স্মৃতির শহর ১২ – পুরোনো দুঃখগুলো আজ…
পুরোনো দুঃখগুলো আজকাল মৃদু ঢেউ হয়ে সুখের মতন ফিরে আসে তাদের বয়েস ও শরীর আছেসম্পূর্ণ
স্মৃতির শহর কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এ কাব্যগ্রন্থটি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় এবং কাব্যগ্রন্থে ২৭ টি কবিতা রয়েছে।
পুরোনো দুঃখগুলো আজকাল মৃদু ঢেউ হয়ে সুখের মতন ফিরে আসে তাদের বয়েস ও শরীর আছেসম্পূর্ণ
সীমান্ত এলাকার মানুষ গদ্যে কথা বলে বস্তি ও কলকারখানার মানুষ গদ্যে কথা বলে দিনের বেলায়সম্পূর্ণ
যদি কবিতা লিখে মাঠ-ভর্তি ধান ফলানো যেত আমি রক্ত দিয়ে লিখতুম সেই কবিতা যদি কবিতারসম্পূর্ণ
একদিন কেউ এসে বলবে তোমার বসবার ঘরে একটা চৌকি পাতবার জায়গা আছে আমি ঐখানে আমারসম্পূর্ণ
সরস্বতী হাইস্কুলের পেছনের বাড়িটার কলঘরেঢুকে বসেছিল একটা শেয়ালসে কোথা থেকে এসেছে কেউ জানে নাকী করেসম্পূর্ণ
সদ্য-তরুণটির প্রথম কবিতার বই আমি হাতে তুলে নিই ঈষৎ কাঁচা প্রচ্ছদে সবুজ সবুজ গন্ধ প্রজাপতিরসম্পূর্ণ
চোখে লেগেছিল কুমারী শবের ধোঁয়া ডালপালা মেলে কেঁদেছিল নিমগাছ মধ্যরাতের বাতাস পাগল হলো কাঠকয়লায় কেউসম্পূর্ণ
আটচল্লিশ হঠাৎ ঝাঁপ দিল ঊনত্রিশের গনগনে আগুনে ভূমিকম্প বয়ে গেল শ্যামপুকুর স্ট্রিটে ভেঙে পড়লো মিত্তিরসম্পূর্ণ
কফি হাউসে বসে আমরা একটা পাহাড় ভেঙে পড়ার শব্দ পাই আকাশে লাল ধুলো… পয়ারে নসম্পূর্ণ
নৌকোর গলুইতে পা ঝুলিয়ে বসার মতন প্রিয় বাল্যকাল ছেড়ে একদিন এসেছিল কৈশোরে বার হাত শক্তসম্পূর্ণ
কৈশোর ভেঙেছে তার একমাত্র গোপন কার্নিস কৈশোরই ভেঙেছে ভেঙে গেছে যত ঢেউ ছিল দূর আকাশসম্পূর্ণ
আমরা যারা এই শহরে হুড়মুড় করে বেড়ে উঠেছি আমরা যারা ইট চাপা হলুদ ঘাসের মতনসম্পূর্ণ
একে ওকে নষ্ট করে চলে গেল প্রেম যদি বা যাবার ছিল তবে কেন থেমেছিল সহসাসম্পূর্ণ