| কবিতা | বিজয়া |
| কবি | সুজিত কুমার ভৌমিক |
| কাব্যগ্রন্থ | যন্ত্রনা |
| সময় | ০২/১০/২৫ |
| উৎসর্গ | সুকুমার ভৌমিক |
| লিখার স্থান | চন্ডীপুর |
| সম্পৃক্ততা | যন্ত্রনা |
বিজয়া
****************
সুজিত কুমার ভৌমিক
********************
নবমীর রাত কেটে যেতেই
বুকটা কেমন কঁকিয়ে উঠলো।
আজ যে বিজয়া দশমী।
হারিয়ে যাওয়া শিশুর মত,
কিংবা ফুটপাতে ধুলো কাদা মাখা
অনাথ শিশুর মতো ধড়পড়িয়ে উঠে পড়লাম।
হালকা নীল আকাশ এবং
সাদা পেঁজা তুলোকে
বাড়ির ছাদ মনে করে
আকাশের মহাশূন্যে তাকালাম।
আজ আমাদের মা,
আমাদের সর্বজয়া করুণাময়ী মা,
আমাদের ছেড়ে চলে যাবে।
তাহলে ওই বেকারদের কি হবে,
যারা দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ,
মাসের পর মাস, মায়ের দিকে চেয়েছিল,
এবার তাদের চাকরি হবে বলে?
কিংবা রাজনীতির যাঁতাকলে
পৃষ্ট, ক্লিষ্ট, অতিষ্ট হওয়া যুবকগুলি,
যারা কিনা ভোটের সময়ে
প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছিল,
যাদের সুফলে ওই যে নেতা,
সাদা পোশাকে ঘুরে বেড়াচ্ছে,
আর তারা আজ জেলের অন্ধকারে,
তাদের অবস্থা কি হবে?
কিংবা ওই যে ছোট্ট বোন,
যে কিছুদিন আগে “বাঁচাও, বাঁচাও”,
বলে চিৎকার করেছিল,
যার সম্মানকে, যার ইজ্জতকে,
রুটির মত ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়েছিল কয়েকজন
শৃগালের মত যুবক, তার কী হবে?
কিংবা ওই যে কয়েক লক্ষ সাদা ফাঁপা মুখ,
যারা লকডাউনের পর থেকে চাকরি হারিয়ে,
চাকরি শূন্য হয়েছে, ওদের কি হবে?
নাকি আবার একটি বছরের অপেক্ষা এবং অপেক্ষা।
মহাশূন্য থেকে মাটির পৃথিবীতে তাকালাম,
ভাবলাম কপালকুণ্ডলার মত মা এসে
বলতে পারে না –
“হে পথিক, তুমি কি পথ হারিয়েছ?”
হঠাৎ বেজে উঠলো -“বলো দুগ্গা মায় কি!!
আসছে বছর আবার হবে!!
আমি চোখ বন্ধ করে কল্পনার চোখে,
দেখতে আরম্ভ করলাম–
এক শূন্য,মহাশূন্য, নিষ্ঠুর, নির্মম, নীরবতা।
এক আশাহত বিজয়ার নিকষ কালো রুপ।