবু একটা বড় টুকরো
আলাদা করে রেখেছে।’

আমি আর কোনো কথা বলিনি।

জানালার বাইরে তখন
শেষ বাসটাও শহর ছেড়ে যাচ্ছে।
সেই বাসে কত মানুষ ফিরছে—
কেউ সন্তানের কাছে,
কেউ মায়ের কাছে,
কেউ এমন একটি ঘরে
যেখানে তার জন্য
রাতের খাবার অপেক্ষা করছে।

আমি শুধু ফোনের নিভে যাওয়া পর্দায়
নিজের মুখটা দেখলাম।

সেখানে ক্লান্তি ছিল,
অপ্রকাশিত কয়েকটি মিথ্যে ছিল,
আর ছিল এমন এক অভাব
যার হিসাব কোনো খাতায় লেখা যায় না।

মাসের শেষ বৃহস্পতিবারটাও
একসময় শেষ হয়ে গেল।

মেসমালিকের খাতায়
আমার নামের পাশে
তিন মাসের দেনা রইল।

আর বহু দূরে,
আমাদের বাড়ির রান্নাঘরে—
আমার নামের পাশে
এক টুকরো মাছ।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted