| কবিতা | কিছু লাশের জন্ম হয় যেভাবে |
| কবি | আজিজুল হক |
| উৎসর্গ | দেশ প্রেমিকদের |
| লিখার স্থান | কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ |
| কবিতার বিষয় | আশা, জীবনমুখী, প্রতিবাদ, প্রেম, বাংলাদেশ, বিরহ, ভারতবর্ষ, মৃত্যু, রাজনৈতিক, সমসাময়িক, স্বাধীনতা |
কিছু লাশের জন্ম হয়
যেভাবে
ক্রমাগত বুদ্ধিজীবীদের বুটের আওয়াজে হই হই শব্দে প্রতিধ্বনিত সভামঞ্চ -অডিটোরিয়াম।
মঞ্চে কবিতা আওড়াচ্ছেন সদ্য গজিয়ে উঠা নবীন প্রতিভা।
হাত নাড়ছেন আসনে বসে থাকা বেশ কিছু দিকগজ।
মাঝে দল বদলু সাহিত্যিকের বিগত দশকের ভুল ভ্রান্তি ও বর্তমান শাসকের নৈস্বর্গীগ প্রসংসনীয় ভাষণ!
হাত তালির শব্দে কেঁপে উঠছে হলঘর।
এপাশ ওপাশ জুড়ে নানান টিকা টিপ্পনি..
সাহিত্য একাডেমি টা জুটবে তো!
নিদেন পক্ষে দাদা দিদিদের ধরে খান কয়েক সম্মাননা!
'বুদ্ধিজীবী'রা পবিত্রতা বোঝেন,
বোঝেন পবিত্রতা বড়ই ব্যক্তিগত।
খান কয়েক নোংরা বিছানার সঙ্গে নিতান্ত গোপনে পাশাপাশি বিছানা শেয়ার করা।
মানুষের ভিড় কে এনাদের খুব একটা পছন্দ নয়, অস্বাস্থকরও বটে!
মানুষের মিছিল না- পছন্দ,
শহরময় ট্রাফিক জ্যাম
হকার, টোটো, অটোর নোংরামির দৌড়াত্ম।
এনারাই সুযোগ পেলেই বন-বান্দারে ছুটে আসেন,
বন জঙ্গলের মানুষ আর প্রকৃতির কাছে রোমান্টিসিজম খুঁজে নিতে!
হারিয়া আর মৌ মাতালের গন্ধে কবিতায়, গানে অপ্সরা নিয়ে মাতেন,
নিম্নবর্গীয় মানুষ গুলো সাব-অল্টার্ণ' থেকে গেল,
আল্ট্রা মর্ডান হতে পারলো কই!
ওরা একটা শ্রেণি-নিয়ন্ত্রিত সমাজের জীব,
আঁতে ঘা লাগলে গান বাঁধবেন,
কবিতা লিখবেন, মিছিলেও হাঁটবেন,
সাধারণ মানুষ খুন হলে ওরা অংক কষবেন!
ক'পা হাঁটবেন কিংবা আদৌ হাঁটবেন কিনা!
খেতমজুর কিংবা শ্রমিকের ঘাম মিছে দামে কেউ কিনে নিলে এনারা তামাশা দেখবেন,
রবীন্দ্র ভবন কিংবা নন্দনে বসে ঝাল মুড়ি চিবোতে চিবোতে রস কষকষে ছবিতে গিলে খাবেন মাধ্যবিত্তের জীবন।
এঁরা চিরকাল ক্ষমতার অলিন্দে বিরাজ করেন,
পছন্দ করেন উপদেষ্টা, কিংবা জনকল্যাণকামী কোন ফ্রন্টের চেয়ারম্যান
নিদেন পক্ষে বছর বছর কয়েকটা সম্মাননা কিংবা দু এক খানা
ছাইপাশ গোছের সরকারি ছাপ মার্কা কাগজের টুকরা।