| কবিতা | পুরুষের যন্ত্রনা পেতে নেই |
| কবি | আজিজুল হক |
| লিখার স্থান | কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ |
| কবিতার বিষয় | অন্যান্য, জীবনমুখী, প্রেম, বিরহ, রূপক, সমসাময়িক |
তোর বুঝি ভীষণ কষ্ট হয়?
—না!
কেন হয় না? তুইও তো মানুষ!
আর দশ টা মানুষ যখন দুঃখে কাঁদে,
নিজের আবেগ ক্ষত বিক্ষত হলে ভেঙে পড়ে, তখনও তুই কেন নিরব থাকিস?
আমি যে পুরুষ মানুষ!
মানুষ নই,
আমার দুঃখ হলেও চেপে যাই,
আমাকে কেউ মাড়িয়ে গেলেও আমার অভিযোগ জানাবার কোন জায়গা নেই।
আমাকে কোন প্রতারক উল্টো প্রতারানার অভিযোগে বিদ্ধ করলেও সহজে সবাই বিশ্বাস করে,
অথচ আমি প্রতারিত,
এটা বলতে আমার লজ্জা হয়, ভয় হয়, আমি চেপে যাই,
কেন না আমি পুরুষ,
আমাকে চেপে যেতে হয়,
আমার যে কাঁদতে নেই!
কখনও আফসোস হয় না তোর?
হয় বইকি!
কিন্তু বৃথা সে বেদনা।
নিজের কথা শোনার যে কেউ নেই আমার।
উল্টে সকলের কথা শুনতে হয় আমার।
বউয়ের এটা তো ছেলের ওটা, মেয়ের বাকি টা,
বৃদ্ধ বাবা মা তো আছেন!
তাদেরই বা করি টা কি?
ওরাই বরং বড্ড ঠকে আমার কাছে।
তবুও মা টা আমার, আমার পথ চেয়ে বসে থাকে কখন ফিরবে ছেলে তার বাসায়!
আমার মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু আদরের উষ্ণ ছোঁয়ায় আমার বেদনায় পরশ ছুঁয়ে দেয় অহরহ!
অভিযোগ নেই কোন?
আছে বিস্তর। করি কোথায়?
বয়স প্রায় চল্লিশ পেরিয়ে যাওয়া পুরুষ আমি।
আমার সব অস্তিত্ব জুড়ে কত প্রেমের পরশ।
ছুঁয়ে দেয়ার লোক নেই।
দুচোখের আনাচে কানাচে ভাল লাগা উড়ে বেড়ালোও ছুঁয়ে দেখার হিম্মত আমার নেই!
লোকের চোখে বেমানান হয়ে যাবার ভয়ে ইচ্ছে গুলো কে কবর দেই।
আমার মতো কত জনের ইচ্ছেই চাঁপা পড়ে সকাল - সন্ধ্যার নিত্য টানাপোড়োনে!
তোর মনে পড়ে আমার কথা?
পরে বইকি!
তোকে ভুলি কেমন করে?
আমার ভিতরে প্রথম যে পুরুষ নামক মানুষটিকে জাগিয়েছিলি তুই।
তোর খারাপ লাগে কখনও?
হয়তো!
তুই জেনেই বা কি করবি, বল?
তবে এটাও সত্যি, সব টা দিয়ে ভালোবাসতে পারে কজন?
ইচ্ছে গুলোর তো অপমৃত্যু হয়।
দেখ, সবাই সবটা দিয়ে ভালোবাসতে পারে না।
সারাদিন ক্লান্তি গুলো নিয়ে যখন ঘরে ফিরিস,
বউ বুঝি আদরে হাত বুলিয়ে দেয়?
খুব সোহাগে জড়িয়ে ধরে একলা পেলে?
বুকের ঘাম গুলোকে কি শাড়ির আঁচল দিয়ে মুছে দেয়? ইচ্ছে করে কি কখনও কাছে টেনে নেয় এই চল্লিশেও?
তুই বুঝি করিস তোর পাশের মানুষটিকে?
নারে ওসব আর হয়ে উঠে না।
সারাদিনের ক্লান্তি,
ছেলে মেয়ের কত রকমের ফাই ফরমেশ,
আমার মনে বসন্তের পরশ থাকলেও
পলাশ ফোটে না তাতে আর!
চল্লিশ পেরোনো মানুষটাকেও
বুঝতে আমার কষ্ট হয়।
সব মেয়েরাই তাই বলে।
আসলে কি জানিস?
চল্লিশ পেরোনো শরীর টা শুধু শরীরের ছায়ায় ঠাঁই খোঁজে না,
মনের গভীরতায় হারিয়ে যেতে ভালোবাসে বড্ড বেশি,
অথচ পাশের মানুষটা ছেলে মেয়ের যত্ন নিতে নিতে নিজের পাশাপাশি
পাশে শুয়ে থাকা একলা মানুষটাকে স্পর্শ করতে ভুলে যায়
মনের উষ্ণ আলিঙ্গনে।
ভালোবাসা নেই বুঝি?
তুইও তো টেনে নিতে পারিস তোর মনের স্পর্শ দিয়ে! শুধু তারই বা দোষ কোথায়?
দোষের কথা বলিনি তো!
আসলে সারাদিনের কান্তি,
ঝক্কি ঝামেলায় হারিয়ে যায় পরস্পরের মনের সান্নিধ্য!
মন খুঁজে বেড়াতে চায় অচেনা সান্নিধ্য আর গন্ধ।
ওতেই বুঝি প্রেমের পরশ খুঁজে পায় মন।
সে পেলে দোষের কি? খুঁজে নিস না কেন?
আসলে সবাই ভালোবাসতে পারে না।
সেটা পারলে
ভালোবাসা এত সুন্দর হত না, ভালোবাসার মূল্য থাকত না!
কেউ কেউ শুধু ভালোবাসতে পারে।
বাকিরা ভেসে বেড়ায় দিগন্ত বিহীন শূন্যতায়।