| কবিতা | এক কাপ বিরুক্তিকর যাপন |
| কবি | আজিজুল হক |
| লিখার স্থান | কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ |
| কবিতার বিষয় | আশা, জীবনমুখী, প্রতিবাদ, বাংলাদেশ, ভারতবর্ষ, রূপক |
হৃদয়ের ক্ষতটা ক্রমশঃ বাড়ছে তাতে জমেছে গভীর আস্তরণ
আর শ্যাওলা জমেছে কত..
কতবার ঝেড়ে ফেলেছি
বুকের গভীর ক্ষত থেকে ধুলো জড়ানো মরিচা গুলো।
যে স্মৃতি আঁকড়ে রাখে এক টুকরো গাছপাকা ফলের গন্ধ,
স্মৃতি হার মানে না তবুও!
অথচ তারই প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস
শব্দ হয়ে কবিতায় বৃষ্টি হয়ে ঝরে।
ছেড়া কাঁথায় সুতো পেঁচিয়ে
স্মৃতি গুলো মুছে ফেলার অক্লান্ত প্রয়াস
ফিরে আসে বারবার বৃষ্টির ছলে।
এক কাপ চায়ে চুমুক দিলেই
স্মৃতিতে ভাসে
তোমার ঠোঁটের আলতো ছোঁয়া,
লাল রঙের মাটির ভাঁড় আর চায়ের গন্ধে গা ভাসিয়ে—
কবিতা গুলো বাঁক নেয়
সিকিয়াঝোরার অথৈ জল আর জঙ্গলে।
হাল্কা অ্যালুমিনিয়ামের প্লেটে
ছিটকে পড়া চোখের জলে
নষ্ট হয় ভাতের দানা—
কয়েক জোড়া চোখের ইশারায় অনেক দেখা চরিত্রবানেরাও ভেসে যায়,
মুখোশ থাকে মুখে সংস্কৃতির।
কবি, তোমার শব্দ গুলিও জন্মায়
কিছু মিথ্যে প্রেমে।
কবিতা গুলো কখনও ধুলো জমা
লোকাল ট্রেনের বগিতে
খুঁজতে থাকে জমানো স্মৃতি
কখনও নন্দন চত্বরে কোনো এক যুবতীর কোলে মাথা রেখে পান করে
ফাঁকা সিটে বসে থাকা উদ্ভিন্ন যুবতীর চিত্তরস!
ধুলো জমে সিক্ত শরীরে।
তারপর.......
অনেক পরে
ঘরের এক কোণে পরে থাকা পাশ বালিশটায়
শান্তি খোঁজে কবিতার প্রতিটি শব্দ,
খোলা জানালায় মনে পরে কোন এক রমণীর স্পর্শ,
তাকে গভীর ভাবে ভালোবাসা,
তার স্পর্শে কবিতা হয়ে উঠার প্রতিটি মুহূর্ত।
ক্লান্ত, অবসন্ন সে প্রেম আজ
বিকাশ ভবন কিংবা উচ্চ ন্যায়ালয়ের
সিঁড়িতে, অলিন্দে কিংবা চিলেকোঠায় চোখের জল ফেলছে।
প্রতিটি শব্দ আজ উত্তরের মাটিতে গল্প শোনায় আদিবাসী মনের,
ভুলভাল কবিতার উৎসে বিরক্ত হয় প্রেম,
নির্বাক কবি শুধু হাততালি দিয়ে
জমে থাকা ধুলো গুলো ঝাড়ার চেষ্টা করেন বটে!
মেটেলির কোন এক ডুয়ার্স কন্যার ভাঙা হারমোনিয়ামে তখন বেজে উঠে রবী ঠাকুরের........
*মুক্তি, ওরে মুক্তি কোথায় পাবি *!
আসলে ছেড়ে দেয়া হাত টা
আজও কবিতা হয়েই যন্ত্রনা দেয়
মাটি দিয়ে গড়া হৃদয়ে,
কোন এক রূপকথার রাজকন্যার ওড়না ভেজা চোখের মায়ায়
মিশে থাকে আমাদের হারানো সংস্রব, কত স্পর্শ, অনুভূতি
নৈঃশব্দ্যের স্রোতে............।