| কবিতা | অব্যক্ত শিলালিপি |
| কবি | আজিজুল হক |
| কবিতার বিষয় | অন্যান্য, জীবনমুখী, প্রতিবাদ, প্রেম, বাংলাদেশ, ভারতবর্ষ, স্বাধীনতা |
প্রাণের বর্ণমালা দিয়ে আমি মানুষটাকে গড়ি,
আমি সেই মানুষ টা কে ভালোবাসি মনের সব অলিন্দ জুড়েই,
যে আমায় কখনও ভালোবেসেছে কিনা
তা আমার বিচার্য ছিল না।
আমি পাহাড় টা কে খুব পছন্দ করি,
পাহাড়ের মতোই উন্নত হৃদয়েই!
আমি তাকে স্পর্শ করেছি নক্সীকাথার মাঠে।
আমি শিউলি পলাশের রক্তিম সৌন্দর্যে
মিছিলের প্রথম সারিতে তার হাতে হাত রেখে
অজস্র স্লোগানে পূর্বরাগের তর্জমা করেছি!
আমি তোমার প্রস্থান টাকে তাই প্রস্থান মনে করিনি
, কেন না,ওতে সুরুয়াত থাকে!
তোমার দুচোখে আমি সমুদ্র খুঁজিছি তাই।
তার গভীরতায় আমি তোমার চোখে দেখতে চেয়েছি আকাশ..
,মুক্ত বিহঙ্গের মত..।
তোমার চোখের গভীরতায় আমি তোমার প্রেমের
মর্মার্থ খুঁজি প্রতিক্ষণ,
সে প্রেম কত টা গভীর,
সমুদ্রের মত!
তোমার ওষ্ঠাধারের মাঝ বরাবর কাল তিল টা তে খুঁজি কলঙ্কের দাগ!
সে দাগ কত টা সুন্দর ,
সেই অতল সমুদ্রে ভাসিয়ে দিই ময়ূরপঙ্খী নাও।
কলঙ্কিনী রাইয়ের মুখ খুঁজি তোমার পল্লবিত দুনয়ন ব্যাপী।
অতল গভীরতায়।
তোমার কয়লা খাদানের উপছে পড়া আগুনে পুড়ে যাওয়া মুখে আমিও খুঁজি
সামন্ততন্ত্রের নির্লজ্জ ইতিহাস!
তোমার ওষ্ঠাধরের ক্রমাগত বেড়ে চলা চাপ
মহেঞ্জোদারোর শিলালিপির মত
কিংবা অনার্য মহিরাবনের বীরত্ব
অথবা..
আর্য পুরুষের পৈশাচিক উল্লাস কেও হার মানায়।
দাগ পরা মুখটাতে আমি ঐশ্বর্য খুঁজি তাই।
হয়তো আবার দেখা হবে আমাদের
কোনো মিছিলে কিংবা রেস্তোরায় বা
হাসপাতালে!
তখন না হয় কাছে টেনে নেব আবার ,
মহেঞ্জোদারো পেরিয়ে আগামী কোনো সভ্যতায়!
তখন
চুলগুলোতে বিনুনি করে দেব না হয়,
আর তুমি মাথা রেখ ভাস্কর্যের চারুকলায়!
.....