| কবিতা | যদি ফিরে আসা যায় |
| কবি | আজিজুল হক |
| উৎসর্গ | মাধবীলতা কে |
| লিখার স্থান | কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ |
| কবিতার বিষয় | জীবনমুখী, প্রতিবাদ, প্রেম, বিরহ, সমসাময়িক |
ছুড়ে ফেলে যাওয়া প্রেমিকের হাত ধরে
যদি কখনো নিরুদ্দেশ হতে ইচ্ছে করে,
তবে একবার সমস্ত দ্বিধাদন্দ ছেড়ে জানিয়ো-
এ আমার কোন আকুতি নয়, নির্ভেজাল কৌতূহল মাত্র,
এমনও তো হতে পারে ! ভালোবাসা ফির যদি প্রাণে জাগে
তখন ধু ধু মরুভূমিতেও দু চালার ঘর বাঁধা যায় !
তোমার মনে পরে?
ভালোবেসে আমরা সমস্ত ক্লান্তি কে ঝেড়ে ফেলতাম,
বরং ভালোবাসা ক্লান্ত হয়ে ফিরে
আসতো বারবার শ্যামলা বনের ধারে নোনাই কিংবা ডিমার সূর্য ডুবার লাল দিগন্ত জুড়ে,
জঙ্গল সাঁওতাল তখন চা বাগানের কুঁড়ি পাতায় মার্কসিজিমের সঙ্গে গভীর প্রেমে যুক্ত ছিলেন,
আমাদের মত করে হাতে হাত রেখে নুতন স্বপ্নের কথা বলতেন।
তুমি চাইলে আমরা আবার তাকে খুঁজে আনতে পারি
ভালোবাসা ফিরে এলে
শুনেছি হাসনাহানাগুলো নাকি আবার হাসতে শুরু করে পুরোনো প্রেমের স্পর্শে।
জোয়ার নাকি ফিরে আসে আদি গঙ্গায়,
নোনা বালিতে নাকি ঝাউ বনে পাখিরা আবার ভালোবাসতে শুরু করে,
ভ্রমরের গুঞ্জনে বসন্ত নিশ্চুপ থাকতে পারে না,
চাষের জমি গুলো ভরে উঠে শস্য শ্যামলের সবুজ গালিচায়।
শুধু “তুমি ফিরে এলে!
এ সবই শোনা কথা,
সত্যি নাও হতে পারে,
তবুও যদি কখনো ইচ্ছে হয় নিরুদ্দেশ হতে,
একবার শুধু ইশারায় জানিয়ে দিও ,
না, এ আমার অনন্ত জিজ্ঞাসা নয়,
শুধু নির্ভেজাল কৌতূহল মাত্র।
শুনেছি, ভালোবাসা ফিরে এলে নাকি
বসন্ত ফিরে আসে,
চিল - শালিকেরা পুরোনো প্রেমিকার কাছে নাকি ফিরে যায় অভিমান ভুলে,
ডালে ডালে গুঞ্জরিত হয়
অজস্র পাখিদের কলতান।
ঈশ্বরও তখন চিৎকার করে বলতে থাকেন,
ভালোবাসা পাপ - পুণ্যের ধার ধরে না,
ভালোবাসা আমার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ অনুভূতি গুলোর মেলবন্ধন।
তাই শুধু তারই কাছে ফিরে যাওয়া যায় বারবার,
যে ভালোবাসে,
যাকে ভালবাসতে ইচ্ছে হয়।
একটাই তো জীবন,
অনন্ত তো তার স্বাদ নয়,
আবার কখনো ফিরে আসা হবে কিনা,
কে জানে সে কথা!
কত কষ্ট বুকে নিয়েও
ফিরে আসতে পারেনি জীবনানন্দ আবার বনলতার কাছে!
হৃদয়ের কাছে বার বার ফিরে যাওয়া যায়,
হেরে যাওয়া যায় ভালোবাসার কাছে,
মিথ্যে প্রেমের কাছে হেরে যায়নি ক্ষুদিরাম কিংবা ভগৎ সিং,
তারাও তো ফিরে এসেছে আমাদের কাছে,
আমাদের রক্ত রঞ্জিত ত্রিবর্ণ পতাকায়,
আমাদের ভালোবাসায় ঘর বেঁধেছে ওরাও,
যদি থমকে যাও হঠাৎ কখনো,
তবে জেনো,
এখনো প্রেম আছে হৃদ মাঝারে,
চাইলে ছাড়তে পারো ঘর
হৃদয়ে একরাশ বারুদ নিয়ে।
তখন না হয় আমি বিলি কাটবো তোমার চুলে,
তোমার অবসন্ন ক্লান্ত হৃদয়
মাথা রাখবে আমার বুকে,
আমরা আবার না হয় ঘর বাঁধবো মিছিলে মিছিলে
আমাদের মেয়ে টা বহুদূর ব্যাপী
নাগরিক সমাজে যুদ্ধ জয়ের সওগাত পৌঁছে দেবে নিউইয়র্কের কোন এক রাস্তায়,
খুব কাছে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরবো তোমায়,
সূর্যদয় থেকে সূর্যাস্ত বেলা পর্যন্ত আমাদের ভুল গুলো তে চোখ বুলাবো,
যদি ফিরে আসো কোনো এক পড়ন্ত বিকেলের সোনা ঝরা মায়ায়।
নকশালবাড়ি কিংবা পূর্ণাপ্পা ভায়ালারের কাঁটা বিছানো শজ্যায়
সোহাগ রাতে দুজনই আবার পূর্ণিমার চাঁদ দেখবো
হৃদ বসন্ত কে সাক্ষী রেখে না হয় আবার,
বারবার, অজস্র বার.....