কবিতা তৃতীয় নদীর আগে
কবি আজিজুল হক
লিখার স্থান কোচবিহার
সম্পৃক্ততা মানুষের অবনমন
কবিতার বিষয় জীবনমুখী, প্রতিবাদ, ভারতবর্ষ
Review This Poem

জোনাকির ভিতরে একটি কালো নদী ছিল,
আমি সেখানে নোঙর ফেলেছিলাম
যখন পরাগের ঘড়ি উল্টো দিকে চলতে শুরু করে।

প্রজাপতিরা মৃত বর্ণমালার ওপর বসে তাদের দ্বিতীয় ডানা খুঁজছিল,
আর ফড়িং, নিজের স্বচ্ছতাকে বহন করতে না পেরে,
জলের নিচে আরেকটি আকাশ ডুবিয়ে দেয়।

তুমি এসেছিলে শামুকের পরিত্যক্ত সর্পিলে,
যেখানে সময় নিজের কঙ্কাল খুলে রেখে ঘাসের সঙ্গে গোপন বিনিময়ে লিপ্ত।

আমরা কেউই তখন মানুষ ছিলাম না।

একটি নদী ছিল,
না, নদীর স্মৃতিতে উৎপন্ন কোনো শূন্যতা,
যা ক্রমাগত নিজের উৎসকে খেয়ে মোহনার জন্ম দিচ্ছিল।

সে-জলে ভাসছিল কিছু নামহীন কীটপতঙ্গ,
কিছু অসমাপ্ত চুম্বন, কিছু সভ্যতার দাঁত।

আমি দেখেছি, কংক্রিটের ভেতরে একটি মৌমাছি মধুর বদলে পরিসংখ্যান জমা করছে।
আমি দেখেছি, পিঁপড়ের সারি বেয়ে একটি রাষ্ট্র তার ছায়াকে স্থানান্তর করছে অন্য এক অনুপস্থিত দুপুরে।

আর তখনই তোমার চোখ থেকে উড়ে আসে এক ঝাঁক নক্ষত্র-পতঙ্গ।
তারা অন্ধকার খায় না, আলোর পচন খায়।
তারা বসে থাকে ঈশ্বরের ভুল উচ্চারণের উপর।

এদিকে সভ্যতা,
নিজের আয়নার গর্ভে আটকে পড়া এক অস্থির ভ্রূণ,
ক্রমাগত জন্ম নিচ্ছে এবং মৃত হচ্ছে একই মুহূর্তের ভিতর।

নদী তার পাশে শুয়ে স্বপ্ন দেখছিল পাথরের।
পাথর স্বপ্ন দেখছিল শৈবালের।
শৈবাল স্বপ্ন দেখছিল কোনো বিলুপ্ত জোনাকির অভ্যন্তরীণ সূর্যের।

আর আমি,
তোমার নীরবতার ভেতর একটি ক্ষুদ্র ফড়িংয়ের কম্পন শুনে বুঝেছিলাম,
প্রেম আসলে দু’টি পতঙ্গের মিলন নয়,
বরং এক মৃত নদীর স্বপ্নে আরেক মৃত নদীর ধীরে ধীরে জেগে ওঠা।
………….. ………

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted