| কবিতা | অপেক্ষা |
| কবি | সুজিত কুমার ভৌমিক |
| কাব্যগ্রন্থ | রশ্মিছটা |
| সময় | ২০২৬ |
| উৎসর্গ | সবিতা ভৌমিক |
| লিখার স্থান | চন্ডীপুর |
| সম্পৃক্ততা | যন্ত্রনা |
| কবিতার বিষয় | অন্যান্য, সমসাময়িক |
অপেক্ষা
********
সুজিত কুমার ভৌমিক
*********************
রবিবার আসে,রবিবার যায়,
গেটের দিকে তাকিয়ে থাকা ফুরায় না।
ছেলের দেওয়া ঘড়িটা আজও টিকটিক করে,
সময় এগিয়ে চলে,ওরা আর আসে না।।
এখানে সবার একটা গল্প আছে,
ছেলে,মেয়েরা সময়ের অভাবে আসে না।
চায়ের আড্ডায় হাসি হয়,গল্প হয়,
রাতে বালিশ ভেজে,সেটা কেউ দেখে না।।
সন্ধ্যা নামে,লাইট জ্বলে।
বারান্দার কোণে চেয়ারটা আজও ফাঁকা না।
আমি বসে থাকি দিনের পর দিন।
হাতে ছেলের শেষ চিঠিটা ৩ বছর আগের।
“পূজোয় আসবো এবার।”
পূজো চলে গেছে ৩ বার,ছেলে আসে না।
এখানে কেউ কাঁদে না।
শুধু রাত ১১টার পর বাথরুমের সামনে,
জলের শব্দটা একটু বেশি শোনা যায়।
ওটা চোখের জল,নাকি কল বোঝা যায় না।।
ডাক্তার বলে “প্রেসার ঠিক আছে?”
নার্স বলে “খেয়েছেন তো?”
কাঁপাকাঁপা গলায় হ্যাঁ বলি তারে।
পেট ভরে, কিন্তু মন?
মনটা তো সেই পুরনো বাড়ির
দাওয়ায় পড়ে আছে।
কেউ ডাকে না আর আমার নাম ধরে।।
ছেলে ফোন করে রবিবারে।
২ মিনিট, “ভালো আছো?”
“হ্যাঁ বাবা, খুব ভালো।
এখানে সবাই ভালোবাসে।”
ফোন রাখার পর ২ মিনিটের জন্য,
এই ঘরটা বড্ড বড় লাগে।
বড্ড লাগে নীরব অন্ধকার কালো।।
এখানে সকাল হয় না।
শুধু নার্সের হাতে ওষুধের ট্রে আসে।
সাদা বড়ি,সাদা দেওয়াল, সাদা চাদর।
সব সাদা যেন শ্মশান সম নীরব।
রঙ বলে কিছু ছিল, ভুলে গেছি।
মনে পড়ে বাড়ীর বাগানের পাখীর কলরব।।
গেটের বাইরে গাছ আছে।
পাতা ঝরে,কেউ কুড়োয় না।
আমার ছেলের নামটা মুখে আসে,
তারপর গলায় আটকে যায়।
উচ্চারণ করলে যদি উত্তর না আসে?
রবিবার আসে।
সবার ছেলে মেয়ে আসে।
ফুল,মিষ্টি,সেলফি,হাসি ফুরায় না।
আমার পাশের চেয়ারটা খালি থাকে।
ধুলো জমে,কেউ মোছে না।
আমিও মোছাই না।
রাতে লাইট নেভে।
নিঃশ্বাসের শব্দ ছাড়া আর কিছু নাই।
মনে পড়ে নিজের সাধের পুকুরের
পাড়ে দাঁড়িয়ে মাছরাঙা,বক,কাক।
মনে পড়ে কলমির সবুজ সংকেত,
ও খোকার প্রিয় শুশনির শাক।।
আমি মরি না।
মরলে তো ঝামেলা।
শুধু রোজ একটু একটু করে ফুরিয়ে যাই।
যেমন পুরনো ক্যালেন্ডারের পাতা —
ছেঁড়ে না কেউ,তবুও জানে শেষ হবেই।।
বৃদ্ধাশ্রম!এটা বাড়ি না।
এক দগ্ধ অপেক্ষার দিন গুনি।
আর যার জন্য অপেক্ষা!
সে আর আসবে না-
নীরবে নৃভিতে তা জানি।।