কবিতা বিষাদী মহালয়া
কবি সুজিত কুমার ভৌমিক
কাব্যগ্রন্থ যন্ত্রনা
সময় ০২/১০/২৫
উৎসর্গ সবিতা ভৌমিক
লিখার স্থান চন্ডীপুর
সম্পৃক্ততা যন্ত্রনা
Review This Poem

বিষাদী মহালয়া
**************
সুজিত কুমার ভৌমিক
********************
মহালয়ার ভোরে মহিষাসুরমর্দিনী দেখে,
প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে পড়লাম ফুরফুরে মেজাজে।
কিছুটা এগিয়ে দেখি এ কী!
একটি বস্তা পড়ে আছে মুখ বাঁধা হয়ে!
এই বস্তা কেন এখানে পড়ে আছে?
কী আছে এই নীরস নিস্তেজ বস্তায়?
কোলাহলে আস্তে আস্তে লোক জড় হল।
বস্তার মুখ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ!

এক সদ্য তাজা রক্তমাখা কন্যার মৃতদেহ!
শরীরে শৃগালের মত খুবলে নেওয়ার
ক্ষতবিক্ষত চিহ্নে অনেক কিছু স্পষ্ট।
মুখে রক্তের কেলাসাকার তাজা দাগ।
হাত পেছন মোড়া,পায়ের হাড় ভাঙ্গা,
গলার হাড় বোধহয় বেঁকে গেছে,
করুন ভাবে চোখ কিছুটা খোলা।
হয়তও বা কিছু আগেই মারা হয়েছে,
নৃশংস,নির্মম,যন্ত্রনাবিদগ্ধভাবে।

ভাবলাম,এরও স্বপ্ন ছিল বাড়ী হবে,
এই পূজোতে বন্ধু নিয়ে ঘুরে বেড়াবে।
শুচিস্মিতা হয়ে হেলে দুলে রেস্তোরাঁ,
হোটেলে মজা করে খাবে।
প্রতিভার বিচ্ছুরণ দেখাবে এই সমাজের
কোনো না কোনো ক্ষেত্রে।
কিন্তু এই স্বপ্ন এখন বস্তাবন্দি নারীর লাশ!
হায় ভগবান! কতটা নিষ্ঠুর না হলে,
কতটা পিশাচ না হলে,
এই ফুটফুটে আগামীর একটি সুন্দর,
ফুলকে নিংড়ে মাড়িয়ে পিষে ফেলা যায়!

পুলিশ দলবল নিয়ে পৌঁছে গেল কিছু পরে,
কিছুক্ষণ সামনের দামাল ছেলেদের
দিকে ঈশারা করে চোখাচোখি হয়ে,
তাড়াহুড়ো করে নিয়ে চলে গেল লাশটা।
আমি মনে মনে ভাবলাম,
আজ নাকি মহালয়া!
অশুভ শক্তির বিনাশ!
দিন পাল্টেছে বোধহয়,
তাই শুভ শক্তিকেই যেতে হবে আগে,
পিছমোড়া হয়ে রক্তাক্ত কলেবরে,
যার আশা,আকাঙ্খা,ভালোবাসাগুলো,
তাজা শুকনো কেলাসাকার রক্তে পরিণত হবে।
আর অশুভরা?
অশুভরা তীব্র ভীষম আনন্দে মেতে উঠবে।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted